Thursday, January 02, 2014

২০১৩ সাল ছিল রাজনৈতিক সহিংসতার বছর

ঘটেছে রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি, হেফাজতের তাণ্ডব

-আবুল খায়ের ও জামিউল আহসান সিপু
দেখতে দেখতে আরো একটি ইংরেজি বছর পার হলো। সদ্য বিদায় হওয়া বছরটি ছিল রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে আলোচিত বছর। শুধু রাজনৈতিক কারণে এ বছর মৃত্যু হয়েছে ৪৯৬ জনের। আর সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণে প্রায় ৮ হাজার ব্যক্তিকে মৃত্যুর মিছিলে যোগ দিতে হয়েছে। এদের মধ্যে শুধু সাভারের রানা প্লাজা ট্রাজেডিতে ১১শ ৩৪ ব্যক্তি নিহত হন। সারাদেশে ৪ হাজার ব্যক্তি খুনের শিকার হন। আর সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন আড়াই হাজার ব্যক্তি। বিদায়ী এ বছর থেকে সবারই প্রত্যাশা নতুন এ বছরে যেন এসব রাজনৈতিক সহিংসতা ও খুন না ঘটে। 

বিদায়ী বছরের শুরু থেকে রাজপথে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশের গুলিতে বিরোধী জোটের আন্দোলনকারীরা যেমন নিহত হয়েছেন, তেমনি চলন্ত বাসে পেট্রোল বোমা হামলা চালিয়ে হত্যা করা হয়েছে সাধারণ মানুষকে। ককটেল-হাত বোমা হামলার ঘটনার তো কোন হিসেব নেই। মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পরিসংখ্যান বলছে, গেল বছরে রাজনৈতিক সহিংসতার শিকার হয়ে জীবন দিতে হয়েছে ৪৯৬ জনকে। ৮৩১টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, তাতে আহত হয়েছেন ২২ হাজারেরও বেশি মানুষ। আর এর মধ্যে ৯৫ জন আগুনে পুড়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, তাদের মধ্যে ২২ জন মারা গেছেন। পুলিশ সদর দফতরের এক হিসাব থেকে জানা যায়, বিদায়ী বছরে বিভিন্নভাবে খুন হয়েছেন ৪ হাজার জন। 

বছরের শুরুতেই ২৯ জানুয়ারি জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার কার্যক্রম শেষ হয়। ওই দিনই হরতাল দেয় জামায়াত, প্রাণ যায় তিনজনের। এরপর ২৮ ফেব্রুয়ারি সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয়া হলে দেশের বিভিন্ন জেলায় সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। এই সহিংতায় ১৮ জেলায় ৭৭ জন প্রাণ হারান বলে তথ্য সংগ্রহ করেছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র।

২৪ এপ্রিল সাভারে রানা প্লাজা ধসে পড়লে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি ঘটে। এতে ১১শ'৩৪ জনের প্রাণহানি ঘটে। আহত হয় ৪শ জন। এদের মধ্যে প্রায় দেড়শ' জন চিরদিনের জন্য পঙ্গুত্ববরণ করেন। ২০ দিন ধরে চলে উদ্ধার কাজ। রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি শেষ না হওয়ার আগেই ৫ মে মতিঝিলে সমাবেশ করে হেফাজতে ইসলাম। সমাবেশ করে তাদের ওই দিনই ফিরে যাওয়ার কথা থাকলেও রাতে তারা মতিঝিলের শাপলা চত্বরে অবস্থান নেয়। এর আগে দিনব্যাপী পুলিশের সঙ্গে হেফাজত নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়।

মতিঝিল-পল্টন এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায় হেফাজত নেতাকর্মীরা। রাতে হেফাজত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালায় র্যাব ও পুলিশ। এই সহিংসতায় সব মিলিয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। যদিও হেফাজত বা অন্যদের হিসেবে এই সংখ্যা অনেক বেশি। এই নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেয়ার জন্য অধিকারের সম্পাদক আদিলুর রহমান খানকে গ্রেফতার করা হয়।

সাংবাদিক পেটানোর ঘটনায় বছর জুড়ে সংসদ সদস্যদের মধ্যে গোলাম মওলা রনি আলোচিত ছিলেন। ২৪ জুলাই একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের দুই সংবাদকর্মীর ওপর হামলার ঘটনায় গোয়েন্দা পুলিশ রনিকে গ্রেফতার করে। তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় আদালত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। 

১৪ আগস্ট রাজধানীর শান্তিনগরে একটি ফ্ল্যাট থেকে সিআইডির ইন্সপেক্টর মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রী স্বপ্না রহমানের জবাই করা লাশ উদ্ধার করা হয়। এক মাত্র কন্যা ঐশীর হাতে বাবা-মা খুন হওয়ার ঘটনায় সারাদেশে সামাজিকভাবে আলোচনার ঝড় বইতে থাকে। মেয়ের হাতে বাবা-মা খুনের ঘটনা দেশে এটিই প্রথম। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সামাজিক বন্ধনের যেন অবক্ষয় না ঘটে সে ব্যাপারে সমাজ বিজ্ঞানীরা সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। 

বছরের শেষের দিকে এসে ২১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় রাজধানীর আর.কে মিশন রোডের একটি ফ্ল্যাটে ৬ জনকে জবাই করে হত্যা করা হয়। কথিত ইমাম মাহাদীর প্রধান সেনাপতি দাবিদার লুত্ফুর রহমান ফারুক, তার ছেলে সারোয়ার ইসলাম মনি ও ৪ অনুসারীকে জবাই করা হয়। এই খুনের পিছনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সন্দেহের তীর ছুঁড়েছে ধর্মীয় জঙ্গি গোষ্ঠীর দিকে। 

নির্বাচনকালীন সরকার প্রশ্নে টানা আন্দোলন শুরু করে বিরোধী জোট। শেষ পর্যন্ত তফসিল ঘোষণা হলে ২৫ নভেম্বর থেকে টানা অবরোধ কর্মসূচি শুরু করে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট। ঐ দিনের পর থেকে ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত রাজনৈতিক সহিংসতায় অন্তত ১২৫ জন মানুষ নিহত হন। এই অবস্থার মধ্যে বছরের শেষ সময়ে এসে জামায়াত নেতা আবদুল কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর করা হয়।

২৪ ডিসেম্বর গভীর রাতে রামপুরা ওয়াপদা রোডে নিজ বাসায় ইত্তেফাক সাবেক প্রবীণ ফটো-সাংবাদিক খুন হয়েছেন।

পুলিশ সদর দফতরের এক হিসেবে দেখা গেছে, গেল বছর হরতাল অবরোধের সহিংসতায় সারাদেশে পুলিশের ১৫ সদস্য নিহত হয়েছেন। আর এ সময় আহত হয়েছেন পুলিশের প্রায় আড়াই হাজার সদস্য। এরমধ্যে যশোরে নিহত হন কনস্টেবল কাজী জহুরুল হক, গাইবান্ধার বাবুল মিয়া, হযরত আলী, তোজাম্মেল হোসেন, নীলফামারীতে খাজা নাজিম উদ্দিন আকন্দ, চট্টগ্রামে আবু তারেক, ঝিনাইদহে জিএম ওমর ফারুক, রংপুরে মোজাহার আলী, রাজশাহীতে কনস্টেবল সিদ্ধার্থ রায় ও খুলনায় মফিজুর রহমান। আর হেফাজতের হামলায় রাজধানীতে মারা যান এসআই শাহজাহান, গোপালগঞ্জে নায়েক ফিরোজ খান ও কনস্টেবল মোহাম্মদ জাকারিয়া। নারায়ণগঞ্জে নিহত হন বিজিবির দুই সদস্য।

সন্ত্রাসবাদ, সংঘাত ও ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার - মোহাম্মদ জমির

সম্প্রতি 'সিএনএন'-এ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের সন্ত্রাসবাদ, সংঘাত এবং শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন সম্পর্কে আলোচনা শুনছিলাম। এই আলোচনার বিষয় ছিল মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা আর পূর্ব আফ্রিকার রাজনৈতিক সহিংসতা। আলোচকেরা যুক্তরাজ্যের নিরাপত্তা বিশ্লেষণ ফার্ম 'ম্যাপ্লিক্রফট' (maplecroft)-এর বিশ্বব্যাপী রাজনৈতিক স্থিতিহীনতা বৃদ্ধির প্রতিবেদন নিয়ে আলোচনা করছিলেন। তাঁদের প্রতিবেদনের মূল বিষয় ছিল নিরাপত্তা ঝুঁকি, বিশেষ করে সরকারের প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর কর্তৃত্ব, গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে শাসন ব্যবস্থা থেকে বিতাড়ন এবং বিদেশি মালিকানাধীন সম্পদ দখলমুক্ত করা। তাঁদের গবেষণা থেকে আরও বেরিয়ে এসেছে বিশ্বের ১৯৭টি দেশে কিভাবে রাজনৈতিক ইস্যু ব্যবসার পরিবেশের উপর প্রভাব ফেলছে। আমার এই আলোচনার ওপর বিশেষ মনোযোগ দেয়ার কারণ হল সমপ্রতি আমাদের দেশের রাজনৈতিক অবস্থার অবনতি। 


আলোচনা থেকে দেখা গেল ২০১০ সাল থেকে সবচেয়ে অবনতি ঘটেছে সিরিয়ার। প্রতিবেদনটিতে দেশটির অবস্থান এখন ২য়। সোমালিয়া এর র্যাংকিংয়ে প্রথম। এছাড়া প্রথম ৫-এর মধ্যে রয়েছে আফগানিস্তান, সুদান এবং কঙ্গো। প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ মুরসির পতন এবং সিনাই পেনিনসুলাই সন্ত্রাসবাদীদের আক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রথমবারের মতো 'চরম ঝুঁকিপূর্ণ' দেশ হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে মিশর। 'ম্যাপ্লিক্রফট' আরও সতর্ক করছে সিরিয়া, মিশর আর লিবিয়া এখন এতো খারাপ পরিস্থিতিতে আছে যে, সামনের বছরগুলোতে মারাত্মক রাজনৈতিক ঝুঁকির মধ্যে পড়তে যাচ্ছে। অপরপক্ষে এই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে ফিলিপাইন, ভারত এবং উগান্ডার রাজনৈতিক সহিংসতা বিগত চার বছরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ হরাস পেয়েছে। একই সময়ে শাসন ব্যবস্থার উন্নতির ফলে মালয়েশিয়া এবং ইসরাইলে নিরাপত্তা ঝুঁকি অনেক কমে এসেছে। এই প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ, বেলারুশ, চীন, কাজাখিস্থান এবং ভিয়েতনামে রাজনৈতিক পরিস্থিতি এতো খারাপের দিকে যাবে যার ফলে সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে।

'ম্যাপ্লিক্রফট' বলছে, গণতান্ত্রিক স্বাধীনতার অভাব, রাজনৈতিক ঠুনকো অবস্থা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিবাদকারীদের প্রতি নিষ্ঠুরতা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং কর্মপরিবেশের অভাব এই বিশৃঙ্খলার কারণ হতে পারে। সংস্থাটির জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক Charlotte Ingham মনে করেন উপরোক্ত কারণে রাজনৈতিক স্থিতিহীনতার ফলাফল হতে পারে মধ্য থেকে দীর্ঘমেয়াদি। প্রতিবেদনটিতে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে যে, স্বল্প মেয়াদে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এসব অঞ্চলে বেশ বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারেন। এমনকি ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে তাঁদের কোম্পানির সুনামও। এতে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক স্থিতিহীনতার রাজনীতি এসকল দেশের যুব সমপ্রদায়ের প্রযুক্তিবিদ্যা এবং রাজনৈতিক চিন্তার মধ্যে দূরত্ব তৈরি করতে পারে। যেমন- ২০১০ সালের আরব বসন্তের পর লিবিয়া, তিউনিসিয়া, ইরান, সিরিয়া এবং মিশরে রাজনৈতিক স্বাধীনতা এবং সামাজিক প্রাপ্তির মধ্যে বিশাল ব্যবধানের সৃষ্টি হয়। 

'ম্যাপ্লিক্রফট' ভবিষ্যদ্বাণী করছে, ২০১৪ সালে রাজনৈতিক স্বাধীনতা এবং সামাজিক প্রাপ্তির মধ্যকার ভারসাম্যহীনতার কারণে বাহরাইন, আজারবাইজান এবং দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশে রাজনৈতিক ঝুঁকি তীব্র থেকে তীব্রতর হবে। সংস্থাটি বলছে, চীনের শাসন ব্যবস্থাতে যে সংস্কার আনা হয়েছে তাতে এখানে গণঅভ্যুত্থানের সুযোগ কম। ভিয়েতনামে যেভাবে সামাজিক মাধ্যমগুলোর শাস্তি এবং বিরোধীদলের বাক স্বাধীনতা খর্ব করা হচ্ছে তা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে দুর্বল করবে। সবচেয়ে বেশি অস্থিতিশীল থাকবে পূর্ব আফ্রিকার দেশগুলো। সোমালিয়ার উদাহরণ দিয়ে সিএনএন-এ বলা হয় রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার মধ্যে থাকবে সন্ত্রাসবাদ, দুর্বল শাসন ব্যবস্থা এবং গণঅভ্যুত্থান। প্রতিবেদনে সুদান এবং দক্ষিণ সুদানকে 'চরম ঝুঁকিপূর্ণ' এবং কেনিয়া ও ইথিওপিয়াকে 'উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ' এবং ইরিথিয়া, তানজানিয়া, মোজাম্বিককে 'ঝুঁকিপূর্ণ' ক্যাটাগরিতে ফেলা হয়েছে। আরব বসন্তের তিন বছর পরের অবস্থা উঠে এসেছে প্রতিবেদনটিতে। এতে বলা হয়েছে, আরব বসন্তের তিন বছর পরও মধ্যপ্রাচ্য আর পূর্ব আফ্রিকার দেশগুলো রাজনৈতিক সহিংসতার উত্থান দেখেছে। দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক সহিংসতা এসব অঞ্চলের পরিবর্তনের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বিশ্লেষণটি কৌশলগতভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্লেষণটি থেকে দেখা যায় কিভাবে এই সময়কার সন্ত্রাসবাদীরা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করে, কিভাবে সাইবার জগতের সদ্ব্যবহার করে এবং তাঁদের লক্ষ্য পূরণে কিভাবে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে। 

২০১৩ সালের ২ নভেম্বর এ বিষয়ে বিবিসিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ কলাম লেখেন ফ্রাংক গার্ডনার। লেখাটির শিরোনাম ছিল 'কিভাবে সন্ত্রাসবাদীরা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রাখে?' এই লেখায় তিনি উল্লেখ করেছেন যে, সন্ত্রাসীরা দুই রকম বার্তা প্রেরণ করে- গোপনীয় আর পাবলিক। কিন্তু এই দুটো ক্ষেত্রেই আসল প্রেরকের শনাক্ত হওয়ার ঝুঁকি থেকেই যায়। চতুর সন্ত্রাসবাদীরা তাঁদের এই 'ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট' রেখে যাওয়া সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত। এর সূত্র ধরে তাদের সন্ধান পাওয়া এবং শনাক্তকরণও সহজ। তারা এও জানে যে, ইন্টারনেটে অপরাধী বা সন্ত্রাস পরিকল্পনাকারীদের জন্য বার্তা লুকানো এবং মুক্ত যোগাযোগ কঠিন। ধরা পড়ার ভয় থেকেই যায়। এই সতর্কতা থেকেই সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলোকে নিজেদের মৌলিক পন্থা তৈরি করে নিয়েছে। পরিস্থিতিই তাদেরকে এধরনের কৌশল অবলম্বনে বাধ্য করেছে। এরফলে তাদের ধরা পড়ার সম্ভাবনাও কমেছে। এ সম্পর্কে উদাহরণ হিসাবে বলা যায় নরওয়ের গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত এন্ডারস ব্রিভিরিকের নাম। ২০১১ সালের আগে দীর্ঘ ৪ বছর তিনি সামজিক যোগাযোগ করেননি কারো সাথে! তিনি আরও যে সকল সতর্কতা অবলম্বন করেছিলেন তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল সিম বা চিপ দোকান থেকে বেনামে কিনে একবার ব্যবহারের পর ফেলে দিতেন। মজার ব্যাপার হল রাশিয়া এবং চীনের বিভিন্ন সংস্থার নির্বাহীরাও এখন তাঁদের মোবাইল হ্যাক হওয়ার ভয়ে একই কাজ করেন। 

আর কম্পিউটারের এ যুগেও ইন্টারনেটকে বোকা বানাতে একজন চতুর সন্ত্রাসী অন্যকে বার্তা পাঠাতে সেন্ড বাটন টিপছেন না। তিনি তার বার্তাটা লিখে ড্রাফ্?ট বক্সে সেভ করে রাখছেন। যার উদ্দেশ্যে তিনি লিখছেন তার কাছেও থাকছে এই প্রেরকের ইমেইল বা ড্রাফট বক্স লগইন করার পাসওয়ার্ড। ফলে এই বার্তাটা আর ইন্টারনেটে যাচ্ছে না! প্রাপক পড়ার পর যদি উত্তর দেয়ার ইচ্ছা থাকে তো সেখানেই দিয়ে লগ আউট করে নিচ্ছে। বর্তমানে সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনাকারীদের কোড এবং রুপক ব্যবহার করার প্রবণতা বেড়েছে। যেমনটি ৯/১১'র দু'জন পরিকল্পনাকারী মোঃ আট্টা (md atta) এবং রামজি বিনালশিভ (ramzibinalshibh) ব্যবহার করেছিলেন। তাঁদের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের কোড ছিল 'architecture', পেন্টাগনের 'arts' এবং হোয়াইট হাউজের কোড 'politics'। এছাড়া সন্ত্রাসীরা ব্যবহার করছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, চ্যাট রুম এবং অনলাইন গেম! এছাড়া অনলাইন ফোরাম-এ যোগ দিতে পাসওয়ার্ড দিতে হয়। অনলাইন ফোরামের মাধ্যমে মাঝে মাঝে নজরদারি চলে সেখানকার সদস্যদের উপর। এছাড়া ইউএসবি স্টিকস, জেপিইজি এবং জিআইএফ ফর্মেটেও গোপন তথ্য আদান-প্রদান চলে। এমনকি স্যাটেলাইট ফোন ব্যবহারেও তারা চূড়ান্ত সতর্কতা অবলম্বন করে থাকে। কুরিয়ারের মাধ্যমেও এখন সন্ত্রাসবাদ চলছে। কিন্তু এই কুরিয়ার হিসাবে যে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কাজ করে তাকে অনুসরণ করেও সন্ত্রাসীর আস্তানায় পৌঁছে যাওয়া সম্ভব, যার প্রমাণ ২০১১ সালে ইউএস নেভি সিলের হাতে লাদেন হত্যা। এই সকল প্রযুক্তিই এখন বাংলাদেশে এসেছে। এবং দেশের অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসী গোষ্ঠী এ সকল প্রযুক্তি অবশ্যই নেতিবাচক কাজে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। আমরা এরই মাঝে একাধিক ঘটনা এদেশে দেখেও ফেলেছি। ডিজিটাল প্রযুক্তি আর সাইবার স্পেস নিজেদের সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থ সিদ্ধির জন্য এবং ধ্বংসাত্মক কাজে ব্যবহার হচ্ছে। গণতান্ত্রিক অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। একই সময়ে ধর্মীয় মতাদর্শের মধ্যে দ্বন্দ্ব্ব সৃষ্টি করা হচ্ছে এ সকল প্রযুক্তি ব্যবহার করে। শুধু একটিই আশা, আমরা নিরাপদ, সময়োপযোগী এবং কার্যকর সাইবার নিরাপত্তা ম্যাকানিজম গড়ে তুলবো। যাতে করে সন্ত্রাসবাদীরা মাথাচাড়া দিয়ে না উঠতে পারে এবং বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে ভবিষ্যতে না দাঁড়াতে পারে। যদি তারা সফল হয় তবে আমাদের দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ভেঙ্গে পড়বে এবং আমাদের দেশ ব্যর্থ রাষ্ট্রে পর্যবসিত হতে পারে। আমাদের মনে রাখতে হবে, চরম শাস্তিমূলক ব্যবস্থা কখনোই কোন সমস্যার সম্পূর্ণ সমাধান দিতে পারে না। তবে সরকারি প্রচেষ্টার মাধ্যমে যারা সন্ত্রাসবাদে লিপ্ত তাদেরকে ফিরিয়ে নিয়ে আসার জন্যে গঠনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা বাঞ্ছনীয়।

লেখক :সাবেক রাষ্ট্রদূত ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক

ভাষান্তর :লিপটন কুমার দেব দাস

Wednesday, October 23, 2013

৩৪তম বিসিএস লিখিত পরীক্ষা-২০১৩

বাংলা ১ম পত্র (সাজেশন্স)

ক. অনধিক ২০টি বাক্যে ভাব-সম্প্রসারণ:
১। অর্থই অনর্থের মূল।
২। আপনি আচরি ধর্ম পরকে বোঝাও।
৩। গতিই জীবন, স্থিতিতে মৃত্যু।
৪। কীর্তি মানের মৃত্যু নাই।
৫। দুর্নীতি জাতীয় জীবনে অভিশাপ স্বরূপ।
৬। পথ পথিকের সৃষ্টি করে না, পথিকই পথ সৃষ্টি করে।
৭। বিদ্যার সাধনা শিষ্যকে অর্জন করতে হয়, গুরু উত্তর সাধক মাত্র।
৮। বিত্ত হতে চিত্ত বড়।
৯। বুদ্ধি যার বল তার।
১০। বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে।
১১। মঙ্গল করিবার শক্তিই ধন, বিলাস ধন নহে।
১২। যে সহে, সে রহে।
১৩। সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই।
১৪। কর্তব্যের কাছে ভাই বন্ধু কেউ নেই।
১৫। জন্ম হোক যথা তথা কর্ম হোক ভাল।
১৬। সবুরে মেওয়া ফলে।
১৭। সকলের তরে সকলে আমরা প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।
১৮। তেলের মাথায় তেল দেওয়া মনুষ্য জাতির সেবা
১৯। সবলের পরিচয় আত্মপ্রসারে আর দুর্বলের স্বস্তি আত্ম গপনে।
২০। স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে স্বাধীনতা রা করা কঠিন।
এবং কনফিডেন্স প্রদত্ত লেকচার নোট।

খ. সারাংশ ও সারমর্ম :
১। মানুষের মূল্য কোথায়? ----------- চরিত্রবান মানে এই।
২। জীবন বৃরে শাখায় ----------- সার্থক ও ভারমুক্ত।
৩। অভ্যাস ভয়ানক জিনিস ----------- তাহলে সব পণ্ড হবে।
৪। নীরব ভাষায় বৃ আমাদের ----------- অন্তরের যে পরিপক্বতা, তাই তো আত্মা।
৫। বাল্যকাল হইতে ----------- স্বভাবিক নিয়মে ফল লাভ করে।
৬। কোন পাথের নিয়ে এসেছ? ----------- প্রয়োজন মানুষের শিা।
৭। এই সব মূঢ় ম্লান মুখে ----------- মনে মনে।
৮। জাতিতে জাতিতে ----------- নহে কিছু তাহার অধিক।
৯। শৈশবে সদুপদেশ ------- না আসিলে ফিরে।
১০। অদ্ভুত আঁধার এক -------আজ তাঁদের হৃদয়।
১১। হে দারিদ্র্য তুমি মোরে করেছ মহান ------- হেরি কল্পলোক।
১২। বৈরাগ্য সাধনে মুক্তি সে আমার নয় ------- তোমারি মন্দির মাঝে।
১৩। বিপুলা এ পৃথিবীর ------- এক কোণ।
১৪। এ দুর্ভাগ্য দেশ হতে ------- চূর্ণ করি দূর কর।
১৫। আঠারো বছর বয়সে আঘাত আসে ------- এ বয়স নতুন কিছু তো করে।
১৬। এসেছে নতুন শিশু------------দৃঢ় অঙ্গীকার।
১৭। দন্ডিতের সাথে -------------তুমি তার কাছে।
১৮। কীসে হয় মর্যাদা------------বলবো
১৯। মাতৃস্নেহের -----------------সে কথা বুঝে না।
২০। ভবিষ্যতের ভাবনা ভাবাই------------একবার ভেবে দেখা উচিত।
এবং কনফিডেন্স প্রদত্ত লেকচার নোট।
প্রবাদ বাক্য:
ছয়টি পূর্ণবাক্যে নিহিতার্থ প্রকাশ :
১। কাকের বাসায় কোকিলের ছা, জাত স্বভাবে করে রা।
২। গেয়ো যোগী ভিখ পায় না।
৩। রোম নগরী একদিনে গড়িয়া উঠে নাই।
৪। সবুরে মেওয়া ফলে।
৫। অতি দর্পে হত লঙ্কা।
৬। হাতের ল²ী পায়ে ঠেলা।
৭। সাবধানের মার নেই।
৮। উচিত কথায় বন্ধু বেজার।
৯। গো মড়কে মুচির পার্বণ।
১০। মুঘল পাঠান হদ্দ হল ফার্সি পড়েন তাঁতি।
১১। ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়।
১২। এক মাঘে শীত যায় না।
১৩। কাক কোকিলের একই বর্ণ
স্বরে কিন্তু ভিন্ন ভিন্ন ।
১৪। কাজের বেলায় কাজী কাজ ফুরালে পাজী।
১৫। কষ্ট না করিলে কেষ্ট মেলে না।
১৬। গাইতে গাইতে গায়েন, বাজাতে বাজাতে বায়েন।
১৭। চকচক করলেই সোনা হয় না।
১৮। তেল মাথায় তেল দেয়া মনুষ্য জাতির রোগ।
১৯। দশের লাঠি একের বোঝা।
২০। ধর্মের ঢাক আপনি বাজে।
২১। নাচতে না জানলে উঠানের দোষ।
২২। নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?
২৩। বড়র পিরীতি বালির বাঁধ।
২৪। মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।
২৫। যতনে রতন মেলে।
২৬। যেমন কর্ম তেমন ফল।
২৭। লোভে পাপ পাপে মৃত্যু।
২৮। সঙ্গদোষে লোহা ভাসে।
২৯। সময়ের এক ফোঁড়, অসময়ের দশ ফোঁড়।
৩০। সবার উপরে মানুষ সত্য/তাহার উপরে নাই।
পারিভাষিক শব্দ

দপ্তর (ঙভভরপব), সনদ (ঈযধৎঃবৎ), নিষেধাজ্ঞা (ঊসনবৎমড়), গণভোট (জবভবৎবহফঁস), বিচারাধীন (ঝঁনলঁফরপব), অচলবস্থা (উবধফষড়পশ), তদর্থক (অফ-যড়প), প্রতিজ্ঞা পত্র; মুচলেকা (ইড়হফ), এজলাস (ইবহপয), খাজাঞ্চি (ঈধংযরবৎ), নির্দেশক, সূচক, নির্ঘণ্ট (ওহফবী), বিজ্ঞপ্তি (ঘড়ঃরপব), প্রজ্ঞাপন (ঘড়ঃরভরপধঃরড়হ), প্রজ্ঞাপিত করা (ঘড়ঃরভু), শপথ, হলফনামা (ঙধঃয), লিপি (ঝবৎরঢ়ঃ), পোষক (ঝঢ়ড়হংড়ৎ), শুল্ক কর (ঞধৎরভভ ফঁঃরবং), জ্ঞাতার্থে প্রেরণ (জবভবৎ), নিয়ন্ত্রক, নিয়ামক (ঈড়হঃৎড়ষষবৎ), পাট্টা (ষবধংব), উর্দি (ঁহরভড়ৎস), শপথ নামা, হলফনামা (অভভরফধারঃ) মূল্যপত্র (ইরষষ), জ্ঞানপত্র (ইঁষষবঃরহ), হেফাজত (ঈঁংঃড়ফু), শঙ্কর (ঐুনৎরফং), সস্পুরক, সহায়ক, উপ (ঝঁনংরফরধৎু), প্রদর্শন (ঝযড়)ি, পরিশিষ্ট (অঢ়ঢ়বহফরী), প্রতিলিপি (ঈড়ঢ়ু), বাট্টা (উরংপড়ঁহঃ), সিদ্ধান্ত গ্রহণ (জবংড়ষঁঃরড়হ), মন্তব্য (ঘড়ঃব), পরিপত্র (ঈরৎপঁষধৎ), ছদ্মনাম (চবহ-হধসব), সামরিক (গধৎঃধষ), স্বত্ব, হক, উপাধি নাম (ঞরঃবষ), জব্দ করা (ঝপরুব), সমাহর্তা (ঈড়ষষবপঃড়ৎ), কারাধ্য (ঔধরষধৎ), উপশুল্ক (ঞড়ষষ), বাণিজ্যদূত (ঈড়হংঁষ), কারণিক (ঈষবধৎশ), বিনির্দেশ (জঁষরহম), প্রচারপত্র (খবধভষবঃ), অনুপাত (জধঃরড়), দলিল (উববফ), উখা, রেতি, রেত, নথি (ঋরষব), মাসুল (ঋবব), ব্যবস্থা (অপঃরড়হ), অভিযোজন (অফধঢ়ঃধঃরড়হ), বন্ধক (অমৎববসবহঃ), ভাতা (অষষড়ধিহপব), ঘোষণা (অহহড়ঁহপবসবহঃ), বকেয়া (অৎৎবধৎ), হাজিরা (অঃঃবহফধহপব), আত্মজীবনী (অঁঃড়নরড়মৎধঢ়যু), চুক্তি (ঈড়হঃৎধপঃ), প্রতিনিধি (উবষবমধঃব), কূটনীতিক (উরঢ়ষড়সধঃ), সম্পাদক (ঊফরঃড়ৎ), প্রবাসী (ঊসরমৎধহঃ), তিপূরণ বা খেসারত (ঋড়ৎভবরঃ), প্রজন্ম (এবহবঃধঃরড়হ), লেখ (এৎধঢ়য), মহাসড়ক (ঐরমযধিু), বৃদ্ধি (ওহপৎরসবহঃ), বৃদ্ধিজীবী (ওহঃবষষবপঃঁধষ), তদন্ত (ওহাবংঃরমধঃরড়হ), শ্রম (খধনড়ঁৎ), ব্যবস্থাপনা (গধহধমবসবহঃ), মন্ত্রণালয় (গরহরংঃৎু), শবাগার (গড়ৎমঁব), পুষ্টি (ঘঁঃৎরঃরড়হ), উৎপাদন (ঙঁঃঢ়ঁঃ),দরপত্র (ছঁড়ঃধঃরড়হ), আঞ্চলিক (জবমরড়হধষ), স্থলাভিষিক্ত (জবঢ়ষধপবসবহঃ), পরিকল্পনা (ঝপযবসব), সংহতি (ঝড়ষরফধৎরঃু), প্রশংসাপত্র (ঞবংঃরসড়হরধষ), আদিবাসী (ঞৎরনধষ), অবকাশ (ঠধপধঃরড়হ), হুঁশিয়ারি (ডধৎহরহম), কারখানা (ডড়ৎশংযড়ঢ়), আঞ্চলিক (তড়হধষ), অষষড়ঃসবহঃ (বরাদ্দ), ইধহশৎঁঢ়ঃ (দেউলিয়া), ঈযধৎঃবৎ (সনদ), ঙসনঁফংসধহ (ন্যায়পাল), ওহধঁমঁৎধঃরড়হ (অভিষেক), ঊহঃবৎঢ়ৎরংব (সাহসী উদ্যোগ)।

বাংলা সাহিত্য

চর্যাপদ
১। চর্যাপদ কে, কবে, কোথা থেকে আবিষ্কার করেন? কে, কবে কোথা থেকে তা প্রকাশ করেন?
২। চর্যাপদের বিষয়বস্তু লিখুন।
৩। চর্যাপদে বিধৃত তৎকালীন সমাজচিত্র লিখুন।
৪। চর্যাপদের ভাষা সম্পর্কে লিখুন।
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য
১। শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের পরিচয় প্রদান করুন।
২। শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের প্রধান চরিত্রের পরিচয় প্রদান করুন।
বৈষ্ণবপদাবলী
১। বৈষ্ণবপদাবলী বলতে কী বোঝেন?
২। বৈষ্ণবপদাবলীর তিন জন কবির নাম লিখুন।
৩। ব্রজবুলি বলতে কী বোঝেন?
মঙ্গলকাব্য
১। মঙ্গলকাব্য বলতে কী বোঝেন?
২। মঙ্গলকাব্যের নামকরণ লিখুন।
৩। চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের পরিচয় দিন।
৪। চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের শ্রেষ্ঠ কবি কে? তাকে কেন শ্রেষ্ঠ কবি বলা হয়েছে?
৫। মধ্যযুগের শেষ কবি কে? তাকে কেন মধ্যযুগের শেষ কবি বলা হয়েছে?

রোমান্টিক কাব্য
১। রোমান্টিক কাব্য বলতে কী বোঝেন? কবির নাম সহ পাঁচটি রোমান্টিক কাব্যের নাম লিখুন।
ফার্ট উইলিয়াম কলেজ
১। ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পরিচয় প্রদান করুন।
২। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে কোন বিদেশির ভূমিকা সবচেয়ে বেশি? তার সম্পর্কে লিখুন।
৩। ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পাঁচ পণ্ডিতের নাম ও তাদের সাহিত্য কর্মের পরিচয় দিন।
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
(
১৮২০-১৮৯১)
১। ইশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে বাংলা গদ্যের জনক বলা হয় কেন?
২। বিদ্যাসাগরের মৌলিক গ্রন্থগুলোর পরিচয় প্রদান করুন।
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
(
১৮২৪-১৮৭৩)
১। আধুনিক বাংলা কাব্যে মাইকেলের অবদান সমূহ লিখুন।
২। মহাকাব্য বলতে কী বোঝেন? মহাকাব্য কত প্রকার ও কী কী? মহাকাব্যের বৈশিষ্ট্য লিখুন।
৩। মেঘনাবধ কাব্যের পরিচয় দিন।
মীর মশাররফ হোসেন
১। মুসলিম গদ্য লেখক হিসেবে মীর মশাররফ হোসেনের অবদান লিখুন।
২। কারবালার কাহিনী নিয়ে ইংরেজ আসনে কে গ্রন্থ রচনা করেন? লেখক ও গ্রন্থ সম্পর্কে লিখুন।
৩। মীর মশাররফ হোসেনের সাহিত্য কর্মের পরিচয় দিন।
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
(
১৮৩৮-৯৪)
১। বঙ্কিমকে বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয়েছে কেন?
২। দুর্গেশনন্দিনী কার লেখা? এ উপন্যাসের প্রতিপাদ্য কী?
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
(
১৮৭৬-১৯৩৮)
১। বাংলা সাহিত্যে অপরাজেয় কথাশিল্পী কে? কেন অপরাজেয় কথাশিল্পী হিসেবে পরিচিত?
২। শরৎচন্দ্রের উপন্যাসের বৈশিষ্টগুলো লিখুন।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
(
১৮৬১-১৯৪১)
ছোটগল্প
১। ছোটগল্প কী? ছোটগল্পের বৈশিষ্ট্যগুলো লিখুন।
কাব্য
১। রবীন্দ্রকাব্যের বৈশিষ্ট্য কী?
২। গীতাঞ্জলি কাব্যের পরচয় দিন।
দীনবন্ধু মিত্র
১। ‘নীলদর্পণ’ নাটকের সাহিত্যিক মূল্যের চেয়ে সামাজিক মূল্য বেশি।” মন্তব্যটির পে লিখুন।
২। দীনবন্ধু মিত্রের উলে­খযোগ্য নাটকগুলোর পরিচয় দিন।
বেগম রোকেয়া
(
১৮৮০-১৯৩২)
১। “বেগম রোকেয়াই বাংলা সাহিত্যে প্রথম নারীবাদী লেখক” কথাটি বুঝিয়ে দিন।
২। বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন কেন বিখ্যাত?
জসীমউদ্দীন
(
১৯০৩-১৯৭৬)
১। জসীমউদ্দীনের কাব্যে পল­ী প্রকৃতির যে রূপ ফুটে উঠেছে তার বর্ণনা দিন।
২। “জসীমউদ্দীনের কবিতায় বিষয় কেবলই গ্রাম”-কেন?
৩। জসীমউদ্দীনের ‘সোজন বাদিয়ার ঘাট’ কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলোর নাম লিখুন।
৪। জসীমউদ্দীনের ‘নকসী কাঁথার মাঠ’ কাব্যের পরিচয় প্রদান করুন।
ফররুখ আহমদ
(
১৯১৮-১৯৫১১)
১। ফররুখ আহমদের কবিতার মূল প্রতিপাদ্য কী?
কায়কোবাদ
(
১৮৭৫-১৯৫১)
১। বাংলা সাহিত্যে প্রথম মুসলিম মহাকবি কে? তাঁর মহাকাব্যটির পরিচয় দিন।
কাজী নজরুল ইসলাম
(
১৮৯৯-১৯৭৬)
১। নজরুলের বিদ্রোহের নানা প্রান্ত উন্মোচন করুন।
২। নজরুল ইসলামকে কেন বিদ্রোহী কবি বলা হয়?
৩। নজরুল ইসলামের সাম্যবাদী দৃষ্টি ভঙ্গির পরিচয় প্রদান করুন।

প্রমথ চৌধুরী
১। ‘সবুজপত্র’ পত্রিকাটির সম্পর্কে লিখুন
২। বাংলা সাহিত্যে ‘বীরবল’ ছদ্মনামে পরিচিত কে? তাঁর পরিচয় প্রদান করুন।
জীবনানন্দ দাশ
১। জীবনানন্দ দাশের কবিতার বিষয়বস্তু বা শিল্পমূল্য নির্ণয় করুন।
সাহিত্যের রূপ ও রীতি
১। সনেট কী ও সনেটের বৈশিষ্ট্য?
২। পঞ্চপাণ্ডব কারা? কেন তারা পঞ্চপাণ্ডব?
৩। কলে­াল যুগ বলতে কোন সময়কে বোঝানো হয়েছে।
৪। অ্যাবসার্ড নাটক কী? বাংলাদেশের যে সব নাট্যকার অ্যাবসার্ড নাটক লিখেছেন তাদের নামোলে­খ করুন।
৫। ছন্দ কাকে বলে? বাংলা কবিতার ছন্দ কয়টি ও কী কী?
পত্রিকা
১। দিগদর্শন পত্রিকার পরিচয় দিন।
২। বঙ্গদর্শন পত্রিকার পরিচয় দিন।
৩। মুসলমান সম্পাদকের সম্পাদনায় প্রথম কোন পত্রিকা প্রকাশিত হয়? সম্পাদকের নাম কী?
৪। বাংলা ভাষার প্রথম দৈনিক পত্রিকাটি সম্পর্কে লিখুন।

বাংলা দ্বিতীয় পত্র (সাজেশন্স)

ক. প্রবন্ধ (সংকেত সহ ও সংকেত বিহীন) :
১। আমাদের জাতীয় অর্থনীতিতে রেমিটেন্সের ভূমিকা।
২। বাংলাদেশের এভারেস্ট বিজয়/সমুদ্র বিজয়।
৩। সাংস্কৃতিক আগ্রাসন।
৪। সার্ক।
৫। তথ্য প্রযুক্তি।
৬। মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক বাংলা সাহিত্য।
৭। ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক বাংলা সাহিত্য।
৮। তৈরী পোশাক: সংকট ও সম্ভাবনা।
৯। বাংলাদেশের শিা ব্যবস্থা।
১০। মাদকাসক্তি ও আমাদের যুব সমাজ।
১১। মুঠোফোন ও আমাদের যুব সমাজ।
১২। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার।
১৩। সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রতিকার।
১৪। নদী দূষণ ও তার প্রতিকার।
১৫। ভারত বাংলাদেশ সম্পর্ক।
১৬। মায়ানমার বাংলাদেশ সম্পর্ক।
১৭। বাংলাদেশের লোক সাহিত্য।
১৮। সাহিত্য ও সমাজ।
১৯। ছাত্র রাজনীতির বর্তমান ও ভবিষ্যত।
২০। রাজনৈতিক সংকটের অবর্তে মধ্যপ্রাচ্য।
এবং কনফিডেন্স প্রদত্ত লেকচার নোট।
খ. পত্র:
১। প্রভাষক পদে নিয়োগের জন্য একটি আবেদন পত্র রচনা করুন।
২। আপনার এলাকার পানীয় জলের অভাব দূর করার জন্য যথাযথ কর্তৃপরে কাছে একটি আবেদন পত্র লিখুন।
৩। জনপ্রিয় কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমদের মৃত্যুতে বাংলা সাহিত্যের অপূরণীয় তির কথা জানিয়ে প্রবাসী বন্ধুর কাছে একখানি পত্র লিখুন।
৪। ইভটিজিং প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্য পত্রিকা সম্পাদক বরাবর একখানা পত্র লিখুন।
৫। পদ্মা নদীর উপরে একটি সেতু নির্মাণের জন্য মাননীয় যোগাযোগ মন্ত্রীর উদ্দেশ্যে একটি স্মারকলিপি পেশ করুন।
৬। সংবাদপত্রের প্রকাশিত মিথ্যা খবরের প্রতিবাদ জানিয়ে কোনো পত্রিকার সম্পাদকে একখানা পত্র লিখুন।
৭। বরেণ্য মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা উপলে একখানা অভিনন্দন পত্র রচনা করুন।
৮। বাংলাদেশ থেকে কিছু অপ্রচলিত পণ্য রপ্তানির সম্ভব্যতা যাচাইয়ের জন্য বিদেশি কোনো ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের কাছে একটি পত্র লিখুন।
৯। তিগ্রস্ত বীমাকৃত মালের তিপূরণের জন্য বীমা কোম্পানির কাছে একটি দাবিপত্র রচনা করুন।
১০। একটি কলেজে নতুন অধ্যরে আগমন উপলে একখানা মান পত্র রচনা করুন।