Monday, January 14, 2013

জাতির উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী - প্রথম আলো

বর্তমান সরকার মেয়াদের শেষ বছরে এসেছে। এ সময়ে সরকার কী করতে পেরেছে বা পারেনি, তার মূল্যায়ন জরুরি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর সরকারের চার বছর পূর্তি উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে সরকারের নানা কর্মকাণ্ড ও সাফল্য তুলে ধরেছেন। একই সঙ্গে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ভবিষ্যতেও তাঁর সরকারকে ক্ষমতায় রাখার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। বছর খানেক বাদে যে নির্বাচন, তাকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী এ ধরনের বক্তব্য দেবেন, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু নির্বাচনকালীন সরকারের কাঠামো নিয়ে জনগণের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে, সে ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রত্যাশিত ছিল। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণটি শুধু সরকারের সাফল্যের বয়ানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল; ব্যর্থতার দিকটি স্বীকার করে ভবিষ্যতে তা দূর করার প্রত্যয় থাকলে ভাষণটি পূর্ণতা পেত।
সংবিধানে এখন তত্ত্বাবধায়ক সরকার বলে কিছু নেই। অন্যদিকে প্রধান বিরোধী দল বলছে, এ ধরনের সরকার ছাড়া তারা নির্বাচনে যাবে না। নির্বাচন করতে না দেওয়ার ঘোষণাও এসেছে তাদের তরফে। এই পরিস্থিতিতে জনগণ সংঘাত ও সহিংসতার শঙ্কায় ভীত। এ ব্যাপারে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে একটি সমঝোতা হোক, সেটাই তাঁদের চাওয়া। আমরা আশা করেছিলাম, এ ধরনের একটি উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারের অবস্থান, ভাবনা বা সমঝোতার ক্ষেত্রে কী করা যায়, সে ব্যাপারে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেবেন। কিন্তু তিনি প্রসঙ্গটি এড়িয়ে গেছেন। ফলে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ জনগণকে কোনো স্বস্তির বার্তা দিতে পারেনি।
আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ যে সামনের দিকে এগিয়ে চলছে, তা সবাই মানছেন। বিভিন্ন সামাজিক সূচকে বাংলাদেশ পাশের অনেক দেশের তুলনায় বেশ অগ্রগতি অর্জন করেছে। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে দেশ যেভাবে এগোচ্ছে, তাতে সামনে উজ্জ্বল ভবিষ্যতেরই ইঙ্গিত রয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবেও এ ধরনের সম্ভাবনার কথা বলা হচ্ছে। এই সাফল্যের কৃতিত্ব সরকার নিশ্চয়ই নিতে পারে। তবে একই সঙ্গে এটাও মানতে হবে যে ধারাবাহিকতা ছাড়া হঠাৎ এই উন্নয়ন হয়নি, ফলে এ ক্ষেত্রে একক কৃতিত্ব দাবি করার সুযোগ নেই। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, দুর্নীতি, সুশাসনের অভাব, সন্ত্রাস ও দলীয়করণ—এসব যেভাবে শিকড় গেড়েছে দেশটিতে, তার কিছুই উপড়ানো যায়নি। বর্তমান সরকার গত চার বছরে এমন কিছু দেখাতে পারেনি, যাতে এসব দূর করার ক্ষেত্রে তাদের আন্তরিকতার প্রমাণ পাওয়া যাবে।
প্রধানমন্ত্রী তথ্য ও পরিসংখ্যান দিয়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁর সরকারের সাফল্যের নানা দিক তুলে ধরেছেন। জনগণ নিশ্চয়ই সরকারের এই সাফল্যের দিকগুলো বিবেচনায় নিয়ে সরকারের মূল্যায়ন করবেন। তবে প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে নির্বাচনী অঙ্গীকার প্রসঙ্গে অধিকাংশ লক্ষ্যই পূরণ হয়েছে বলে যে দাবি করেছেন, তা কতটুকু বাস্তবসম্মত, তা বিচার-বিবেচনার দাবি রাখে। তিনি হল-মার্ক ও ডেসটিনির দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের ভূমিকাকে দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান হিসেবে তুলে ধরতে চাইলেও পদ্মা সেতু প্রকল্পের বিষয়টি মুখে আনেননি। সন্ত্রাস, গুম বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড—এসব দূর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েও সরকার তা বন্ধ করেনি বা করতে পারেনি। ঠেকানো যাচ্ছে না বেপরোয়া ছাত্রলীগকে। প্রধানমন্ত্রী শেয়ারবাজার চাঙা করতে নানা উদ্যোগের কথা বলেছেন, কিন্তু শেয়ার কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নিয়েছেন, সে ব্যাপারে নিশ্চুপ। জনগণ এই বিষয়গুলো নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর অবস্থান জানতে চেয়েছিল। শুধু সরকারের মাহাত্ম্য প্রচারে ভরপুর ভাষণটি সে কারণেই পূর্ণতা পায়নি।

রাজনীতির অঙ্গনে অস্থিরতার আশঙ্কা :: মুক্তধারা :: কালের কণ্ঠ

রাজনীতির অঙ্গনে অস্থিরতার আশঙ্কাশুভ রহমান
দেশ ক্রান্তিলগ্নে। দ্রুত সময় উবে যাচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মহাজোট সরকারের চার বছর পূর্তিতে স্বাভাবিকভাবে সব ক্ষেত্রে তাঁর সাফল্যের বয়ান করেছেন। প্রচলিত রীতি সেটাই। তবে এতে সময়ের চাহিদা পূরণ হলো কি না, বিশ্লেষকদের মতে, সেটা ভেবে দেখার বিষয়। অনেকেই বলছেন, সময় আরো বেশি কিছু দাবি করছে। প্রধানমন্ত্রীর যেমন এটা নির্বাচনী বছর, ক্ষমতার ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য যেমন তিনি প্রিয় দেশবাসীর কাছে সুযোগ প্রার্থনা করেছেন; এর বিপরীতে ক্ষমতাপ্রত্যাশী প্রধান বিরোধী দল ও তার ১৮ দলীয় জোটের জন্য এটাই মরিয়া হয়ে শেষ চেষ্টা চালানোর বছর। এ দুই বিপরীতমুখী চাহিদার মধ্যে একটা সমীকরণ অবশ্যই দেশের গণতন্ত্র রক্ষার জন্য অপরিহার্য।
এর মধ্যেই নিহিত রয়েছে দুই পক্ষের অগ্নিপরীক্ষা, দেশপ্রেম এবং জনগণের প্রতি সর্বোচ্চ দায়িত্ববোধের। সাধারণ গণমানুষ কখনোই চাইবে না রক্তপাত-সংঘাতের মধ্য দিয়ে কোনো নিষ্পত্তি হোক। সাধারণ মানুষ শান্তিই চায়। প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে বিরোধী দলের প্রতি সংঘাতের পথ পরিহার করার আহ্বান জানিয়ে প্রকারান্তরে জনগণের প্রত্যাশাকেই সমুন্নত রেখেছেন। জনগণ দেখতে চায়, একই উপলব্ধিতে আসছে বিরোধী জোটও। এটা অনস্বীকার্য যে দুই পক্ষেরই টানাপড়েন আছে বহিঃশক্তির। তবে অতীতের সব সংকটের মতো এবারও এ সংকটে জয়ী হবে চূড়ান্তভাবে জনগণই। গণতান্ত্রিক সংগ্রামের সর্বস্তরে চূড়ান্ত ও নির্ধারক শক্তি হচ্ছে জনগণ। জনগণের উদ্যমই জাতীয় ঐক্যকে সম্ভব করে তোলে।
জনগণকে বিপথগামী করার, ভিন্ন পথে চালিত করার কোনো কর্মসূচি চূড়ান্তভাবে সফল হতে পারে না। ইতিমধ্যে একাধিকবারই প্রমাণিত হয়েছে, জ্বালাও-পোড়াও, ভাঙচুরের অবরোধ-হরতাল জনগণ প্রত্যাখ্যানই করে। বিপরীতে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদই জনগণ সমর্থন করে।
এখন পর্যন্ত সাধারণ মানুষই সবচেয়ে অসংগঠিত রয়ে গেছে। কিন্তু অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে তারা চূড়ান্তভাবে এ উপলব্ধিতেই আসতে বাধ্য হবে যে তাদের জোট বাঁধা ও সংগঠিতভাবে মাথা তুলে দাঁড়ানো ছাড়া কিছুতেই জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হবে না। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন কোন ধরনের সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হবে, তা চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করতে হলে জাতীয় ঐক্যের (ন্যাশনাল কনসেনশাস) বিকল্প নেই।
জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করার বিবরণ দিয়েছেন, মহাজোট সরকারের আমলে কারচুপিহীন নির্বাচন অনুষ্ঠানের অনেক দৃষ্টান্ত তুলে ধরেছেন; তার পরও কিন্তু শক্তিশালী নির্বাচন কমিশনকেই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য বিরোধী দলকে যথেষ্ট বলে মানানো সম্ভব হবে না। সংলাপ ছাড়া, জাতীয় ঐক্য ও সমঝোতা ছাড়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাঠামো ও ধরন সম্পর্কে কোনো গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব হবে না। এটাই বর্তমানের সুকঠিন বাস্তবতা। প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রের উন্নয়ন ও জনকল্যাণের যে বিবরণ তুলে ধরেছেন, সে ব্যাপারে দ্বিমতের কোনো অবকাশ নেই। কিন্তু সেই সঙ্গে এটাও মানতে হবে, যেকোনো মূল্যে সেই উন্নয়ন ও জনকল্যাণ ধরে রাখতে হবে এবং সে জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, সংগঠিত জনসমর্থন ও সুদৃঢ় জাতীয় ঐক্য অপরিহার্য।
আজ এই ক্রান্তিলগ্নে অত্যন্ত ধীরস্থিরভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, কোনো রকম 'ইগো' দ্বারা চালিত হলে চলবে না; ক্ষমতার রাজনীতি, ক্ষমতার মোহ থেকে মুক্ত হয়ে সর্বোচ্চ জনকল্যাণের স্বার্থে ও সর্বোচ্চ দেশপ্রেমের পরিচয় দিয়ে সর্বতোভাবে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অক্ষুণ্ন রাখতে হবে; অটুট রাখতে হবে জনগণের ঐক্য ও আস্থা এবং সর্বতোভাবে গ্রহণযোগ্য অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনেই নির্বাচন করতে হবে। সে নির্বাচনই হবে অর্থবহ, গণতান্ত্রিক ও সর্বতোভাবে গ্রহণযোগ্য।
তার আগে শুধু পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি, সংঘাত ও সহিংসতার প্রসার দেশের কষ্টার্জিত স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকে ক্রমাগত ধ্বংসের মুখেই নিয়ে যাবে।
আজ সময় এসেছে সংখ্যাগরিষ্ঠ সাধারণ মানুষের মুখর ও সোচ্চার হওয়ার; কোনোভাবেই কোনো সংকীর্ণ দলীয় বা জোট বা ব্যক্তিস্বার্থ নয়, দেশ ও জনগণের সর্বোচ্চ স্বার্থই সুপ্রতিষ্ঠিত করার পক্ষে।
একাত্তরে দেশের ধুলো-কাদামাখা নগ্নপদ-নগ্নগাত্র অগণিত কৃষক, শ্রমজীবী সাধারণ নারী-পুরুষের প্রায় নিরস্ত্রভাবে শত্রুর বীরত্বপূর্ণ মোকাবিলা করাই নিশ্চিত করে দেয় মুক্তিযুদ্ধের বিজয়কে। সাধারণ মানুষের সেই ভূমিকাই সব জাতীয় সংকট নিরসনের জন্য অপরিহার্য।
ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, ক্ষুদ্র, দলীয়, ব্যক্তি বা গোষ্ঠীস্বার্থ নিয়ে বিরোধ-বিসংবাদে দীর্ণ সব সমাজেই একটা পর্যায়ে এমন একটা চরম উপলব্ধির মুহূর্ত আসে, যখন চিরকাল নিষ্পেষিত, নিপীড়িত, উপেক্ষিত মানুষই সবেগে ঐক্যবদ্ধভাবে মাথা তুলে দাঁড়ায় এবং নিঃস্বার্থভাবে প্রতিষ্ঠা করে চিরন্তন সত্যকে। এ দেশের স্বাধীনতার জন্য রক্তদান সত্য বলেই একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের, মানবতাবিরোধী অপরাধকারীদের বিচার ও শাস্তি হবে অনিবার্য।
এ দেশে, এ সমাজে সত্য একাত্তরের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ। সত্য ত্রিশ লাখ শহীদের রক্ত ও দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা। সত্য স্বৈরশাসন উৎখাত করে নব্বইয়ে সুপ্রতিষ্ঠিত সংসদীয় গণতন্ত্র। নিঃশেষে প্রাণ বিসর্জন দিয়ে সমাজের সাধারণ মানুষই এসব সত্যের প্রতিষ্ঠাতা। তারা অক্ষয়, অজর, অমর। তাদের ভৈরব উত্থানের মধ্য দিয়েই হবে সত্যের অভিষেক। এ সমাজে শোষণ-বঞ্চনা আছে, দুর্বৃত্তায়ন আছে, সম্পদের কেন্দ্রীভবন ও নিঃস্বায়ন আছে; গণশক্তির উত্থান ছাড়া এসবের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি, সত্যের প্রতিষ্ঠা হতে পারে না। নব্বইয়ে ছাত্র-জনতার নির্ধারক শক্তি হয়ে আত্মপ্রকাশই ঐতিহাসিক তিন জোটের রূপরেখা তথা সংসদীয় গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত করে স্বৈরতন্ত্রের কবর রচনা নিশ্চিত করেছিল। জনগণ নির্ধারক শক্তি হলেই মাত্র সমাজটা যুদ্ধাপরাধসহ সব রকম অপরাধ ও দুর্নীতিমুক্ত হওয়ার নিশ্চয়তা সৃষ্টি হতে পারে।
তখনই মাত্র সমস্ত মিথ্যাচার ধ্বংসের শক্তি, নাশকতার শক্তি, বিনাশের শক্তি পরাভূত হবে চিরতরে। সৃষ্টির শক্তি, দেশ গড়ার শক্তি, জনগণের শক্তিরই হবে চূড়ান্ত বিজয়।

সরকারি চাকরির মেয়াদ ও আবেদনের বয়সসীমা প্রসঙ্গে :: উপ-সম্পাদকীয় :: কালের কণ্ঠ

সরকারি চাকরির মেয়াদ ও আবেদনের বয়সসীমা প্রসঙ্গেমহসীন হাবিব
চারদিকে এত করপোরেট হাউস, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বিদেশি সংস্থার চাকরিতে লোভনীয় বেতন-ভাতার অফার সত্ত্বেও বাংলাদেশে এখনো সরকারি চাকরির প্রতিই ঝোঁক সর্বাধিক। এর প্রথম ও প্রধান কারণ দীর্ঘকাল চাকরির নিশ্চয়তা, আমৃত্যু অবসরভাতা প্রাপ্তি ও নিয়মিত পদোন্নতি লাভ (যদিও রাজনৈতিক কারণে এর ব্যত্যয় ঘটে থাকে। সে অন্য আলোচনা)। ফিসফিস করে বলে রাখি, এর বাইরেও অনেকের কাছে সরকারি চাকরি লোভনীয় হওয়ার বেশ কয়েকটি কারণ আছে। ভালো কথা বলতে গিয়ে সেসব প্রসঙ্গ আর টেনে আনার দরকার নেই।
এই লোভনীয় সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা ও অবসরকালীন সময় কত হওয়া উচিত, তা নিয়ে একটি বিতর্ক আছে। জানা গেছে, মন্ত্রিপরিষদের এক বৈঠকে এ বিতর্কে খোদ প্রধানমন্ত্রী দ্বিধান্বিত হয়েছেন। যদিও এ বিষয়ে সঠিক যুক্তির দিকে তাকিয়ে ভোট দিলে কোনো বিতর্ক থাকার কথা নয়। আর সে যুক্তিটাই একটু আলোচনা করা এখন জরুরি হয়ে পড়েছে। কারণ বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও পাস করে বের হওয়া বেকার সম্প্রদায় বর্তমানে আন্দোলন করছে সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা ৩০ থেকে বাড়িয়ে ৩২ বছর করার দাবিতে।
বাংলাদেশের পাবলিক সার্ভেন্ট রিটায়ারমেন্ট অ্যাক্ট ১৯৭৪-এ সংশোধন এনে সম্প্রতি অবসরকালীন সময়সীমা ৫৭ বছর থেকে ৫৯ বছর করা হয়েছে। এ অবসর সময়সীমা নিয়ে রয়েছে আরো বড় বিতর্ক। কেউ যুক্তি দিচ্ছেন, মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে, ৫৭ বছরে কেউ এমন বৃদ্ধ হন না যে কাজ চালাতে পারবেন না। মন্ত্রিত্বের মতো গুরুদায়িত্ব যদি সত্তরোর্ধ্ব বয়সেও পালন করা যায়, তাহলে ৫৭ বা ৫৯ বছর এমন কী! এ জন্য কেউ কেউ দাবি করছেন, চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার বয়স কমপক্ষে ৬২ বছর হওয়া প্রয়োজন। অন্য পক্ষ বলছে, দেশে প্রচুরসংখ্যক শিক্ষিত যুবক বের হচ্ছে। সরকারি চাকরির বয়সসীমা বাড়ানো হলে অবসরে যাওয়ায় দেরি হবে, ফলে এসব যুবকের চাকরি পেতে বিলম্ব হবে।
কিন্তু কয়েকটি বিষয় এখানে বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। যে মানুষটি দীর্ঘ ২৫ থেকে ২৭ বছর চাকরি করে থাকেন, তাঁর প্রশাসনিক কাজে অভিজ্ঞতার কোনো তুলনা নেই। এই মানুষটি দেশের মূল্যবান সম্পদ হয়ে উঠেছেন তাঁর চাকরিজীবনের অভিজ্ঞতা দিয়ে। অফিসের কাগজপত্র ডিল করা থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় চাকরি করার সুবাদে আঞ্চলিক মানসিকতার সঙ্গেও পরিচিত হয়ে ওঠেন। তাঁকে নতুন করে কিছু বোঝানো বা শেখানোর দরকার হয় না। নির্বাহী প্রশাসনই হোক, আর সরকারের অন্য কোনো বিভাগই হোক, সেখানে কাজের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতার কোনো বিকল্প নেই। অথচ এই চাকরিজীবন থেকে একজন মানুষ যখন অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার পূর্ণ করেছেন, ঠিক তখনই তাঁকে কিছু টাকা ধরিয়ে দিয়ে অবসরে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এসব পুরনো মানুষ বিদায় করে দেওয়া কি এক ধরনের সাবসিডি প্রদানের মতোই মনে হয় না? বিবেচনা করি, চাকরির বয়সসীমা এখন ৬৫ বছর হওয়া উচিত। খুব দুর্ভাগ্য না হলে, অথবা কোনো অসুস্থতার কারণে স্বাস্থ্যহানি না ঘটলে ৬৫ বছর বয়সের মানুষ এখন আর অক্ষম থাকেন না। তবে হ্যাঁ, এ সুযোগ হওয়া উচিত কেবল যাঁরা মেধা ও অভিজ্ঞতার আলোকে চাকরি করেন, তাঁদের বেলায়, কায়িক পরিশ্রমের বেলায় নয়।
অবশ্যই এর সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে চাকরির আবেদন করার বয়সসীমার। যিনি ৬০ বছর বয়স পার করবেন চাকরিতে, তাঁকে ৩০ বছর বয়সের মধ্যেই চাকরিতে প্রবেশ করতে হবে, এটি সঠিক নয় বলেই মনে হয়। এ ছাড়া সেশনজটসহ নানা বিড়ম্বনার মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করে বের হতে এখন একজন শিক্ষার্থীর বয়স হয়ে যায় ২৭-২৮ বছর। এরপর মাত্র দুই বছরের মধ্যে কখনো কখনো দুটি বা তিনটি চাকরিতে আবেদন করার সুযোগও আসে না।
এমন নানা কারণে চাকরির আবেদনের বয়সসীমা হওয়া উচিত ৩২ নয়, ৩৫ বছর। সেটাই হবে দরিদ্র শিক্ষার্থীবান্ধব নীতি। একজন দরিদ্র শিক্ষার্থী পাঁচ থেকে সাত বছর চাকরির জন্য সংগ্রাম করতে করতে নিজেকে প্রস্তুত করতে পারবেন। এ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তাদের চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনাও বাড়বে অনেক। এ সুযোগ ধনী বা সামর্থ্যবান মানুষদেরই বরং কোনো কাজে আসবে না। বাংলাদেশের কোনো ধনাঢ্য পরিবারের সন্তানই পাঁচ-সাত বছর চাকরির পেছনে লেগে থাকবে না। এই আলোকে সরকার একটি নিয়ম করতে পারে যে যাদের চাকরি সন্ধানের সময় দীর্ঘ হয়েছে এবং যারা সর্বাধিকসংখ্যক চাকরির জন্য পরীক্ষা দিয়েছে, তাদের অগ্রাধিকার
দেওয়া হবে।
আমরা আমাদের চারদিকে কী দেখতে পাচ্ছি? কোনো ধনী ঘরের সন্তান লেখাপড়া শিখে খুব জোর দিয়ে সরকারি চাকরি খোঁজে না। কিন্তু মামা-খালুর জোরে, অথবা অর্থের শক্তিতে চাকরিটা তারই হয়। আর যে লেখাপড়া শিখে মনে-প্রাণে চাকরি খুঁজে বেড়াচ্ছে, নিজের বিষয়ে ভালো পড়াশোনা করার পরও একটি চাকরির আশায় 'বাংলাদেশের ডায়েরি' মুখস্থ করছে, তার চাকরি হওয়া লটারি পাওয়ার মতো দুষ্কর হয়ে উঠেছে।
ব্রিটেন সভ্য দেশ। এক সময়ের ব্রিটেনের করা আইনকানুনেই আমরা এখনো চলছি, যদিও ব্রিটেন নিজে সেসব আইন এখন অমানবিক বলে মনে করে। তাই ব্রিটেনের উদাহরণ দেওয়াই ভালো। ব্রিটেনের সরকারি চাকরি থেকে অবসরের মেয়াদ খুবই ইন্টারেস্টিং। সাধারণত ৬১ থেকে ৬৮ বছরের মধ্যে অবসরে যেতে হয়। সেখানে জন্ম-সাল ভাগ করা আছে। সেই জন্ম-সাল অনুসারে অবসরকাল বিচার করা হয়। তবে ব্রিটেন ২০৫০ সালে চাকরির বয়সসীমা ৬৮ বছর করবে বলে পরিকল্পনা রয়েছে।
ব্রিটেনে কোনো ব্যক্তিকে কোনো প্রতিষ্ঠানের মালিক ৬৫ বছর বয়স হলেই ছাঁটাই করে দিতে পারে না। সে নিয়ম উঠে গেছে ২০১১ সালে। সুতরাং আমাদেরও এসব মানবিক দিক বিবেচনা করতে হবে, পাশাপাশি সরকারের লাভ-ক্ষতির দিকেও তাকাতে হবে। সরকার যত বেশি অবসরভাতাপ্রাপ্ত লোকদের পেনশনভাতা টেনে যাবে, তত অর্থনীতির ওপর চাপ পড়বে, যে অবস্থা এখন দাঁড়িয়েছে ফ্রান্সের বেলায়। সুতরাং সক্ষম লোকদের কাজে রাখাই যথোপযুক্ত।
লেখক : সাংবাদিক, mohshinhabib@yahoo.com

"রাষ্ট্রীয় পণ্যের ব্যবহার অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথ সুগম করবে" :: দৈনিক ইত্তেফাক


"রাষ্ট্রীয় পণ্যের ব্যবহার অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথ সুগম করবে"
রুবেল হাওলাদার
বাংলাদেশ একটি সম্ভাবনাময় রাষ্ট্র। আমাদেরও রয়েছে সোনালি ঐতিহ্য ও সম্ভাবনা। তাহলে আমরা কেন বিদেশি সংস্কৃতিসহ নানা বিষয় ধার করবো? হ্যাঁ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সম্পর্ক রক্ষা করতে গিয়ে বিদেশিদের অনেক বিষয় আমাদের মধ্যে ঢুকে পড়ে। পড়তে পারে। বিদেশিদের কাছ থেকে আমরা বিভিন্ন বিষয় নেব। এগুলো হতে পারে, সংস্কৃতি, শিক্ষা, চিকিত্সা প্রযুক্তিসহ অনেক কিছু। এগুলো যাতে দেশবিরোধী না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। দেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে যাতে এগুলো গ্রহণযোগ্য হয়, এগুলোকে যাতে দেশের কল্যাণের স্বার্থে ব্যবহার করা যায়, সে দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।

প্রযুক্তির কথা ধরা যাক, প্রযুক্তিগতভাবে আমাদের দেশ উন্নত না হলেও, এদিক থেকে বাংলাদেশ একটি সম্ভাবনাময় রাষ্ট্র। আমাদের দেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যাপক হারে প্রযুক্তির ব্যবহার দেখতে পাই। দেশে এর ব্যবহার যে হারে বাড়ছে, সে হারে সমৃদ্ধি ঘটছে না। আর তাই আমরা অন্যদেশের দ্বারস্থ হই। অথচ একটু শ্রম দিলে আমরাই এই সমস্যার সমাধান দিতে পারি। আজ দেশীয় বিভিন্ন কোম্পানি দেশীয় প্রযুক্তিতে বিভিন্ন পণ্য সামগ্রী তৈরি করছে। সেগুলো দেশব্যাপী সুনাম অর্জন করেছে। এটা আমাদের জন্য সুসংবাদ। তাহলে ঐ পণ্য সামগ্রী অন্য দেশ থেকে আমাদের ক্রয় করতে হচ্ছে না। ফলে দেশের অর্থ দেশেই থেকে যাচ্ছে। আর দেশের অর্থ দেশে থাকলে অর্থনৈতিক সচ্ছলতা আনয়নের পথ সুগম হবে। এখানে একটি কথা আছে, অনেকে মনে করেন দেশীয় পণ্য কম টেকসই, ভালোভাবে কাজ করে না ইত্যাদি। এ জন্য আমাদের প্রযুক্তিবিদদের সচেতন হওয়া দরকার। যাতে সবাই দেশীয় পণ্যের উপর আস্থা রাখতে পারে। এক্ষেত্রে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। প্রযুক্তিবিদদের বিভিন্ন দিক থেকে সহায়তা করতে হবে। আর প্রযুক্তিবিদরা যাতে দেশের জন্য কাজ করে, বিদেশে চলে না যায়, সে জন্য তাদেরকেও দেশপ্রেমী হতে হবে। এ কাজকরণে সরকারের অনেক দায়িত্ব রয়েছে।

দেখুন, আমাদের বাতাস আমাদের কাছে বিক্রি করে বিদেশি কোম্পানিগুলো প্রতিদিন কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। মোবাইল সিম ও নেটওয়ার্কের কথা বলছি। বর্তমানে দেশে ৬টি মোবাইল অপারেটর চালু রয়েছে। এগুলো সিটিসেল, গ্রামীণফোন, রবি, বাংলালিংক, টেলিটক ও এয়ারটেল। এদের মধ্যে 'টেলিটক' হলো দেশীয়। এখন দেখুন অন্য অপারেটরের গ্রাহক সংখ্যা কত আর টেলিটকের গ্রাহক সংখ্যা কত। আর ঐ বিদেশি অপারেটরগুলো প্রতিদিন কত টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। তার মানে, আমাদের বাতাস আমাদের কাছে বিক্রি করে কোম্পানিগুলো কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। অনেকের মুখে শোনা যায়, ঢাকার বাইরে নাকি টেলিটকের নেটওয়ার্ক ভালো পাওয়া যায় না। আমরা আশাবাদী সরকার এ ব্যাপারে শীঘ্রই প্রকল্প হাতে নিবে। সবাই যদি এর গ্রাহক হয়, তাহলে সব অর্থ দেশেই থেকে যাচ্ছে। এই অর্থ কি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আনয়নে ভূমিকা রাখবে না? সবাই এর গ্রাহক হলে, তখন কলরেট কমিয়ে দিলে সমস্যা হবে না। অনেকে বলতে পারেন, ঐ কোম্পানিগুলোতে চাকরি করে আমাদের ছেলে-মেয়েরা কি অর্থ আয় করছে না, ভুল হবে। দেখুন, আমাদের দেশের মাটি, বাতাস, শ্রমিক ও সম্পদ ব্যবহার করেই কিন্তু আমাদের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। ঐ ছেলে-মেয়েরা কি দেশীয় কোম্পানিতে কাজ করতে পারবে না? গ্রাহক সংখ্যা বাড়লে এর কর্মক্ষেত্রও বেড়ে যাবে। একটু দেখুন, তারা কত বেতন পাচ্ছে, আর কোম্পানিগুলো কত হাতিয়ে নিচ্ছে। সবাই এর গ্রাহক হলে আমরা কত টাকা পাব। এই দুই অর্থের সাথে তুলনামূলক হিসাব কষুণ তাহলে সঠিক ফল আপনি নিজেই পেয়ে যাবেন।

লেখক : শ্রেণি: ২য় বর্ষ সম্মান

বিভাগ: ভাষা বিজ্ঞান

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

পরস্পর বিরোধী আদর্শের রাজনীতিসহঅবস্থানের কৌশল ও নীতি দরকার :: দৈনিক ইত্তেফাক


পরস্পর বিরোধী আদর্শের রাজনীতিসহঅবস্থানের কৌশল ও নীতি দরকার
ড. মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
বাংলাদেশের রাজনীতি এখন পরিষ্কারভাবে দু'টো পরস্পর বিরোধী রাজনৈতিক অবস্থানে এসে দাঁড়িয়েছে। একটির নেতৃত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, অপরটি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। আদর্শ ও চরিত্রগতভাবে আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব দিচ্ছে উদারবাদী গণতন্ত্র বিশ্বাসীসহ বামের একটি ছোট অংশকে, বিএনপি দিচ্ছে মধ্যডান থেকে সর্বোডান পর্যন্ত প্রায় সকলকে। এমনটি কয়েক বছর আগেও ছিল না। দেশের রাজনীতি যেহেতু নানা রাজনৈতিক উত্থান-পতন ও ঘটনার মধ্য দিয়ে সব সময় নির্মিত হচ্ছে, রূপান্তর হচ্ছে, তাই এর অবস্থান সব সময় পরিবর্তনশীল থাকছে। যেহেতু দক্ষিণপন্থায় বিশ্বাসী পাকিস্তান রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে পরাজিত করে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটেছিল তাই ১৯৭১-৭৫ সালে বাংলাদেশের রাজনীতিতে দক্ষিণপন্থা তথা ডানপন্থা বা রক্ষণশীল রাজনীতির আদর্শের দলের অবস্থান প্রায় শূন্যের ঘরে নেমে আসে।

বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ মধ্যপন্থার রাজনীতির ধারক বাহক হলেও ১৯৭১-৭৫ সালে বিশ্ব ও দেশীয় বাস্তবতায় বামমুখিনতার দিকে তাকে তাকাতে হয়েছিল, বামপন্থার বিপ্লবী উত্থানের ঘুরপাকে বাংলাদেশ তখন অনেকটাই অস্থির ছিল। এ ধরনের অবস্থায় ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ড এবং রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটেছিল। এর মাধ্যমে ডানপন্থার রাজনীতি রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় বেড়ে ওঠার সুযোগ লাভ করে। ১৯৯০ পর্যন্ত এমন অবস্থায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতৃত্বে যে রাজনীতি দেশে বিকশিত হয়েছিল তাতে উদার বা মধ্যপন্থার রাজনীতি ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার স্তরে পৌঁছাতে পারেনি। ১৯৯১-এর নির্বাচনের ফলাফল প্রমাণ করে যে, মধ্যডানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের রাজনীতি তখনো শক্তিশালী অবস্থান ধরে রেখেছিল। তবে অতি ডানপন্থি তথা ধর্মের নামধারী দলসমূহ ইসলামী বিপ্লবের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাষ্ট্র ক্ষমতা দখলে এককভাবে এগিয়ে যাওয়ার বিশ্বাস থেকে এক ধরনের স্বতন্ত্র ও দূরত্ব বজায় রেখে অগ্রসর হয়েছিল, বিএনপির সঙ্গে গাঁটছড়া অবস্থান তৈরিতে ততোটা আগ্রহী ছিল না—অনেকটা বামতাত্ত্বিকদের অনুকরণে বাংলাদেশে তাদের কাঙ্ক্ষিত ইসলামী বিপ্লবের সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে সচেষ্ট ছিল। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় ফিরে আসার বাস্তবতায় দক্ষিণপন্থার এতোদিনকার বিশ্বাস ও তত্ত্বে নতুনভাবে সমীকরণ ঘটতে দেখা যায়। এ থেকে ১৯৯৯ সালে ৪ দলীয় জোটের গঠন এবং ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে অভূতপূর্ব সাফল্য লাভ সকল ডান ঘরানার শক্তিকে রাষ্ট্র ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতির হিসাব-নিকাশে দৃঢ় একটি অবস্থান গ্রহণে নিয়ে যায়।

অন্যদিকে একলা চলা নীতি পরিহার করে আওয়ামী লীগও ২০০৫ সাল থেকে মধ্যবামসহ বেশ কিছু উদার শক্তিকে নিয়ে রাজনীতির নতুন মেরুকরণ সৃষ্টি করে। তখন এর সঙ্গে মধ্যডানের শক্তি জাতীয় পার্টিও হাফ হার্টেড হয়ে যুক্ত হয়। জাতীয় পার্টি ১৯৯৯ সালে ৪ দলীয় জোট প্রতিষ্ঠায় যুক্ত হয়েও প্রায় সম আদর্শের হওয়ায় বিএনপির সঙ্গে একত্রে ঘর করতে পারেনি। কিন্তু তাতে তার অস্তিত্ব বিপন্ন হওয়ার আশংকা থেকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট মহাজোটে 'আছি নেই' অবস্থানে যুক্ত হয় এবং এখনও অবস্থান করছে। তবে জাপা ঘরানার একাধিক ছোট ছোট অংশ থেকে যায় ৪ দলীয় জোটে। দক্ষিণ পন্থার ৪ দলীয় এই জোট ২০০১-০৬ সালের শাসনকালে দেশকে কোনো সুশাসন, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি বা ইতিবাচক ধারায় এগিয়ে নেয়ার তেমন অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারেনি। বিএনপি মধ্য ডানপন্থির অবস্থানে রাজনীতিকে বিকশিত না করে বরং উগ্র-জঙ্গিবাদ ও মৌলবাদের কাছে প্রায় আত্মসমর্পণ করেছিল। এর ফলে বিএনপি'র নেতৃত্বাধীন জোটের ঝোঁক অপেক্ষাকৃত ডানের রক্ষণশীলতার দিকেই প্রকাশিত হয়। এর ফলে বাংলাদেশের সমাজ ও রাজনীতির বাস্তবতায় একটি কম্পন ও ঝাঁকুনির সৃষ্টি হয়, এ থেকে রাজনীতিতে আতঙ্কও সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশের সমাজ ও রাজনীতি অতিবাম বা অতিডান-এর কোনোটিকেই গ্রহণে প্রস্তুত নয়—সেই সংকেতই ২০০১-০৬ সালে প্রদান করা হয়। স্বাধীনতার পর প্রথম বাম উদারবাদী ধারাটির অস্থিরতায় বাংলাদেশ ডানের দিকে হেলে পড়ে, আবার ২০০১-০৬-এর অতিডানের উগ্রতায় মধ্যমপন্থি আওয়ামী লীগে আশ্রয় নেয় বাংলাদেশ। আওয়ামী লীগ এ সময়ে মধ্য উদার অবস্থানে অস্থির নয়, কিছুটা দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করে। সেখানে কিছু মধ্য বাম জোটভুক্ত হলেও চিরায়ত বাম ধারার শক্তিসমূহ খুব ছোট হয়ে গিয়েও নিজস্ব অবস্থানে অটল থেকে যায়। এর ফলে আওয়ামী লীগের তেমন ক্ষতি-বৃদ্ধি ঘটেনি বরং লাভই বেশি হয়েছে। আওয়ামী লীগ মধ্যপন্থি উদার গণতান্ত্রিক ধারা শক্তি হিসেবে একক কেন্দ্রিকতায় আবির্ভূত হয়েছে।

অন্যদিকে বিএনপি সকল দক্ষিণপন্থি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গোষ্ঠিকে নিয়ে ২০১২ সালে ১৮ দলীয় জোটে আবির্ভূত হয়েছে। এর নিয়ন্ত্রণটি আসলে কতোটা মধ্যপন্থায় অবস্থান করছে বা করবে তা এখনো নিশ্চিত নয়। বিএনপি'র মধ্যে অতীত অতিডান ও অতিবামের প্রভাব বেশ প্রবল। মধ্যপন্থার গোষ্ঠীর অবস্থান তাতে সংহত হতে পারেনি। বিএনপি'র নেতৃত্ব এখনো পর্যন্ত স্থির কোনো অবস্থান নিতে পারেনি এর রাজনৈতিক মতাদর্শ ও গতি-প্রকৃতিকে ভিত্তি প্রদানের। বিশেষত ২০০১-০৬ সালের ঐক্যজোট বিএনপিকে অতিমাত্রায় দক্ষিণদিকে ধাবিত করেছিল মৌলবাদী জঙ্গিবাদী শক্তিকে— তখন অনেকটাই রাষ্ট্র ক্ষমতায় নির্ভরশীল করে তোলে। ২০০৭-পরবর্তী সময়ে বিএনপি'র সম্মুখে নিজস্ব ধারা নির্ধারণের সুযোগ এনে দিলেও বিএনপি তাতে খুব একটা মনোনিবেশ করেনি। বিএনপি'র অভ্যন্তরের শক্তির সমাবেশই তা করতে দিচ্ছে বলে মনে হয় না। ফলে বিএনপি পরিবর্তিত দেশীয় এবং বিশ্ব বাস্তবতাকে বিবেচনায় নিয়ে সমাজ ও রাজনীতির মধ্যডানের অংশকে নেতৃত্ব দেয়ার কৌশল বা অবস্থান না গ্রহণ করায় এর অবস্থান ক্রমেই ডানে সরে যাচ্ছে, জনসমর্থনও বিরোধী অবস্থানে থেকেও আশানুরূপভাবে বাড়ছে না। বিএনপি'র ধারণা বিএনপি অতীতের বিরোধিতার রাজনীতির পথ মাড়িয়ে ক্ষমতায় আসতে পারবে। এটি এখনো আশাবাদের পর্যায়ে রয়েছে। এর বাস্তবায়ন হবে কিনা তা নির্ভর করছে আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের উপর। আওয়ামী লীগ ভুলের মাত্রা ছাড়িয়ে গেলে বিরাটসংখ্যক ভোটার ত্যক্ত-বিরক্ত হয়ে বিএনপি জোটকে ভোট দিতে পারে। এর সঙ্গে ১৮ দলীয় জোটের ভোট যুক্ত হয়ে ১৮ দল ক্ষমতায় যেতে পারবে বলে কোনো কোনো মহল হিসাব কষে ফলাফল দাঁড় করাচ্ছে। তবে গত এক থেকে দুই দশকের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং সমাজ বাস্তবতা দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। জনমানসের রূপান্তরটি প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। এক্ষেত্রে উদার গণতন্ত্রের দিকে তরুণ প্রজন্মের আস্থা ও ঝোঁক ধীরে ধীরে হলেও বাড়ছে। এসব প্রবণতা ও ইতিবাচক শক্তি দেশের সামগ্রিক রাজনীতির ওপর আস্থাশীল না হয়ে বরং দিন দিন হতাশ হচ্ছে। হতাশার কারণগুলো বেশ স্পষ্ট। এক. উগ্রবাদী শক্তির উত্থান ও কর্মকাণ্ডে দেশের আর্ত-সামজিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা, দুই. দুর্নীতি, জোর-জবরদস্তির প্রবণতা বৃদ্ধি, তিন. মেধা বিকাশের পরিবর্তে অমেধাবীদের দৌরাত্ম্য বৃদ্ধি, সর্বত্র তাদের লালন ও প্রতিষ্ঠা করার প্রবণতা, চার. রাজনীতিতে সংঘাত ও বিরোধাত্মক অবস্থানকে পুঁজি করে চলা, পাঁচ. গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিকতা প্রদানে কোনো কোনো মহলের চরম অনীহা এবং ছয়. শুধুমাত্র ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতিকে অবলম্বন করে মাঠ গরম করা।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে পরস্পরবিরোধী আদর্শ ও অবস্থানের রাজনৈতিক মেরুকরণ ঘটেছে তাতে বিরোধ-সংঘাতের আদর্শিক বীজ খুব গভীরে লুকায়িত রয়েছে। যতোক্ষণ পর্যন্ত দু'টো জোটের প্রধান দু'টো দলই মতাদর্শগতভাবে কাছাকাছি-স্পষ্ট করেই বলছি গণতন্ত্রের উদারবাদী আদর্শের খুব কাছাকাছি প্রতিদ্বন্দ্বীরূপে পরিণত না হচ্ছে (একটি হলে চলবে না) ততক্ষণ পর্যন্ত পরস্পরবিরোধী রাজনৈতিক শক্তির একটির অবস্থান মধ্যপন্থার কাছাকাছি হলেও অন্যটি দক্ষিণ মেরুতেই সরে থাকা বা যাওয়ার কারণে দূরত্ব, দ্বন্দ্ব ও সংঘাত বিদ্যমান থেকেই যাবে। এই বাস্তবতা খুব সহজে নিরসন হবে-তা বলা মুশকিল। তবে তাদের মধ্যে সহঅবস্থানের পন্থা বা কৌশল বা অবস্থা নীতিগুলো কী হবে তা বোধ হয় নির্ধারণ খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে। এতদিনেও এই দুই দল বা জোটের মধ্যে সহঅবস্থানের কোনো সুস্থ, স্বাভাবিক নিয়ম-নীতি তৈরি হয়নি। ফলে একদল ক্ষমতায় গেলে অন্য দলের অবস্থান অবস্থা একেবারেই ভিন্ন থাকে। এ ক্ষেত্রে আমরা সবকিছুকে আবার এক করে দেখার চেষ্টাও করছি। ক্ষমতায় দুই দল বা জোটের অবস্থান ও কার্যক্রম কিন্তু চরিত্রগতভাবে একরকম ছিল না। তফাত্গুলো বোঝার মধ্যে দেখা যায় যথেষ্ট বৈরি আচরণ বিদ্যমান ছিল বা আছে। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক আচরণ বলতে যা বোঝায় তার অনুপস্থিতি কোনো কোনো দিক থেকে প্রবল, কোনো দিক থেকে কম ছিল মাত্র। ফলে এক ধরনের বৈরি সম্পর্ক নিয়েই দুই দলের বা জোটের রাজনীতি ক্রিয়াশীল রয়েছে। যুক্তির শাসন মানার ক্ষেত্রে এক পক্ষের অনীহাই অন্য পক্ষকে অসংযত করে ফেলতে পারে। তেমনটিই ঘটছে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে। দেশের রাজনীতির ক্ষেত্রে যে সব দীর্ঘদিনের ক্ষত রয়েছে সেগুলোকে সংবেদনশীলতা দিয়ে দেখার সংস্কৃতির কথা গুরুত্ব দিয়ে উপলব্ধি করা জরুরি হয়ে পড়েছে। অপপ্রচার, মিথ্যাচার ও গলাবাজির রাজনীতিকে পরিহার করে মেধা, মনন ও সৃজনশীলতার চর্চাকে দল বা জোটে গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। এসবই মধ্যপন্থার রাজনীতির উপজীব্য বিষয়। দেশের আর্ত-সামাজিক ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের পশ্চাত্পদতাকে কাটিয়ে ওঠার জন্যে অর্থনৈতিক নীতি ও পরিকল্পনা, শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সর্বোচ্চ প্রয়োগ এবং জনসাধারণকে আধুনিক ধ্যান-ধারণায় বেড়ে উঠার রাষ্ট্র গঠনে উভয়পক্ষকেই মেরুর নীতি নয়, যুক্তি ও চর্চার নীতি অনুসরণ করতে হবে। তবেই আধুনিক বিশ্ব বাস্তবতায় রাজনীতি সংস্কৃতি সংঘাতের পরিবর্তে সহঅবস্থানে পরিচালিত হওয়ার পরিবেশ লাভ করবে।

লেখক: অধ্যাপক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক

ভর্তুকি :অর্থের সদ্ব্যবহার ও সঠিক লক্ষ্য স্থির করিতে হইবে :: দৈনিক ইত্তেফাক


ভর্তুকি :অর্থের সদ্ব্যবহার ও সঠিক লক্ষ্য স্থির করিতে হইবে
ভর্তুকির চাপ মাথায় নিয়া পথ হাঁটিতে হইতেছে সরকারকে। প্রতিবত্সরই বাড়িতেছে ভর্তুকির পরিমাণ। শুধু আমাদের দেশেই নহে, স্বল্পোন্নত কিংবা ধনী দেশগুলিতেও ভর্তুকি দিতে হইতেছে। তবে প্রশ্ন হইতেছে যে, ইহার মাত্রা কি হইবে? ভর্তুকির নামে অর্থের যথেচ্ছাচার করা হইবে, নাকি ঋণ করিয়া আনা অর্থের সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করিতে সঠিক লক্ষ্য ঠিক করিয়া ভর্তুকি দেওয়া হইবে? ভর্তুকি দিলেও তাহা কোন কোন খাতে ব্যয় করিলে আমাদের জাতীয় উন্নয়নে কাজে লাগিবে, সেইটিও সতর্ক দৃষ্টি রাখিবার দাবি রাখে। নচেত্ উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলি হইতে আমরা বিরূপ সমালোচনার মুখে পড়িব। কারণ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থাগুলি চাহিতেছে না যে, বাংলাদেশে ভর্তুকির পরিমাণ বাড়াইয়া দেওয়া হউক। উদাহরণস্বরূপ আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নাম বলা সমীচীন হইবে। আইএমএফ সবসময়ই সরকারকে বলিতেছে যে, ভর্তুকির পরিমাণ কমাইয়া আনিতে হইবে। মূলত এই সংস্থাটির সুপারিশের প্রেক্ষিতেই কিছুদিন আগে সরকার জ্বালানি তেলের দাম বাড়াইয়াছে। এই দাম বাড়াইবার পিছনে ভর্তুকি কমাইয়া আনাই প্রধান যুক্তি। এইরূপভাবে সরকার বিভিন্ন খাতে ভর্তুকি দিয়া আসিতেছে। যাহা অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতাকালে ঘোষণা দেওয়া হইয়া থাকে। যদিও যেই পরিমাণ ভর্তুকির ঘোষণা আমরা শুনিতে পাই, তাহার চাইতেও বেশি ভর্তুকি সরকারকে দিতে হইতেছে। আর সেইখানেও আইএমএফের প্রবল আপত্তি রহিয়াছে। আইএমএফ স্পস্টই বলিয়া দিয়াছে যে, ভর্তুকির পরিমাণ আমাদের মোট দেশজ উত্পাদনের দুই শতাংশের কাছাকাছি রাখিতে হইবে। ইহা বর্তমানে ৪ শতাংশের মতো।

ভর্তুকি লইয়া অভ্যন্তরীণভাবে সমালোচনা রহিয়াছে। সরকারকেও ভর্তুকির চাপ সামলাইতে গিয়া হিমশিম খাইতে হয়। কিন্তু ভর্তুকি না দিলে জনগণকে কম দামে পণ্য বা সেবা সরবরাহ করা যাইবে কিভাবে? এইখানেই সরকারের দায়। জনগণের প্রতি সরকারের এই দায় মিটাইতে গিয়া ভর্তুকির অংক বাড়িয়া যায়। কেননা, সরকারকে জনগণের কথাও চিন্তা করিতে হয়। পাঁচ বত্সরের জন্য ক্ষমতার আসনে এই জনগণই বসাইয়া থাকে। আর এখন চলিতেছে সরকারের শেষ বত্সর। ইতোমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাহার সরকারকে আরও একবার নির্বাচিত করিবার জন্য জনগণের প্রতি আরজ রাখিয়াছেন। তাহা হইলে ভর্তুকি কমাইয়া পণ্য ও সেবার দাম বাড়াইয়া দিলে জনগণের সামনে যে যাইবার সুযোগ কমিয়া যায় তাহাও তাহারা জানেন। তাই উন্নয়ন সহযোগীদের পরামর্শের সহিত জনগণের সুবিধার বিষয়টি ভাবিয়াই সিদ্ধান্ত লইতে গিয়া উভয় সংকট তৈরি হয়। তদুপরি, ইহা অস্বীকার করিবার জো নাই যে, ভর্তুকি আর্থিক শৃঙ্খলা নষ্ট করিতেও ভূমিকা রাখে। 

অন্যদিকে ইহাও চরম সত্য যে, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে ইতিবাচক বলিবার জো নাই। বিনিয়োগে দুরবস্থা, রফতানি আয়ের প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়া, দুর্বল অবকাঠামো, রাজনৈতিক অস্থিরতা, সহায়ক আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি না থাকা, শ্রমিক অসন্তোষ, জ্বালানির তীব্র সংকটসহ নানা ধরনের সমস্যায় রহিয়াছে দেশের অর্থনীতি। এই অবস্থায় ভর্তুকি কমাইয়া আনার লক্ষ্যে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করিবামাত্র তাহা জনগণের বিপক্ষেই চলিয়া যাইতেছে। যেমন, দফায় দফায় জ্বালানি তেল, বিদ্যুত্ ও সিএনজির দাম বাড়াইবার ফলে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর জীবনধারণ জটিল হইয়া পড়িতেছে। মানুষের আয় বাড়ে নাই, অথচ ব্যয় বাড়িতেছে। যাহা দারিদ্র্যের হার বাড়াইতেও ভূমিকা রাখিতেছে। কাজেই উভয়দিক বিবেচনা করিয়া সিদ্ধান্ত লইতে হইবে, যাহাতে ভর্তুকির পরিমাণ দিনে দিনে কমাইয়া আনা যায়। অর্থনীতিকে শক্তিশালীকরণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ লইতে হইবে, যাহা সাধারণের আয়-রোজগার বাড়াইবে এবং ভর্তুকি কমাইলেও তাহার চাপ সহ্য করিবার মতো সক্ষমতা তৈরি হইবে। ইহাই এখন অতীব জরুরি।

Monday, December 31, 2012

Physiology Lecture

Power Point

The Study of Body Function
Chemical Composition of the Body
Cell Structure and Genetic Control
Enzymes and Energy
Cell Respiration and Metabolism
Interactions Between Cells and the Extracellular Environment
The Nervous System: Neurons and Synapses
The Central Nervous System
The Autonomic Nervous System
Sensory Physiology
Endocrine Glands: Secretion and Action of Hormones
Muscle: Mechanisms of Contraction and Neural Control
Heart and Circulation
Cardiac Output, Blood flow, and Blood Pressure
The Immune System
Respiratory Physiology
Physiology of the Kidneys
The Digestive System
Regulation of Metabolism
Reproduction


PDF

Chapter 1: Introduction to Physiology










Chapter 8: Neurons, Part 2
Chapter 10: Sensory Physiology, Part 1
Chapter 10: Sensory Physiology, Part 2
Chapter 11: Efferent Division
Chapter 12: Muscles
Chapter 13: Integrative Physiology (very short chapter)
Chapter 14: Cardiovascular Physiology, Part 1
Chapter 14: Cardiovascular Physiology, Part 2
Chapter 15: Blood Flow, Part 1
Chapter 15: Blood Flow, Part 2
Chapter 16: Blood
Chapter 17: Mechanics of Breathing
Chapter 18: Gas Exchange and Transport






সংসদীয় গণতন্ত্রের নামে ‘প্রধানমন্ত্রীর একনায়কত্ব’ নয় - প্রথম আলো


বাংলাদেশে আমরা এমন সংসদীয় সরকারব্যবস্থা প্রবর্তন করেছি, যার সঙ্গে অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশের তুলনা হয় না। সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় প্রত্যেক মন্ত্রী স্বাধীনভাবে মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। খুব বড় মাপের কোনো সিদ্ধান্ত না হলে সাধারণত প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে ফাইল পাঠানো হয় না। কিন্তু বাংলাদেশে দুই বড় দলের দুই সরকারই প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন ছাড়া কোনো ছোট-বড় সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। সরকারের সব সমস্যার সমাধান যেন শেখ হাসিনা বা খালেদা জিয়ার হাতে। শেখ হাসিনা বা খালেদা জিয়ার মেঠো রাজনীতির অভিজ্ঞতা ছাড়া অন্য কোনো বিষয়ে কোনো বিশেষজ্ঞতা আছে বলে কেউ দাবি করেননি। দুজনই উত্তরাধিকারসূত্রে নেতা এবং পরে ভোটে জয়লাভ করে প্রধানমন্ত্রী। উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত নেতৃত্ব ও প্রতীকের জোরে নির্বাচিত হয়েই এই দুই নেত্রীকে তাঁদের দল ‘সব সমস্যার সমাধান’ হিসেবে দেখতে শুরু করেছে। এর ব্যতিক্রম কিছু কেউ করলে তাঁকে নেত্রীর প্রতি যথেষ্ট আনুগত্যের অভাব বলে বিবেচনা করা হয়। 
যাঁরা রাজনীতি করেন তাঁদের এক বিরাট অংশ স্বপ্ন দেখেন, একদিন এমপি ও মন্ত্রী হবেন। বলা বাহুল্য, সবার ভাগ্যে এই স্বপ্ন পূরণ হয় না। কিন্তু স্বপ্ন দেখতে দোষ কী! তাই বেশির ভাগ নেতা, পাতিনেতা বছরের পর বছর দলের প্রধানকে (দুই দলই) তুষ্ট করতে ব্যস্ত থাকেন। 
মন্ত্রী হওয়ার পরও তাঁরা নিজের জ্ঞান ও বুদ্ধি দিয়ে খুব বেশি সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। ফাইল পাঠিয়ে দিতে হয় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে। প্রধানমন্ত্রী তাঁর দপ্তরে কিছু বিশেষজ্ঞ বা অভিজ্ঞ আমলা রাখেন। অনুমান করি, প্রধানমন্ত্রী তাঁদের সঙ্গে পরামর্শ করে ফাইলে সিদ্ধান্তটি লিখে দেন। প্রধানমন্ত্রী কেন এত ব্যস্ততার মধ্যেও সব ফাইল দেখতে চান? কয়েকটি কারণ অনুমান করা যায়। ১) তিনি তাঁর মন্ত্রীদের দক্ষতার ওপর আস্থা রাখেন না। শুধু স্তাবক হিসেবে তাঁদের মন্ত্রী করা হয়েছে। ২) তিনি মন্ত্রীদের ওপর আস্থা রাখেন, তবু নিজে একবার বিষয়টি ঝালাই করে দেখে তারপর সিদ্ধান্ত নিতে চান, যাতে কোনো ভুলত্রুটি না থাকে। ৩) কোন খাতে কত টাকা ব্যয় হচ্ছে, কারা কাজ পাচ্ছে, এগুলো দেখাও একটা উদ্দেশ্য হতে পারে। 
তবে মন্ত্রণালয়ের অনেক সুপারিশ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে গিয়ে আর আলোর মুখ দেখেনি, এমন নজিরও রয়েছে। 
ফাইল দেখা এবং সব ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দিতে প্রধানমন্ত্রীর আগ্রহের কথা জানতে পেরে মন্ত্রীরা এখন আর নিজে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ঝুঁকি নেন না। কোনো সমস্যার সমাধান নিয়েও ভাবেন না। 
সরকার কয়েকজন উপদেষ্টা নিয়োগ দিয়ে কার্যত কয়েকজন মন্ত্রীর কাজে বা সিদ্ধান্ত গ্রহণে বড় ধরনের বাধা আরোপ করেছে। মন্ত্রীদের কাছে এই বার্তা স্পষ্ট যে ‘তুমি যা-ই করো না কেন, আসল পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীকে দেবেন উপদেষ্টারাই।’ গত চার বছরে মন্ত্রী-উপদেষ্টা নানা বিরোধের কথা আমরা শুনেছি। 
এভাবে আমরা এমন একটি কৃত্রিম সংসদীয় পদ্ধতির সরকারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করেছি, যা দুজন নেত্রীকে এক অদু্ভত ধরনের কৃত্রিম ‘সুপার লিডার’ হিসেবে তৈরি করেছে। অথচ দুই দলের সরকারেই এমন অনেক মন্ত্রী রয়েছেন বা ছিলেন, যাঁরা খুবই পোড় খাওয়া রাজনীতিক বা অন্য কোনো পেশায় অভিজ্ঞ। 
বাংলাদেশে নব্বইয়ের পরও যে কোনো গণতান্ত্রিক সরকার সফল হতে পারেনি, তার অনেকগুলো কারণের মধ্যে এটাও একটা কারণ। ‘নেত্রী’ নির্ভরতা। 
আমাদের এই দূষিত রাজনৈতিক সংস্কৃতি বদলাবে কবে ও কীভাবে? নাকি আমরা এই ‘পদ্ধতি’ বহাল রাখতে চাই? নাকি এই দুই নেত্রীর পর যাঁরা নেতৃত্বে (ও প্রধানমন্ত্রিত্বে) আসবেন, তাঁদের সময় থেকে প্রকৃত সংসদীয় গণতন্ত্রের চর্চা করব। দুই নেত্রীর পর যদি তাঁদের উত্তরাধিকারীরা দলে বা সরকারের নেতৃত্বে আসেন, তাহলে কি বর্তমান রীতি পাল্টানো সম্ভব হবে? 
আমাদের আশঙ্কা, বড় দুই দলে যদি ভবিষ্যতে উত্তরাধিকারসূত্রে নেতৃত্ব (এবং প্রধানমন্ত্রিত্ব) কায়েম হয়, তাহলে পরিস্থিতির তেমন পরিবর্তন হবে না। কারণ, নতুন নেতৃত্ব আগের ভঙ্গিতেই দল ও সরকার পরিচালনা করতে চাইবেন। বড় দল দুটি তাদের মূল নেতার ক্যারিশমাকে ভাঙিয়ে রাজনীতি করে। ইতিমধ্যে দুই নেত্রীরও ইমেজ গড়ে উঠেছে। অনেক দিন দলের প্রধান থাকলে এবং প্রধানমন্ত্রিত্ব করলে দলে তো বটেই, দেশের মানুষের কাছেও একটা ভাবমূর্তি প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়। ‘স্বৈরাচার’ বলে এরশাদকে যত সমালোচনা করা হোক না কেন, রাজনীতির মাঠে তাঁরও কিছুটা ইমেজ রয়েছে। 
বর্তমানে দুই নেত্রী প্রধানমন্ত্রীর পদটা যেভাবে ব্যবহার করছেন বা করেছেন, তাকে ‘সংসদীয় গণতন্ত্র’ বলা যায় না। এই পদ্ধতি অনেকটা ‘রাষ্ট্রপতি পদ্ধতির’ মতো। আমরা মুখে বলছি ‘সংসদীয় পদ্ধতি’ অথচ কাজে করছি ‘রাষ্ট্রপতি পদ্ধতি’। বড় দুই দলের প্রথম কাতারের নেতারাও দলপ্রধানের একনায়কতন্ত্র প্রায় বিনা প্রতিবাদে মেনে নিয়েছেন। যেহেতু দুই নেত্রীর ব্যক্তিগত ইচ্ছায় এমপি নমিনেশন, মন্ত্রিত্ব বা দলের হাইকমান্ডে স্থান পেতে হয়। 
বহুদিন যাবৎ রাজনৈতিক দলের সংস্কারের কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের কিছু নির্দেশ (বিধি) ছাড়া রাজনৈতিক দলে কোনো সংস্কার হয়নি। প্রধান দুই দলের প্রধান ও দলে তাঁর ঘনিষ্ঠ চক্র কেউই সংস্কারে আগ্রহী নয়। উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত নেতৃত্ব যত দিন দলের মধ্যে থাকবে, তত দিন দলের ভেতরে কোনো তাৎপর্যময় সংস্কার করা সম্ভব হবে না। প্রথম কাতারের অন্তত ১০ জন নেতা ও জেলা পর্যায়ের কয়েকজন নেতা একসঙ্গে চাপ সৃষ্টি করলে হয়তো কোনো দিন সংস্কার সম্ভব হতে পারে। সেই সম্ভাবনা যদিও খুব ক্ষীণ। 
আমাদের সংবিধানেও ‘প্রধানমন্ত্রীকে’ (আপাতত দুই বড় দল যে পদ ভোগ করছে) অপরিসীম ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। ড. কামাল হোসেনরা ’৭২-৭৩ সালে যখন সংবিধান রচনা করেছিলেন, তখন ‘প্রধানমন্ত্রী’ পদে তাঁরা দেখেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। বঙ্গবন্ধুর চিন্তা মাথায় রেখে তাঁরা প্রধানমন্ত্রীকে যথেষ্ট ক্ষমতা দিয়েছিলেন। ‘প্রধানমন্ত্রী’ এখন যথেষ্ট ক্ষমতা ভোগ করছেন আইনানুগভাবেই। ১৫১ জন সংসদ সদস্যের সমর্থন পেলেই একজন এমপি রাষ্ট্রের ও সরকারের একচ্ছত্র অধিপতি হয়ে যেতে পারেন। মন্ত্রিসভা, মহিলা এমপি, আমলাতন্ত্র, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে প্রভাব, বিচার বিভাগ, দলের নানা কমিটি, সরকারি নানা সংস্থার প্রধানকে নিয়োগ, বড় বড় ব্যবসার ঠিকাদারিতে প্রভাব, আত্মীয় তোষণ, রাষ্ট্রদূত নিয়োগ, নানা লোভনীয় ব্যবসার লাইসেন্স প্রদান, দল ও সরকারে স্তাবক পোষা, উপদেষ্টা নিয়োগ, একে ধরো, ওকে মারো, একে অবসর দাও, ওকে প্রমোশন দাও ইত্যাদি এক শ রকম সরকারি কাজে ‘প্রধানমন্ত্রী’ যা ইচ্ছা তা করতে পারেন। আমেরিকার প্রেসিডেন্টও তাঁর দেশে এত ক্ষমতাশালী নন। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট খুব কম ক্ষেত্রেই এককভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। 
আমাদের সংবিধানের এই দুর্বলতা দূর করবে কে? ক্ষমতাসীন দল? বিরোধী দল? জাতীয় সংসদের সরকারদলীয় সদস্যরা? মন্ত্রিসভা? সরকারি দলের এমপি ও বর্তমান বড় দুই দলের প্রথম কাতারের নেতাদের মুখের দিকে তাকিয়ে বলুন তো, এই উদ্যোগ নেওয়া তাঁদের পক্ষে সম্ভব কি না? 
অথচ এই দুর্বলতাগুলো আমাদের রাজনীতি ও গণতন্ত্রের পথে বড় বাধা। আমরা যে আজ একটি পিছিয়ে পড়া দেশ, তার জন্য আমাদের দুর্বল নেতৃত্বই দায়ী। কিন্তু দেশে জ্ঞানী, বিশেষজ্ঞ, অভিজ্ঞ ও মেধাবী লোকের অভাব নেই। এমনকি প্রবাসীদের মধ্যেও অনেক বিশেষজ্ঞ রয়েছেন। কিন্তু সরকারপ্রধান নিজ দল ছাড়া অন্য কারও বিশেষজ্ঞসহায়তা নিতে আগ্রহী হন না। আজ যদি দেশে প্রধানমন্ত্রীর একক কর্তৃত্বে বা শুধু দলীয় কর্তৃত্বে উন্নয়ন কর্মসূচি বা কৌশল গৃহীত না হতো, সম্ভাব্য সব মেধাবী ও বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ত করা হতো, তাহলে দেশের অবস্থা আরও ভালো হতো। 
আমাদের সংসদীয় গণতন্ত্রের দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে তার সমাধান নিয়ে জোরদার আলোচনা করা দরকার। দুঃখের বিষয়, সে রকম আলোচনা কমই হয়। সংসদীয় গণতন্ত্রে প্রত্যেক মন্ত্রীর যে ক্ষমতা ও স্বাধীনতা রয়েছে, তা প্রতিষ্ঠা করা দরকার। ‘মন্ত্রণালয়ের কাজে মন্ত্রীই শেষ কথা’—এই রীতি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। দক্ষ ও অভিজ্ঞ এমপিদের মন্ত্রী করতে হবে। প্রকাশ্যে প্রধানমন্ত্রী, আর নেপথ্যে দলের হাই কমান্ড ‘মন্ত্রিসভা’ গঠন করার রীতি চালু করতে হবে। সংবিধান সংশোধন করে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা কমাতে হবে। সেই সঙ্গে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়াতে হবে। রাষ্ট্রপতি নিছক একজন হুকুমবরদার হতে পারেন না। দলের গঠনতন্ত্রে নানা পরিবর্তন আনতে হবে। ‘দলপ্রধান’ ও ‘সরকারপ্রধান’ কখনো এক ব্যক্তি হতে পারবেন না। কোনো নেতা দুবারের বেশি (পর পর বা বিরতি দিয়ে হলেও) প্রধানমন্ত্রী বা দলপ্রধান হতে পারবেন না। উপদেষ্টাদের অবস্থান মন্ত্রীর ওপরে হবে না। প্রধানমন্ত্রী বড় মাপের সিদ্ধান্তে মতামত দেবেন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজে সমন্বয় ও বড় মাপের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো মনিটরিং করবেন। মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণার মতো তুচ্ছ রুটিন কাজে শুধু প্রধানমন্ত্রী নয়, শিক্ষামন্ত্রীরও জড়িত হওয়া উচিত নয়। এটা বোর্ডের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব। বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাজও আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিয়ে গেছি। ‘প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়’ বলে কোনো আলাদা ভবন থাকা উচিত নয়। সচিবালয়েই অন্য মন্ত্রীর মতো প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থাকবে। 
আমাদের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞরা ‘সংসদীয় গণতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য’ নিয়ে আলোচনা করলে দুই দল কিছুটা শিখতে পারত। এগুলো আমাদের মূল ও বড় মাপের ত্রুটি। ছোট ত্রুটি দূর করার আগে বড় ত্রুটিগুলো সংশোধন করা দরকার। 
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর: মিডিয়া ও উন্নয়নকর্মী।