Friday, December 14, 2012

ক্ষুদ্র দ্বীপগুলো যেন বিপন্ন পৃথিবী- দৈনিক ইত্তেফাক


দোহা জলবায়ু সম্মেলন-২০১২
ক্ষুদ্র দ্বীপগুলো যেন বিপন্ন পৃথিবী
অরণ্য তাপস
প্রশান্ত মহাসাগরের দক্ষিণে অবস্থিত ছবির মতো একটি দ্বীপ পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম প্রজাতন্ত্র—নাম নাউরু। দ্বীপটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী চল্লিশ বছর বয়সি কাইরেন কেকে শোনালেন এক বিপন্ন পৃথিবীর কথা। বড় হয়ে ওঠার সে সব দিন এখনো বেশ মনে আছে তার। 

কাইরেন কেকে বলেন, 'নিয়মে বাঁধা ছিল জলবায়ু। গ্রীষ্ম, বর্ষা—সবই আসত পরপর। কখনো খরা হলেও সামলে নেয়া যেত। কিন্তু এখন? এখন কেমন যেন অবাধ্য হয়ে উঠেছে দ্বীপটা।' কেকের গভীর উত্কণ্ঠা, 'এখন সব পাল্টে গেছে। জলবায়ুর মতিগতি বোঝাই দায়। এক নাগাড়ে সাত-আট বছর ধরে চলে খরা। ঝড়ের গতিও আগের চেয়ে অনেক বেশি। উপকূল ক্ষয়ে যাচ্ছে। সমুদ্র প্রায় ঘরের দরজায়!' 

আরও একটা পরিচয় আছে কেকে-র। আটলান্টিক, প্রশান্ত এবং ভারত মহাসাগরে নাউরুসহ মোট ৪২টি ক্ষুদ্র দ্বীপ-রাষ্ট্র নিয়ে গঠিত অ্যালায়েন্স অব স্মল আইল্যান্ড স্টেটস (এওএসআইএস) নামের একটি জোটের প্রধান তিনি। জলবায়ু পরিবর্তন, বিশেষত গ্লোবাল ওয়ার্মিং নিয়ে এই ক্ষুদ্রাতি ক্ষুদ্র দ্বীপগুলোর দুশ্চিন্তা আন্তর্জাতিক মঞ্চে পেশ করার কাজ করে যাচ্ছে এই জোট। বর্তমানে ডেভিড আর গোলিয়াথের মতো একটা অসম যুদ্ধে সামিল এওএসআইএস। কাতারের রাজধানী দোহায় চলমান জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলনে হাজির বিশ্বের সব থেকে বেশি দূষণ সৃষ্টিকারী দেশগুলোও। সেই দূষণের জেরে যে গ্লোবাল ওয়ার্মিং এবং সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধি, তার প্রথম 'শিকার' নাউরুর মতো অসংখ্য ক্ষুদ্র দ্বীপ। গ্রিন হাউস গ্যাসের নিঃসরণ কমানোর জন্য বিশ্বের উন্নত দেশগুলোকে 'রাজি' করাতে তাই মরিয়া এওএসআইএস।

এই ক্ষুদ্র দ্বীপগুলোর অস্তিত্ব-সংকটের কারণ ব্যাখ্যায় কেকে নিজের দেশ নাউরুকে উপগ্রহ-চিত্রে প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্যে একখানা নুড়ির মতো বলে উল্লেখ করেন। দ্বীপটির আয়তন মাত্র ২১ বর্গকিলোমিটার, জনসংখ্যা খুব বেশি হলে ১০ হাজার। দ্বীপের উচ্চতম জায়গাটা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ২০০ ফুট উপরে। দেশের ভেতরটা আবার ছিন্নভিন্ন হয়ে গিয়েছে ফসফেট উত্তোলনের কারণে। বিজ্ঞানীদের মতে—এই শতাব্দীতে অন্তত তিন ফুট বাড়বে সমুদ্রের জলস্তর। সে কথা ভেবে শিউরে ওঠেন কেকে বলেন, 'প্রশান্ত মহাসাগরের নিচু দ্বীপগুলোর দিকে ক্রমশ এগোচ্ছে মহাসাগর।' আবহাওয়া পরিবর্তনের জেরে পাল্টে যাচ্ছে সমুদ্রের জলের চরিত্রও। তাই সম্প্রতি নাউরু দ্বীপের ওই এলাকায় কমে যাচ্ছে টুনা মাছের সংখ্যা। টান পড়ছে খাবার এবং জীবিকায়।

আক্ষরিক অর্থেই ডুবে মরার আগে তাই বাঁচার আবেদন নিয়ে দোহা সম্মেলনে হাজির কেকেরা। অংশগ্রহণকারী ১৯০টি দেশের কাছে তাঁদের আর্জি, 'তাড়াতাড়িই কিছু একটা করা হোক।' আরও সমস্যা, আর চার সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হয়ে যাচ্ছে কিয়োটো প্রোটোকলের মেয়াদ। এওএসআইএস-এর আশঙ্কা—এর পর গ্রিন হাউস গ্যাস নিঃসরণের ব্যাপারে আর কোনো বাধা-নিষেধ থাকবে না। ফলে বেপরোয়া হয়ে উঠবে উন্নত দেশগুলো।

'কিছু কিছু দেশ কিয়োটো প্রোটোকলকে দ্বিতীয় দফার জন্য এগিয়ে নিয়ে যেতে রাজি।' বললেন কেকে। কিন্তু এই প্রস্তাব এরই মধ্যে খারিজ করেছে কানাডা, রাশিয়া এবং জাপান। এতে ভীষণ হতাশ কেকে। এওএসআইএস-এর প্রার্থনা—যেন বিফলে না যায় দোহার সম্মেলন। নাউরুর মতো দ্বীপ-রাষ্ট্রের প্রাণে বাঁচার একটা কিছু ব্যবস্থা করুক শক্তিশালী দেশগুলো। এখন পর্যন্ত অবশ্য সে রাস্তায় খুব একটা আশার আলো নেই। তবু জোটবদ্ধ খুদেদের আর্জি, 'ক্ষুদ্র আমরা, তুচ্ছ নই। বাঁচতে দাও আমাদের।'

বৈশ্বিক উষ্ণতা ও পৃথিবীতে প্রাণের মহাবিলুপ্তি :: দৈনিক ইত্তেফাক


জলবায়ু
বৈশ্বিক উষ্ণতা ও পৃথিবীতে প্রাণের মহাবিলুপ্তি
কাজী জিশান হাসান
বৈশ্বিক উষ্ণতা সাধারণত সাগরের উচ্চতা ও খরা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে হুমকিস্বরূপ হিসাবে গণ্য করা হয়। কিন্তু বিজ্ঞান এখানেই থেমে থাকেনি, বিজ্ঞান উদঘাটন করেছে বৈশ্বিক উষ্ণতার আরো ভয়াবহ ও ক্ষতিকারক দিকসমূহ যেগুলো সম্বন্ধে পূর্বে সকলে ছিল অজ্ঞাত, এই অভূতপূর্ব বিষয়গুলোই পিটার ডি ওয়াই এর 'Under a green sky: Global warming, the mass extinction of the past and what they can tell us about our future (২০০৬ সালে Harper Collins কর্তৃক প্রকাশিত)' বইয়ের মূল আলোচ্য। প্রফেসর ওয়ার্ড সিয়াটলের ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান এবং পৃথিবী ও মহাজাগতিক বিজ্ঞান বিভাগে এবং নাসাতে কর্মরত আছেন। তিনি একজন অন্যতম বিজ্ঞানী যার ফসিল সংক্রান্ত ব্যাখ্যা বিজ্ঞানীদেরকে পৃথিবীর ইতিহাসে প্রাণের মহাবিলুপ্তির কারণ উদঘাটনে সহায়তা করেছে।

প্রাচীন মহাবিলুপ্তিগুলোর অন্যতম ছিল ডায়ানোসর-এর বিলুপ্তি, ত্রিশ বছর আগে বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত করেছেন যে, এটি বিশাল উল্কাখণ্ডের আঘাতের দরুন সংঘটিত, সেই মহা আবিষ্কারের পর থেকে বহু বছর পর্যন্ত বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল যে, অন্যসব বিলুপ্তির কারণও অভিন্ন। যদিও ভূতাত্ত্বিকরা এর প্রমাণ পেতে ব্যর্থ হন, সঙ্গতকারণে ডায়ানোসর-এর বিলুপ্তি ছিল অদ্বিতীয় একটি ঘটনা এবং অন্যান্য বিলুপ্তির জন্য একটি ভিন্ন ব্যাখ্যা জরুরি হয়ে পড়ে। শেষতক প্রমাণিত হয় যে বৈশ্বিক উষ্ণতায় সৃষ্ট অতিরিক্ত কার্বন ডাই অক্সাইডই এর জন্য দায়ী। দেখা যায় যে প্রচুর পরিমাণে কার্বন ডাই অক্সাইড অগ্ন্যুত্পাতের ফলে নির্গত হয়, বিশেষ করে টেক্টোনিক প্লেটের নড়াচড়ায়, যেমন ভারতীয় উপমহাদেশের সাথে ইউরোশিয়ার সংঘর্ষ (যার ফলে হিমালয়ের সৃষ্টি)।

বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে সৃষ্ট মহাবিলুপ্তির কার্যকারণগুলো ওয়ার্ড তার বইয়ে অনুসন্ধান করেছেন, পার্মিয়ান বিলুপ্তির ঘটনা তার একটি, যেটি ২৫ কোটি বছর আগে বিশ্বের ৯৫% প্রাণীর বিলুপ্তি ঘটায়। বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেন যে এই বিলুপ্তির বড় কারণ প্রচুর পরিমাণ হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস, যা ছিল গন্ধযুক্ত ও বিষাক্ত, এবং যা পচা ডিম থেকে নির্গত হয়। এই গ্যাস অক্সিজেনমুক্ত ক্যানফিল্ড সাগরে (আবিষ্কারক-এর নামে) উত্পন্ন হয়; অনেকটা বর্তমানের কৃষ্ণ সাগরের অবস্থার সাথে মেলে। ক্যানফিল্ড সাগর তৈরি হয়েছে বৈশ্বিক উষ্ণতায় অতিরিক্ত মেরু বরফ নিঃসরণের ফলে। এই অতিরিক্ত ঠাণ্ডা পানি নির্গমনের ফলে সমুদ্রের তড়িত্ প্রবাহ ( যা পানিকে গভীর থেকে গভীরতর জায়গায় প্রবাহিত করে এবং সমুদ্রকে অক্সিজেন সমৃদ্ধ রাখে) বাধাগ্রস্ত হয়। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে সাগরের মাছ ও অন্যান্য প্রাণী অল্প অক্সিজেন খুব দ্রুত নিঃশেষ করে ফেলে এবং দমবন্ধ হয়ে যায়, এছাড়া অবশিষ্ট যে অক্সিজেনহীন পানি থাকে তাতে শুধুমাত্র বেগুনি রঙের এনোরোবিক ব্যাকটেরিয়া জীবন ধারণ করতে পারে। এরা বংশবৃদ্ধি করে গোটা সাগরকে বেগুনি করে তোলে। ঐসব ব্যাকটেরিয়া ক্যানফিল্ড সাগরে বিপুল পরিমাণ হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস উত্পাদন করে, যা মাটিতে প্রবাহিত হয় এবং প্রাণীকুলকে বিষাক্ত করে তোলে। একই সাথে ওজোন স্তরের ক্ষতি করে প্রাণী জগতকে ভয়ঙ্কর অতিবেগুনি রশ্মির সম্মুখীন করে (এই গ্যাস আকাশকে সবুজ করে তোলে, যেখান থেকে এই বইয়ের শিরোনাম উদ্ভূত), বলা যায় বৈশ্বিক উষ্ণতা যে বিপুল বিলুপ্তি ঘটায় সাগর ও স্থলে- তা মহাবিপর্যয়।

কিন্তু আর কত? আমরা জানি না যে আর কতখানি মেরুবরফ গলিত হলে একটি ক্যানফিল্ড সাগর তৈরি হবে এবং আরেকটি মহাবিলুপ্তি ঘটবে। কিন্তু আমরা যা জানি তা হলো, কার্বন ডাই অক্সাইডের নির্গমনের হার হিসাব করে, যা প্রতি শতকে ১২০ পিপিএম - আমরা ধারণা করছি যে এটি ২১০০ সালে ৫০০ থেকে ৬০০ হবে, এটি প্রায় তার সমপরিমাণ যা বিগত ৪ কোটি বছর ধরে বিদ্যমান, অথবা বলা যায়, যখন মেরুসমূহে বরফ ছিল বা নামেমাত্র ছিল তখনকার সমান। (পৃষ্ঠা ১৬৪-৫)

অন্য কথায় ২১০০ সালে দুই বা তিন প্রজন্ম পর, কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ এমন হবে যার ফলে মেরু বরফের নিঃসরণ নিশ্চিত হবে, তৈরি হবে আরেকটি ক্যানফিল্ড সাগর এবং মানব জাতি হবে এক দুর্নিবার মহাবিপর্যয়ের সম্মুখীন। 

এই মহাবিপর্যয় থেকে রক্ষার একমাত্র উপায় হলো আমাদের জৈব জ্বালানি যেমন কয়লা, পেট্রোলিয়াম ও গ্যাস ব্যবহার বন্ধ করা, বদলে আগামী কয়েক দশকের মাঝেই সেগুলোর স্থলে পারমাণবিক, বায়বীয় ও সৌরশক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা, এটাই মেরু বরফ গলন এবং ক্যানফিল্ড সাগরের মাধ্যমে সম্ভাব্য মহাবিলুপ্তি এড়ানোর একমাত্র উপায়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে রাজনীতিবদগণ এবং সেই সাথে জনগণ বৈজ্ঞানিকভাবে অসচেতন, জলবায়ুর পরিবর্তন নিয়ে উদাসীন। যারা মানব সভ্যতাকে পরবর্তী শতাব্দীতে টিকিয়ে রাখতে চান তাদের উচিত বৈশ্বিক উষ্ণতার মত এই মহাবিপর্যয় রোধ এবং সমাধানে দৃপ্ত পদক্ষেপ নেয়া।

লেখক : হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও লন্ডন স্কুল অব ইকনমিকসের গ্রাজুয়েট

Thursday, December 13, 2012

পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র হলো ফিলিস্তিন স্বাধীনতা কত দূর? :: দৈনিক ইত্তেফাক


পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র হলো ফিলিস্তিন স্বাধীনতা কত দূর?
অনুষ্টুপ অনু
ফিলিস্তিন স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতির আরো এক ধাপ এগোনোর জন্য গত বৃহস্পতিবার দিনটা ইতিহাসের পাতায় ঢুকে গেল। ওই দিনটিতে অভূতপূর্ব আন্তর্জাতিক সমর্থনের সাক্ষী হয়ে থাকল জাতিসংঘের সাধারণ সভা। এবার পর্যবেক্ষক অ-সদস্য রাষ্ট্রে উন্নীত করা উচিত ফিলিস্তিনকে—এমন প্রস্তাবে সম্মতি জানিয়েছে জাতিসংঘের সাধারণ সভার সদস্যভুক্ত দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি দেশ। 

নিউ ইয়র্কে গত বৃহস্পতিবার ১৯৩টি দেশের জাতিসংঘের সাধারণ সভায় ফিলিস্তিনকে স্বতন্ত্র দেশের মর্যাদা দেয়া নিয়ে ভোটাভুটি হয়। অভাবিত সংখ্যাগরিষ্ঠতায়—১৩৮-৯ ভোটের ব্যবধানে প্রস্তাব পাষ হয়েছে ফিলিস্তিনের পক্ষে। ভোটদানে বিরত থেকেছে ৪১টি দেশ। ভোটাভুটির ফল প্রকাশ্যে আসতেই আসন্ন স্বাধীনতার সম্ভাবনায় উদ্বেল ফিলিস্তিনীয়রা পথে নেমেছে। আর স্বাভাবিকভাবেই জাতিসংঘের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ফিলিস্তিনকে সার্বভৌম রাষ্ট্রের মর্যাদা দেয়ার ব্যাপারে বরাবরই বিরোধী এই দুটি দেশের কাছে গত বৃহস্পতিবারের সিদ্ধান্ত নিশ্চিতভাবেই বড়সড় ধাক্কা হিসেবে এসেছে। জার্মানি ও ব্রিটেনের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বিরোধীতা করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।

ঘটনাচক্রে জাতিসংঘে ভোটাভুটি হয়েছে হামাস-ইসরায়েল সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির মাত্র কয়েক দিনের মাথায়। তবে পরিস্থিতি বলছে—একদিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বিরোধীতা, অন্য দিকে হামাস ও ফাতাহর মধ্যে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বড় চ্যালেঞ্জ হয়েই থাকবে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা পাওয়ার পথে। তাত্পর্যপূর্ণ ভাবে হামাস কিন্তু ভোটাভুটির ফল নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

ফিলিস্তিন ন্যাশনাল অথরিটির প্রেসিডেন্ট ও ফাতাহ গোষ্ঠীর প্রধান মাহমুদ আব্বাস তখন উপস্থিত সেখানে। ইলেকট্রনিক স্কোরবোর্ডে ভোটের ফল ঘোষণা হতেই আব্বাসের নেতৃত্বাধীন ফিলিস্তিন প্রতিনিধির সামনে তোলা হয়েছে ফিলিস্তিনের জাতীয় পতাকা। আব্বাস বলেছেন, 'জাতিসংঘের সাধারণ সভা আজ ফিলিস্তিনের বার্থ সার্টিফিকেটে সই দিল। এই মুহূর্তটা দুটি প্রতিবেশী রাষ্ট্রের মধ্যে চলে আসা দীর্ঘ দিনের সমস্যার সমাধান খোঁজার একটা শেষ সুযোগ।' এ খবর ছড়িয়ে পড়তেই ওয়েস্ট ব্যাঙ্কের রামাল্লা শহরে পথে নেমেছেন উল্লসিত ফিলিস্তিনীয়রা। হাতে ফিলিস্তিনের পতাকা, মুখে 'আল্লাহু আকবর' ধ্বনি। ঘটনা হলো—এত দিন আব্বাস গোষ্ঠীর বিরোধিতা ও সমালোচনা করা সত্ত্বেও সম্ভবত ফিলিস্তিনের সাধারণ স্বাধীনতাকামী মানুষের আবেগের কথা মাথায় রেখে জাতিসংঘের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেনি হামাস। রামাল্লার উল্লাসে সামিল হতে দেখা গিয়েছে তাদের সমর্থকদেরও। হামাস জানিয়েছে—জাতিসংঘের এই প্রস্তাবনায় তারা নাকগলানোর পক্ষপাতী নয়।

জাতিসংঘের রায় পক্ষে গেলেও ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাপ্রাপ্তির রাস্তাটা সহজ হবে না বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এ দিনের ভোটের অর্থ—১৯৬৭ সালে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে পূর্ব জেরুজালেম, গাজা স্ট্রিপ ও ওয়েস্ট ব্যাঙ্কের যে যে অংশ ইসরায়েল দখল করেছিল, তা এবার চলে আসবে ফিলিস্তিনের দখলে। সবচেয়ে বড় কথা—এবার থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধদমন আদালতের দ্বারস্থ হতে পারবে আব্বাসের ফিলিস্তিন। যুদ্ধে জিতে যে জমি দখল করে নিয়েছিল ইসরায়েল, সেই ভূখণ্ডে 'অবৈধ নির্মাণ' বা যুদ্ধাপরাধের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিন আবেদন জানাতে পারবে আন্তর্জাতিক আদালতে। কিন্তু তা সত্ত্বেও প্রকৃত স্বাধীনতা বাস্তবায়িত হতে এখনো অনেক দেরি। কারণ, তার আগে সম্ভবত শান্তি মধ্যস্থতায় যেতে হবে ইসরায়েলের সঙ্গে। ফিলিস্তিনের চিরবৈরী প্রতিবেশী ইহুদি রাষ্ট্রটি আগেই ঘোষণা করেছে—ইসরায়েল-ফিলিস্তিনের চিরন্তন সমস্যার যা সমাধান হতে পারত, জাতিসংঘের এই সিদ্ধান্ত তা শুধু দেরিই করবে। 

এই ভোটাভুটির পরই ইসরায়েল অভিযোগ তুলেছে—দুই পক্ষের মধ্যে যে মধ্যস্থতা চলছিল, তা পাশ কাটিয়ে নিজেদের স্বতন্ত্র রাষ্ট্রের মর্যাদার দাবিতে জাতিসংঘে জোরালো প্রস্তাব রেখেছিল ফিলিস্তিন। মাহমুদ আব্বাস অবশ্য জাতিসংঘে বলেছেন, 'ইসরায়েলের মোকাবিলা বা তার বৈধতা খর্ব করার লক্ষ্যে নয়, বরং ভবিষ্যতে ইসরায়েলের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা প্রশস্ত করার লক্ষ্যেই এই প্রয়াস।' এ সুযোগে অবশ্য ইসরায়েলকে আক্রমণ করতে ছাড়েননি মাহমুদ। বলেছেন, 'ইসরায়েল ফিলিস্তিনের ভূখণ্ডে ঔপনিবেশিক দখলদারি কায়েম করেছে। জাতিগত আধিপত্যকে প্রাতিষ্ঠানিকতার রূপ দিয়েছে ইসরায়েলিরা।' 

প্রত্যাশিতভাবেই জাতিসংঘের সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেছে ইসরায়েল। এই ভোটাভুটিকে 'অর্থহীন' বলে আখ্যা দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহু। আব্বাসের বক্তব্যকে তিনি নস্যাত্ করেছেন, 'নোংরা, অপমানজনক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার' বলে। নেতানিয়াহুর কথায়, 'জাতিসংঘে যে প্রস্তাবনা গৃহীত হয়েছে, তার জন্য বাস্তবে কিছু বদলাবে না। এই সিদ্ধান্তের ফলে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা তো এগোবেই না, বরং পিছিয়ে যাবে অনেকটাই।'

প্রায় একই সুরে জাতিসংঘের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্রও। হিলারি ক্লিনটন এই ভোটাভুটিকে বর্ণনা করেছেন 'দুর্ভাগ্যজনক ও বাস্তবতাবিরোধী' হিসেবে। তার কথায়, 'আমরা বরাবরই বলে এসেছি যে, একমাত্র মধ্যস্থতার মাধ্যমেই শান্তির লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন। সেই শান্তি দু্ই দেশের প্রাপ্যও। যা হওয়া উচিত, তা-ই হলো—একদিকে সার্বভৌম, স্বাধীন ফিলিস্তিন এবং অন্য দিকে ইহুদি-অধ্যুষিত গণতান্ত্রিক ইসরায়েলের শান্তিপূর্ণ ও সুরক্ষিত সহাবস্থান। কিন্তু ভোটাভুটিতে গৃহীত এই সিদ্ধান্ত তা করতে পারবে বলে আমরা মনে করি না।' 

শুধু বাইরে ইসরায়েল-আমেরিকার চড়া বিরোধতাই নয়, ঘরেও সম্ভবত যথেষ্ট বিরোধীতার মুখে পড়তে হবে মাহমুদ আব্বাসকে। ২০০৪ সালে ফিলিস্তিন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের অবিসংবাদিত নেতা ইয়াসির আরাফাতের মৃত্যুর পরে কট্টরপন্থী হামাস এবং মধ্যপন্থী ফাতাহয় বিভক্ত হয়ে পড়ে ফিলিস্তিনীয়রা। তারপর থেকে ক্রমশ শক্তি বেড়েছে হামাসের, আর দুর্বলতর হয়েছে আব্বাসের নেতৃত্বাধীন ফাতাহ। ওয়েস্ট ব্যাঙ্ক ছাড়া ইসরায়েল-ফিলিস্তিন বিতর্কিত ভূখণ্ডের প্রায় কোনো অংশই এখন আব্বাসের দখলে নেই। বরং গাজা স্ট্রিপের মতো শরণার্থী-অধ্যুষিত ঘন জনবসতিপূর্ণ ভূখণ্ডের দখল নিয়ে রেখেছে হামাস। বারবার আগ্রাসন দেখানো সত্ত্বেও গাজার দখল শেষ পর্যন্ত নিজেদের হাতে নিতে পারেনি ইসরায়েল। অতি সম্প্রতি দুই পক্ষের হিংসা বন্ধ হয়েছে আট দিন পর যুদ্ধবিরতিতে। 

ঘটনা হলো—কট্টরপন্থী হামাস যেমন ইসরায়েলের স্বাধীন রাষ্ট্রের মর্যাদাকে মান্যতা দেয় না, তেমনি তারা বিশেষ পাত্তা দেয় না 'ইসরায়েলি পুতুল' মাহমুদ আব্বাসের নেতৃত্বাধীন ফাতাহকে। অনেক ফিলিস্তিনীয় এখন বিশ্বাস করতে শুরু করেছে—ফিলিস্তিনকে প্রকৃত স্বাধীন রাষ্ট্রের মর্যাদা কেউ এনে দিতে পারলে তা হামাস-ই পারবে, ফাতাহ নয়। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা অবশ্য বলছেন—জাতিসংঘ গত বৃহস্পতিবার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা মাহমুদ আব্বাসের হারানো শক্তি বেশ কিছুটা ফিরিয়ে দেবে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের তীব্র আপত্তি সত্ত্বেও স্বাধীন রাষ্ট্রের মর্যাদা পাওয়ার পথে নিশ্চিতভাবেই অনেকটা এগিয়ে গেল ফিলিস্তিন।

দোহার দিকে তাকিয়ে বিশ্ব :: দৈনিক ইত্তেফাক


জলবায়ু সম্মেলন-২০১২
দোহার দিকে তাকিয়ে বিশ্ব
সুবোধ চন্দ্র বিশ্বাস
খুব দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে পৃথিবীর জলবায়ু। এর প্রতিক্রিয়া পড়তে শুরু করেছে প্রায় সর্বত্রই। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণ ও সমস্যা মোকাবিলায় জাতিসংঘ ধারাবাহিকভাবে আয়োজন করে আসছে বিশ্ব সম্মেলন। এরই অংশ হিসেবে এবার কাতারের রাজধানী দোহায় সম্মেলন শুরু হয়েছে। জাতিসংঘের পরিবেশ-বিষয়ক অঙ্গসংগঠন ইউনাইটেড নেশনস ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন ক্লাইমেট চেঞ্জের ১৮তম এবং এর কনফারেন্স অব পার্টির অষ্টম অধিবেশন শুরু হয়েছে গত ২৫ নভেম্বরে, চলবে ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

বিশ্বে কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্যে আয়োজিত এ অধিবেশনে বিশ্বের ২০০টি দেশের প্রায় ১৭ হাজার প্রতিনিধি যোগ দিয়েছেন। ধনী ও স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মধ্যে কার্বন নিঃসরণ নিয়ে মতবিরোধ থাকলেও প্রতিনিধিরা জলবায়ু বিষয়ে নতুন একটি সমঝোতায় পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

কনফারেন্স অব পার্টির (কপ) বর্তমান সভাপতি ও দক্ষিণ আফ্রিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইতি নাওয়ানা-মাসাবানের আনুষ্ঠানিকভাবে সভাপতির দায়িত্ব কাতারের উপপ্রধানমন্ত্রী আবদুল্লাহ বিন হামিদ আল-আতিয়ার কাছে হস্তান্তর করেছেন। এ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে অধিবেশনের সূচনা হয়।

কপের নতুন সভাপতি আতিয়া অধিবেশনের শুরুতে বলেন, 'জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পৃথিবী যে ভয়াবহ বিপর্যয়ের সম্মুখীন, সে সম্পর্কে আমরা সচেতন।' তিনি বলেন, 'আমরা আশা করি, জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা আরও সুস্পষ্ট হবে।'

গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো

কার্বন-নির্গমন কমানোর একমাত্র আইনগত চুক্তি কিয়োটো প্রোটোকলের দ্বিতীয় দফা মেয়াদবৃদ্ধির ইস্যুটিই এখন পর্যপ্ত সম্মেলনের বার্নিং ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। 

জলবায়ু পরিবর্তন-বিষয়ক সমস্যায় ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অবস্থান বেশ গুরুত্বপূর্ণ। তারা বিষয়টিকে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। কিয়োটো প্রটোকলের প্রথম পর্যায়ে যেটি আগামী ৩১ ডিসেম্বর শেষ হবে, সেটির দ্বিতীয় পর্যায়ে দায়িত্ব নেয়ার প্রস্তুতির কথা ঘোষণা করেছে ইইউ। পিছিয়ে পড়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছিল অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের দিক থেকে। কয়েক দিন আগে তারাও তাদের দায়িত্ব পালনের কথা মেনে নিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখনো অবস্থান পরিবর্তন করেনি। পিছু হটছে জাপান, রাশিয়া ও কানাডা। কিয়োটো প্রটোকলে উন্নয়নশীল বিশ্ব তথা অনুন্নত বিশ্বের কোনো দায় অর্পিত হয়নি। সেই সুযোগে বর্তমানে প্রধান দূষণকারী দেশ চীন ও ভারত প্রশমনের ক্ষেত্রে কোনো দায় নিচ্ছে না। জাপান ও রাশিয়া এ বিষয়ে তাদের অসন্তোষের কথা প্রকাশ করে কিয়োটো প্রটোকলের দ্বিতীয় পর্যায় থেকে সরে যাচ্ছে। আগামী জানুয়ারি থেকে কিয়োটো প্রোটোকলের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু হবে। কিছু দেশ না এলেও ৩২ থেকে ৩৫টি দেশ কার্বন-নির্গমন কমানোর এ চুক্তিতে থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কিয়োটো প্রোটোকলের মেয়াদবৃদ্ধি অনেকটা নিশ্চিত হয়ে গেলেও আসলে মেয়াদ কতটা বাড়বে সেটা নিয়ে নানামুখী আলোচনা হচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন চাইছে—মেয়াদ আট বছর বাড়াতে। এতে ২০২০ সালে নতুন আইনগত চুক্তি কার্যকর হওয়ার পূর্ব পর্যপ্ত তা বহাল থাকতে। গত ডারবান সম্মেলনে উন্নত দেশগুলো কিয়োটোর মেয়াদ ২০১৭ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এখন জলবায়ু আলোচনার মূল নিয়ামক ইউরোপীয় ইউনিয়ন তা পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে আট বছর করতে চাইছে। স্বল্পোন্নত দেশগুলো ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে একমত হলেও এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান একটু ভিন্ন। বাংলাদেশ চাইছে কিয়োটোর মেয়াদ অতিরিক্ত তিন বছর বাড়ানোর সঙ্গে উন্নত দেশগুলোর কার্বন-নির্গমন হরাসের প্রতিশ্রুতিও বাড়াতে হবে। উন্নত দেশগুলো ২০১৭ সাল পর্যপ্ত কিয়োটোর দ্বিতীয় মেয়াদে কার্বন নির্গমন ২০ শতাংশ হারে কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বাংলাদেশ দাবি তুলেছে ২০১৭ থেকে ২০২০ সাল পর্যপ্ত উন্নত দেশগুলোকে ২৫ শতাংশ হারে কার্বন-নির্গমন কমানোর হার ঘোষণা দিতে হবে। তা না হলে পৃথিবীর উষ্ণায়ন বন্ধ করা যাবে না। তবে ডারবানে সিদ্ধান্ত হয়েছে—২০১৭ সালের মধ্যে একটি নতুন আন্তর্জাতিক চুক্তি প্রণীত হবে এবং এটি ২০২০ সাল থেকে কার্যকর হবে। তখন থেকে দায়ভার পৃথিবীর সব দেশের ওপর বর্তাবে। তাহলে কি ২০২০ পর্যপ্ত গ্রিনহাউস গ্যাসের উত্পাদন বাড়তেই থাকবে? দোহায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের কাছে কোনো ইতিবাচক অবস্থান আশা করা যাবে? সম্ভবত না। কারণ, চটজলদি তাদের পক্ষে অবস্থান পরিবর্তন সম্ভব নয়। 

ডারবান জলবায়ু আলোচনায় কৃষি ও জলবায়ু উদ্বাস্তু ইস্যু দুটি বাদ পড়ে গিয়েছিল। দোহা সম্মেলনের আলোচনায় এ দুটি ইস্যু আবার অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। সেই সঙ্গে পানির ইস্যুটিও আলোচনায় নিয়ে আসা হয়েছে।

ইতিহাস থেকে

বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে বিশ্বের আবহাওয়া ও জলবায়ুতে যে পরিবর্তন আসছে, সে বিষয়ে একটি আন্তর্জাতিক কনভেনশন বা আইন তৈরি হয়েছিল ১৯৯২ সালে। তখনো বিজ্ঞানীদের মনে কিছুটা দ্বিধা ছিল জলবায়ু পরিবর্তনের মাত্রা নিয়ে। তবু সতর্কতামূলক নীতির অধীনে দুটি ধারা সংযোজনের মাধ্যমে বৈশ্বিক উষ্ণতা বিষয়ে কাজকর্ম শুরু হয়। এর একটি ধারা হচ্ছে আইপিসিসি ইন্টার গভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ। সুপ্রতিষ্ঠিত বৈজ্ঞানিক গবেষণার ফলাফলের ভিত্তিতে আইপিসিসির প্রতিবেদন প্রণীত হয়। পাঁচ-সাত বছর পরপর। চতুর্থ প্রতিবেদনটি প্রকাশ হয়েছে ২০০৭ সালে। মনুষ্যসৃষ্ট কয়েকটি গ্যাস উদ্গিরণের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার কারণেই যে এ ঘটনা, ওই প্রতিবেদনে তা নিশ্চিত করা হয়।

২০০৭ সালে ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপে অনুষ্ঠিত সম্মেলনের পর জলবায়ু ও আবহাওয়া পরিবর্তনের বিভিন্ন বিষয়ে দ্রুত অগ্রগতি হতে থাকে। দ্রুত শব্দটা অনেকের অপছন্দ হতে পারে। কারণ, অনুন্নত বিশ্বের কাছে মনে হচ্ছে যে, এ বিষয়ে অগ্রগতি খুবই ধীরমাত্রা। কিন্তু মনে রাখতে হবে—বৈশ্বিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চটজলদি সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। ১৯৫টি দেশ জড়িত এবং এই আলোচনায় সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয়। আইপিসিসির পরের প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হবে ২০১৪ সালে। আমাদের আশঙ্কা—পৃথিবী যে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে এগোচ্ছে তার বিস্তারিত বিবরণ পঞ্চম প্রতিবেদনে প্রকাশিত হবে।

জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে ১৯৯২ সালে প্রণীত দ্বিতীয় ধারাটি রাজনৈতিক। ইউএনএফসিসিসি এই ধারাটির বাহক। এর অধীনে আবার প্রথমে দুই ধরনের আলোচনা শুরু হয়। একটি হচ্ছে মিটিগেশন বা প্রশমন অর্থাত্ যে কারণে বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়ছে, তা নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি। অপরটি হচ্ছে অভিযোজন বা এডাপ্টেশন। অর্থাত্ যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হবে, তা মোকাবিলার পদ্ধতি।

প্রথমে নজর দেওয়া হয় মিটিগেশনের দিকে। এ উদ্যোগে ১৯৯৭ সালে প্রণীত হয় কিয়োটো প্রটোকল। ওই প্রটোকলের মধ্য দিয়ে উন্নত বিশ্বের ওপর দায়িত্ব বর্তায় গ্রিনহাউস গ্যাস কমানোর। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পিছিয়ে যায় তাদের দায়িত্ব থেকে। তারা কিয়োটো প্রটোকলে অংশ নেয়নি। আরও কয়েকটি উন্নত দেশ গড়িমসি শুরু করে।

তবে ২০০৭ সালে আইপিসিসি প্রতিবেদন প্রকাশের পর জলবায়ু পরিবর্তন আলোচনায় নতুন জোয়ার আসে। এই ধারাতে ২০০৯ সালে ডেনমার্কের কোপেনহেগেন, ২০১০ সালে মেক্সিকোর কানকুন, ২০১১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে বৈশ্বিক পর্যায়ে সম্মেলন হয়েছে। এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে ২০১২ সালের সম্মেলন, কাতারের রাজধানী দোহায়।

সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য ও সুশাসন :: দৈনিক ইত্তেফাক


সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য ও সুশাসন
সম্প্রতি ঢাকায় একটি আঞ্চলিক (দক্ষিণ, দক্ষিণ-পশ্চিম, উত্তর এবং মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর) সম্মেলন সমাপ্ত হইয়াছে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য (এমডিজি) অর্জনের সফলতা ও ব্যর্থতা নিয়া। এই সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল অর্জিত সাফল্য ব্যাখ্যার পাশাপাশি ব্যর্থতাগুলির পর্যালোচনা করা এবং ব্যর্থতার পেছনের কারণগুলিকে চিহ্নিত করিয়া তাহা সমাধানে করণীয় নির্ধারণ করা। সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে সফলতা ও ব্যর্থতার অভিজ্ঞতা একেক দেশের ক্ষেত্রে একেক রকম হইবে তাহাই স্বাভাবিক। কারণ প্রত্যেকটা দেশ তাহার নিজস্ব সীমাবদ্ধতার মধ্যে সীমিত সম্পদ দিয়া ঐ লক্ষ্যসমূহ পূরণের চেষ্টা করিতেছে। তবে বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতার মধ্য হইতে কিছু সমস্যা বাহির হইয়াছে যাহা মোটামুটিভাবে বেশিরভাগ উন্নয়নশীল দেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তাহার উল্লেখযোগ্য একটি হইলো সুশাসনের অভাব। ফলে ২০১৫ সালের পর যখন সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার দ্বিতীয় পর্যায়ের ঘোষণা আসিবে বলিয়া তখন যেন তাহার মধ্যে সুশাসনের উপর গুরুত্ব আরোপ করিয়া দিকনির্দেশনা আসে সেই ব্যাপারে এই সম্মেলনে জোর দেওয়া হয়।

সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যসমূহের প্রথমটি ছিল দারিদ্র্য ২০১৫ সালের মধ্যে অর্ধেকে নামাইয়া নিয়া আসা। বাংলাদেশ এই ক্ষেত্রে অনেকটাই আগাইয়া। ২০১০ সালের জরিপে দারিদ্র্য ৩১.৫ শতাংশ নামিয়া আসিবে প্রমাণ পাওয়া গিয়াছে। অতিদারিদ্র্যের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য উন্নতি লক্ষ্য করা গিয়াছে। তবে এই উন্নতি ধরিয়া রাখিতে হইলে অর্থাত্ দারিদ্র্য ক্রমাগত কমাইয়া আনিতে হইলে আমাদেরকে সুশাসনের উপর গুরুত্ব আরোপ করিতে হইবে। দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য সরকারি সম্পদের ব্যবহার করার ক্ষেত্রে দক্ষতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য জলবায়ু তহবিলের টাকার সঠিক ব্যবহার অত্যন্ত জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব হইতে উপকূলীয় এলাকাগুলিতে নূতন করিয়া জন্ম লইতেছে দারিদ্র্য । ফলে একদিকে দারিদ্র্য কমিলেও অন্যদিকে প্রকৃতির বৈরি প্রভাবে দারিদ্র্য বাড়িলে লক্ষ্যে পৌঁছা খুবই কঠিন হইবে। ফলে দারিদ্য বিমোচনের নিমিত্ত যত সম্পদ বরাদ্দ দেওয়া হইবে তাহার সঠিক ব্যবহার হইলে দারিদ্র্য ক্রমাগত কমিতেই থাকিবে। কিন্তু দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য দেশি-বিদেশি সম্পদ গরিব জনসাধারণের স্বার্থে ব্যবহার হইবে কিনা তাহা নির্ভর করিবে সুশাসনের উপর।

সুশাসন হইলো একটি দেশের সরকার ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলি কি প্রক্রিয়ায় নীতি নির্ধারণ করে এবং কিভাবে সরকারি সম্পদের সদ্ব্যবহার করিয়া জনকল্যাণ নিশ্চিত করে তাহার সমন্বিত রূপ। যখন সুশাসন থাকে না তখন সরকারি সম্পদের অপচয়ের পাশাপাশি দেশের স্বার্থ পরিপন্থি নীতি নির্ধারণের প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। সুশাসনের অভাব ঘটিলে কোন একটা দেশের ক্রমবর্ধমান প্রাইভেট খাতের জন্য যে সহযোগিতার দরকার হয় তাহার অভাব থাকে। মনে রাখিতে হইবে প্রাইভেট খাত কর্মসংস্থানের সিংহভাগ করিয়া থাকে। এই খাতের প্রয়োজনীয় প্রবৃদ্ধি না হইলে অর্থসংস্থান কমিয়া গিয়া বেকারত্ব বাড়িতে থাকিবে। আর বেকারত্ব বাড়া মানে দারিদ্র্য বাড়িয়া যাওয়া। ফলে সুশাসন থাকিলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতি ঘটাইয়া সরকারি সম্পদ যেমন দারিদ্র্য বিমোচনে ভূমিকা রাখিবে, তেমনিভাবে বেসরকারি খাতে কর্মসংস্থান বাড়িবে, অন্যদিকে সরকারি পর্যায়ে সুশাসন থাকিলে বেসরকারি পর্যায়েও সুশাসন আসিবে। দারিদ্র্য বিমোচনের জন্যে বেসরকারি পর্যায়েও সুশাসন দরকার। আজকে যে শ্রমিকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হইলো, সেই শ্রমিক উত্পাদনে অংশগ্রহণে নির্যাতনের শিকার হইতেছে কিনা তাহা দারিদ্র্য বিমোচনে প্রভাব ফেলিবে।

তবে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যসমূহ নির্ধারণের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র সুশাসন নয়, আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অবহেলিত রহিয়া গিয়াছে। যেমন-জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা, সামষ্টিক অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা, কাঠামোগত পরিবর্তন, উত্পাদনশীলতা বৃদ্ধি, বৈশ্বিক পর্যায়ে দামের অস্থিতিশীলতা, বৈশ্বিক মন্দা ইত্যাদি বিষয় ঐ লক্ষ্যে সরাসরিভাবে আসেনি। তাহার পাশাপাশি লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য উন্নত দেশগুলির যে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা ছিল তাহাও পুরোপুরি পাওয়া যায় নাই। ফলে এই সীমাবদ্ধতাগুলি বিবেচনায় নিয়া ২০১৫ পরবর্তী উন্নয়ন লক্ষ্যসমূহ স্থির করা হইবে তাহাই প্রত্যাশিত।

Wednesday, November 07, 2012

33rd BCS Preliminary

Q1.
Noureen will discuss the issue with Nasir ___ phone
over
Q2.
Some writer sink __ oblivion in course of time
into
Q3.
"Pass away" means
die
Q4.
Pick the word that is synonymous with 'authoritarian'
autocratic
Q5.
The word "permissive" implies
liberal
Q6.
Subject-verb agreement' refers to
number and person
Q7.
The error in the sentence, ‘One of the recommendation made by the committee was accepted by the authorities’ is –
recommendation
Q8.
Each of the sons followed __ father's trade
his
Q9.
‘The French’ refers to –
the French people
Q10.
If a person cannot stop taking drugs, he is –
addicted to them
Q11.
. The word ‘officialese’ means –
language used in offices
Q12.
‘Succumb’ means – 
submit
Q13.
We look forward ____ a response from you.
to receiving
Q14.
If a part of a speech or writing breaks the theme, it is called 
digression
Q15.
The expression ‘take into account’ means
consider
Q16.
জন্ডিসে আক্রান্ত হয় -
যকৃত
Q17.
কোনটি বিদ্যুৎপরিবাহী নয় ?
রাবার
Q18.
কোনটি নবায়ন যোগ্য শক্তির উৎস ?
সূর্য রশ্মি
Q19.
ইন্টারনেট চালুর বছর -
১৯৬৯
Q20.
MKS পদ্ধতিতে ভরের একক -
কিলোগ্রাম
Q21.
কোনটিকে চুম্বকে পরিণত করা যায় ?
ইস্পাত
Q22.
অ্যালটিমিটার (Altimeter)কি ?
উচ্চতাপরিমাপকযন্ত্র
Q23.
কোনটি মৌলিক পদার্থ ?
লোহা
Q24.
স্টেইনলেস স্টীলের অন্যতম উপাদান -
ক্রোমিয়াম
Q25.
সর্বাপেক্ষা হালকা গ্যাস -
হাইড্রোজেন
Q26.
ভারী পানির রাসায়নিক সংকেত -
D2O
Q27.
লোহাকে গ্যাভানাইজিং করতে ব্যবহৃত হয় -
দস্তা
Q28.
সংকেত ধাতু পিতলের উপাদান -
তামাওদস্তা
Q29.
কোনটিসিমেন্টতৈরীরঅন্যতমকাচাঁমাল ?  
জিপসাম
Q30.
বিগব্যাঙতত্ত্বেরপ্রবক্তা -
জি.ল্যামেটার
Q31.
মহাজাগতিক রশ্মির আবিষ্কারক -
হেস
Q32.
ইউরিগ্যাগারিনমহাশূন্যেযান -
১৯৬১সালে
Q33.
গ্রীনিচমানমন্দিরঅবস্থিত -
যুক্তরাজ্যে
Q34.
তিন সদস্যেরএকটি   বিতর্কদলের সদস্যদেরগড়বয়স২৪বছর।যদি কোনো সদস্যের বয়সই২১বছরের নিচে না হয় তবে তাদের কোনএক জনের সর্বোচ্চ বয়স কত হতেপারে ?
৩০বছর
Q35.
একটিসমকোণীত্রিভুজেরলম্বভূমিঅপেক্ষা২সে:মি:ছোট;কিন্তুঅতিভুজ২সে:মি: বড়।অতিভুজেরদৈর্ঘ্যকত ?
১০সে:মি:
Q36.
একটিসাবানেরআকার৫সে:মি:× ৪সে:মি:× ১.৫সে:মি: হলে৫৫সে:মি: দৈর্ঘ্য, ৪৮সে:মি:প্রস্থএবং৩০সে:মি: উচ্চতাবিশিষ্টএকটিবাক্সেরমধ্যেকতটিসাবানরাখাযাবে ?
২৬৪০টি
Q37.
যদিসেট A = {5,15,20,30} এবং B = {3,5,15,18,20} হয়তবেনীচেরকোনটি A ∩ B নির্দেশকরবে ?
{5, 15, 20}
Q38.
১,১,২,৩,৫,৮,১৩,২১,........ ধারার১০মপদটিকত ?
৫৫
Q39.
4x+4x+4x+4x  এরমাননিচেরকোনটি ?
22x+2
Q40.
৫জনতাঁতশ্রমিক৫দিনে৫টিকাপড়বুনতেপারে।একইধরনের৭টিকাপড়বুনতে৭জনশ্রমিকেরকতদিনলাগবে ?
৫দিন
Q41.
  1. 3x-8 = 32 হলে x এরমানকত ?
2
Q42.
একটিত্রিভুজেরদু’টিকোণেরপরিমাণ৩৫° ও৫৫° ।   ত্রিভুজটি কোন ধরনের ?           
সমকোণী
Q43.
(x-y, 3) = ( 0, x+2y) হলে (x,y) = কত ?
(-1,-1)
Q44.
একটি আয়তকার ঘরের প্রস্থ তার দৈর্ঘ্যর ২/৩অংশ।ঘরটির পরিসীমা ৪০ মিটার হলে তার ক্ষেত্রফল কত ?
৯৬বর্গমিটার
Q45.
৩সে:মি:, ৪সে:মি: ও৫সে:মি: বাহু বিশিষ্ট তিনটি ঘনক গলিয়ে নূতন একটি ঘনক তৈরি করাহল।নূতন ঘনকের বাহুর দৈর্ঘ্য কত হবে ?
৬সে:মি:
Q46.
একটিরম্বসেরকর্ণদ্বয়েরদৈর্ঘ্য৮সে:মি: ও৯সে:মি: ।এইরম্বসেরক্ষেত্রফলেরসমানক্ষেত্রবিশিষ্টবর্গক্ষেত্রেরপরিসীমাকত ??
২৪সে:মি:
Q47.
চর্যাপদ কোন ছন্দে লেখা?
মাত্রাবৃত্ত
Q48.
কবিওয়ালা ও শায়েরের উদ্ভব ঘটে কখন?
আঠারো শতকের শেষার্ধে ও উনিশ শতকের প্রথমার্ধে
Q49.
কবি গানের প্রথম কবি কে?      
Q50.
কেন পান্থ  ক্ষান্ত  হও হেরি  দীর্ঘ  পথ?- কার  লেখা?
ঈশ্বরচন্দ্রগুপ্ত
Q51.
Pick appropriate preposition for the following sentence:- Noureen will discuss the issue with nasir— Phone
over
Q52.
Put appropriate preposition for the sentence below:- Some writers skin—oblivion in course of time.
into
Q53.
'Call to mind' means—
remember
Q54.
Each of the sons followed— father's trade.
his
Q55.
Choose the best translation of 'কর্তৃপক্ষ তাকে তিরস্কার করলো' from the allternative below—
The authorities took him to task
Q56.
"Such claim needs to be tested empirically" suggests that—
The test should be based on expeirience
Q57.
The idiom "put up with" means—
tolerate
Q58.
In many ways, riding a bicycle is similar to -
driving a car
Q59.
কোন চরণটি সঠিক?
ধন ধানে পুষ্পে ভরা
Q60.
কোন বানানটি শুদ্ধ নয়?
উর্দ্ধ
Q61.
‘গৃহী’ শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ—
সন্ন্যাসী
Q62.
Excise duty-র পরিভাষা কোনটি?
আবগারি কর
Q63.
কোন বাক্যটি শুদ্ধ ?
দরিদ্রতা আমাদের প্রধান সমস্য
Q64.
‘তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা সখিনা বিবির কপাল ভাঙল।’ —এটি কোন বাক্য?
মিশ্র বা জটিল
Q65.
কোনটি ‘অগ্নি‘র সমার্থক শব্দ নয়?
প্রজ্জলিত
Q66.
কোনটি সঠিক বানান ?
নিশীথিনী
Q67.
কোনটি ‘কোলন’?
:
Q68.
বাংলা সাহিত্যের অন্যতম বিশিষ্ট পত্রিকা ‘কল্লোল’ কত সালে প্রকাশিত হয়?
১৯২৩ সালে
Q69.
কোন গ্রন্থটি সুকান্ত ভট্টচার্য কর্তৃক রচিত?
হরতাল
Q70.
‘ঢাকের কাঠি’ বাগধারার অর্থ কি?
মোসাহেব
Q71.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘বিষবৃক্ষ’ উপন্যাসের চরিত্র কোনটি?
কুন্দনন্দিনী
Q72.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
পিপীলিকা
Q73.
গীতাঞ্জলির ইংরেজি অনুবাদ সম্পাদনা করেছেন—
ডবলিউ বি. ইয়েটস
Q74.
"The Origin and Development of Bengali Language" গ্রন্থটি রচনা করেছেন—
ড. সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায়
Q75.
কোনটি এন্টিবায়োটিক?
পেনিসিলিন
Q76.
কোন ধাতু স্বাভাবিক তাপমাত্রায় তরল থাকে?
পারদ
Q77.
বাংলাদেশের সংবিধানে এখন পর্যন্ত কতটি সংশোধন আনা হয়েছে?
১৫
Q78.
পূর্বাশা দ্বীপের অপর নাম কি?
দক্ষিণ তালপট্টি
Q79.
মুজিবনগর কোন জেলায় অবস্থিত?
মেহেরপুর
Q80.
বাংলাদেশের সেন্টমার্টিন দ্বীপ কোন জেলায়?
কক্সবাজার
Q81.
বাংলাদেশে সর্বাধিক বৈদিশক মুদ্রা অর্জনকারী বিষয় কি?
রেডিমেট গার্মেন্টস
Q82.
শালবন বিহার কোথায়?
কুমিল্লার ময়নামতি পাহারের পাশে
Q83.
‘সাবাস বাংলাদেশ’ ভাস্কর্যটি কোথায় অবস্থিত?
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে
Q84.
এশিয়া কাপ ক্রিকেট, ২০১২ কোন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়?
শেরে বাংলা  জাতীয় স্টেডিয়াম
Q85.
বাংলদেশের জাতীয় কবে?
২৬ মার্চ
Q86.
শ্রীলঙ্কার মুদ্রার নাম কি?
রূপী
Q87.
সার্ক-এর সদস্য দেশ কয়টি?
৮
Q88.
বাংলাদেশের প্রথম প্রধান সেনাপতি কে ছিলেন?
জেঃ আতাউল গনি উসমানি
Q89.
বাংলাদেশের রাজধানী কোথায়?
ঢাকা
Q90.
পৃথিবীর বৃহত্তম বিমান বন্দর কোনটি?
জেদ্দা
Q91.
পৃথিবীর গভীরতম স্থান কোন মহাসাগরে?
উত্তর মহাসাগরে
Q92.
পৃথিবীর গভীরতম হ্রদ কোনটি?
বৈকাল
Q93.
২০১৪ সালে বিশ্বকাপ ফুটবল কোথায় অনুষ্ঠিত হবে?
ব্রাজিল
Q94.
শিল্পী জয়নুল আবেদীনের সংগ্রহশালাটি কোথায়?
ময়মনসিংহে
Q95.
বাংলাদেশের কোন ছবি সম্প্রতি ‘কোলকাতা ফিলম ফেস্টিভাল’ পুরস্কার লাভ করে?
গেরিলা
Q96.
বাংলাদেশের আপিল বিভাগের মোট বিচারক কতজন?
১১

Q97.

Q98.
Q99.
Q100.