Showing posts with label Cadre Choice. Show all posts
Showing posts with label Cadre Choice. Show all posts

Thursday, July 16, 2015

BCS Cadre Choice-বিসিএস পরীক্ষায় ক্যাডার চয়েস

অনেকগুলো মেসেজ এসেছে – ক্যাডারগুলোর সুবিধা-অসুবিধা বলে একটা তুলনামূলক লিখা দিতে। এই কাজটা আমার একেবারেই অপছন্দের। অনেককে এ নিয়ে মুখে বলেছি, কিন্তু কখনও লিখি নি। অনেকের মেসেজের জবাবে এই লেখাটি চাকরি সংক্রান্ত গ্রুপগুলোতে দিয়েছিলাম। তবুও এই একই বিষয়ে নিরন্তর মেসেজ আসতেছে। তাই অবশেষে অনিচ্ছা সত্ত্বেও এখানে দিলাম। ইনবক্সে বিসিএস পরীক্ষার্থীরা ক্যাডারগুলো সম্পর্কে যেসব বিষয় জানতে চেয়েছে, সেই কথাগুলোর জবাব দিতেই চেষ্টা করেছি এখানে।
এডমিনঃ ১ম কথা হল, ৯০% সচিব এডমিন থেকে হয়। শুধু পররাষ্ট্র সচিব ছাড়া সকল সচিবই এডমিন থেকে নিয়োগের ইতিহাস আছে। বর্তমানে কয়েকজন মাত্র সচিব অন্য ক্যাডারের। তাই যারা ভবিষ্যতে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠতে চান তাঁদের জন্য এডমিনই ভাল চয়েস। প্রথমে একটি ডিসি অফিসে কাজ করতে হবে সহকারী কমিশনার হিসেবে। ২/৩ বছর সময়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা AC(Land) এর দায়িত্ব পাবেন। এরপর ইউএনও,এডিসি, ডিসি। পাশাপাশি মন্ত্রণালয়েও সহকারী সচিব, উপসচিব… হিসেবে অনেকে কর্মরত থাকেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পোস্টিং হয়। তাই এডভেঞ্চার আছে, এটা এনজয় করতে পারলে ভাল লাগবে। মানুষের সাথে সরাসরি কাজ। তাই সত্যি যদি আপনার ইচ্ছা থাকে, মানুষের জন্য কাজ করবেন – সে সুযোগ এখানে আছে। জুডিশিয়াল সার্ভিস আলাদা হওয়ার পরে এডমিন ক্যাডার নিয়ে অনেক নেগেটিভ কথা শুনা গেছে। বিশেষত আমরা যখন জয়েন করি, তখনই বিষয়টা শুরু হইছিল। তাই অনেকের মাঝে হা-হুতাশ ছিল। এখন কিন্তু সেটা শুনা যায় না তেমন। তখন ভাবা হচ্ছিল মেজিস্ট্রেসি বলতে কিছুই আর এডমিন অফিসারদের থাকবে না। আসলে তো তা নয়। যে কোন দেশেই শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এডমিন অফিসারদের বিকল্প নেই। একজন নন-আর্মড অফিসার অর্ডার করবে, আর আর্মড-পার্সনরা সেটা পালন করবে। এটাই যে কোন সভ্য দেশের নিয়ম। তাই এখন সরকারের প্রয়োজনে সহকারী কমিশনারগণ নিয়মিতই ম্যাজিস্ট্রেসি দায়িত্ব পালন করেন। মোবাইল কোর্টসহ অনেক দায়িত্বই আপনি পাবেন। এরপর পদোন্নতি ভীষণ স্লো – এমন কথা এডমিনের নামে শুনা যায়। কথাটা কিছুটা সত্য। তবে আপনারা যারা এখন জয়েন করবেন, তাঁদের জন্য ভাল খবর হচ্ছে – ২০১৯ সালের দিকে অনেক বড় ব্যাচ রিটায়ার করবে। তখন প্রোমোশন দ্রুত হবে বলে মনে হয়।
পুলিশঃ পুলিশকে সবার প্রয়োজন। তাই সরকারী চাকরি করে পরিচিতজনের কাছে কেন্দ্রবিন্দু হবার সৌভাগ্য এখন পুলিশেরই সবচেয়ে বেশী। যে যাই বলুক, আপনার মোবাইল নাম্বারটা সবার আকাঙ্ক্ষিত হবেই। আর এই আকাঙ্ক্ষা পূরণ করাও পুলিশ ক্যাডারদের পক্ষে সম্ভব। কাউকে সরাসরি বিপদ থেকে রক্ষা বা আইনি সহায়তা তাঁদের হাতেই। তাই যারা মানুষকে সরাসরি সাহায্য করতে চান, তাঁদের জন্য পুলিশ হওয়াই আমাদের দেশে সবচেয়ে উপযোগী। আর এই সৌভাগ্যের সাথে ঝুঁকির কথাও একটু মাথায় রাখুন। রাজনৈতিক সমস্যা থেকে শুরু করে আইনগত সকল সমস্যা পালনের জন্য ঝুঁকি নেবার সাহসটুকু থাকতে হবে। আর ফিল্ড লেভেলে কাজ করতে নেতা-কর্মীদের ম্যানেজ করে দায়িত্ব পালনের বিষয়টাও আছে। ট্রেনিং শেষে পোস্টিং হলে এএসপিকে সরকারী গাড়ি দেয়া হয় দায়িত্ব পালনের জন্য, যেটা আর মাত্র দু-একটা ক্যাডারে আছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে পুলিশ অফিসারদের অনেকেই সুযোগ পায়। এতে বেশ ভাল আর্থিক সুবিধা পাওয়া যায়, সাথে একটু ঝুঁকি তো আছেই। আবার উপরের লেভেলে পোস্ট কম। তাই উপরে পদোন্নতি একটু স্লো, তবে আমাদের দেশে এসপিই অনেক বড় কিছু, আর তাঁর উপরেরগুলোতো আছেই। মাঝে মাঝে আপনার ব্যক্তিগত কোন দোষ না থাকলেও সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবীদের গালি সরাসরি শুনতে হতে পারে। তবে সেটা আপনার আড়ালে, সামনে পড়লে মোবাইল নাম্বারই নিয়ে নেবে। পুলিশের এএসপিদের অধীনে কনস্টেবল থেকে শুরু করে অনেক পুলিশ সদস্য থাকে, তাই দেশের যেখানেই যাবেন, লজিস্টিক সাপোর্ট থাকবে।
অডিটঃ অডিটে অবশ্য সব সময়ই অল্প ক’টা পোস্ট থাকে। আর যেহেতু পোস্ট অল্প, তাই পদোন্নতি দ্রুত। মোটামুটি বিভাগীয় শহরগুলিতেই পোস্টিং। অডিট হচ্ছে অন্যের ভুল, অনিয়ম এসব ধরা। তাই যে অফিসেই অডিট করবেন, বেশ সম্মানই পাবেন।
ট্যাক্স ও কাস্টমসঃ ৩৫-তম বিসিএসের সার্কুলারে এই ২টা ক্যাডারে কোন পদ নেই। এটা আপনাদের জন্য দুর্ভাগ্যেরই বিষয়। আগে এত অফিসার নিয়ে নিয়েছে, এখন আর খালি নেই। তাই এখানে এগুলো নিয়ে কিছু বললাম না।
ইকনমিকঃ সচিবালয়ে বা পরিকল্পনা কমিশনে অফিস। তাই ঢাকায় পোস্টিং। ইকোনোমিক ক্যাডারের অফিসারগণ প্লানিংয়ের কাজ করেন। তাই যারা রিসার্চ রিলেটেক কাজে ইচ্ছুক, তাঁদের জন্য এটা ভাল চয়েস। হয়তো রিসার্চমুখী বলেই ইকনমিক ক্যাডারের অফিসারদের একটা বড় অংশ বিদেশে ডেপুটেশান বা শিক্ষাছুটিতে পড়াশুনা করে। আবার অনেকদিন ধরেই ইকনমিক ক্যাডারকে এডমিনের সাথে যুক্ত করে ফেলবে বলে আলোচনা হচ্ছে। মানে এটা হলে ইকনমিক ক্যাডাররা এডমিন হয়ে যাবে। তবে এটা দীর্ঘদিন ধরেই ঝুলে আছে। তাই এখন এসব জেনে লাভ নেই। কাজ প্রোজেক্টের প্লানিং। তবে উপরের দিকে পদন্নোতির সুযোগ একটু কম।
তথ্যঃ তথ্য ক্যাডারের অফিসারদের কয়েকটা গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় কাজের সুযোগ আসতে পারে। মন্ত্রণালয়ে মাননীয় মন্ত্রীগণের Public Relations officer (PRO), বিদেশে কয়েকটা দূতাবাসে তথ্য কর্মকর্তা, এমনকি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ও মহামান্য রাষ্ট্রপতির অফিসেও তথ্য কর্মকর্তা হতে পারেন। তবে এগুলো সাধারণত স্বল্পকালীন হয়।
পররাষ্ট্রঃ এটাতে আমি চাকরি করি, তাই ঢাক পিটানো হয়ে যাবে কিনা ভাবছি। যাই হোক, ফরেনে চাকরি হলে আপনি সেগুন বাগিচায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগ দিবেন। শুধু বাসা থেকে অফিসে আসা আর ৫টায় অফিস থেকে বের হতে পারলে বাসায় ফেরা এ দুই সময় অফিসের মাইক্রো পাবেন। দুই বছর পূর্ণ হলে আপনি বিদেশে দূতাবাসে পোস্টিংয়ের জন্য উপযুক্ত বলে ধরা হয়। তবে পোস্টিং হতে ৩ বছরের মত লাগে। কেউ কেউ নিজেই দেরী করে বিদেশে পোস্টিং নেয়। এক্ষেত্রে আমার ব্যাচের অভিজ্ঞতা এরকম – অফিসার ১৩ জন। এর মধ্যে ২ জন যোগদানের দুই বছর পরেই পোস্টিংয়ে চলে গেছে। ৪ জন ডেপুটেশানে বিদেশে পড়ছে (১ জন যুক্তরাষ্ট্রে, ৩ জন অস্ট্রেলিয়ায়)। তিন বছরের কাছাকাছি সময়ে আরো ৪ জন পোস্টিংয়ে গেছে। বাকি ৩ জন নিজেরা পোস্টিংয়ে যায়নি, তাঁদের সুযোগ এসেছিল। বিদেশে পোস্টিং হলে ফরেন ভাতা পাবেন। যা পাওয়া যায়, তাতে বিদেশে বিলাসিতা করা যায়না, সংসার চলে। পদোন্নতির সাথে সাথে এলাউন্স বাড়বে। পোস্টিংয়ে থাকা কালে মোটা দাগে বললে বাসা ভাড়া, ২ জন ছেলেমেয়ের পড়াশুনার খরচ, পরিবারের চিকিৎসার ৯০% খরচ সরকার বহন করে। পোস্টিংয়ে থাকা অবস্থায় যে কোন দেশের ডিপ্লোমেটরা ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি কিনতে পারে। তবে গাড়ি দেশে আনতে হলে ট্যাক্স দিতে হবে। অফিসার অল্প, তাই কাজের অনেক চাপ। আবার চাকরিই যেহেতু ফরেনে, তাই অনেক বিদেশে ঘুরতে পারবেন। পোস্টিংয়ের আগেও ট্রেনিং, কনফারেন্স ইত্যাদিতে বিদেশে যাবার সুযোগ আসবে অনেকের। তবে পরিবার ফেলে দীর্ঘদিন বিদেশে থাকা কষ্টকরও বটে। আবার এক দেশে পোস্টিং ৩ বছরের জন্য, এরপর অন্য দেশে ৩ বছর, পরের ৩ বছর ঢাকায়। এটা জেনারেল পোস্টিং প্যাটার্ন। তাই এই ঘন ঘন চেঞ্জ নিজের এবং ছেলেমেয়ের জন্য ঝামেলার। অন্যদিকে ফরেনে অফিসার অল্প বলে পদোন্নতির সুযোগ অন্য চাকরি থেকে ভাল। আমি নিজেই দেখেছি যে, একই বিসিএসের ফরেনের অফিসার জয়েন সেক্রেটারি আর অন্য ক্যাডারের অফিসার সিনিয়র এসিট্যান্ট সেক্রেটারি ছিল। এতদিন এটা প্রচলিত ছিল যে ফরেনে জয়েন করলে সে Ambassador হয়ই। ভবিষ্যতে কি হবে জানি না। তবে এখন পর্যন্ত প্রায় প্রতিটি অফিসারই সময় হলে Ambassador হয়েছে। রাষ্ট্রদূত দেশকে প্রতিনিধিত্ব করে, তাই সম্মান মনে হয় একটু পাবেন। বেশ হোমরা-চোমরা লোকজনের সাথে মাঝেই দেখা বা মিটিং সিটিং হবে। তবে দেশে রাস্তাঘাটে আপনাকে কেউ চিনবে না।
ক’দিন আগে কয়েকজন তরুণ সাহিত্যিক কয়েকটা লেখা দিয়ে সমালোচনা করতে বলল। কিন্তু সমালোচনা করার পরে তাঁরা আমার উপর ক্ষেপে গেল। আমি নাকি সবাইরে প্রশংসা করে গেছি। আমার মন্তব্য থেকে তাঁরা সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না। কী আর করা – খারাপ বলতে মনে হয় একটু বেশি সাহস লাগে। যাই হোক, সেই বিষয়টা মাথায় রেখে, এখানে আমি একজন বিসিএস পরীক্ষার্থী যেভাবে ভাবে, সেভাবেই বিভিন্ন ক্যাডারের কিছু বিষয় দিতে চেষ্টা করলাম। এগুলো শুধুই তথ্য। অন্যদের কথাও শুনুন। এরপর নিজের বিচার দিয়ে ভাবুন – কোন কাজটা আপনি করতে চান। কোনটায় আনন্দ পাবেন। সেভাবেই চয়েস দিন। জব এনজয় না করতে পারলে ক্যারিয়ারকে ভালবাসতে পারবেন না। তাই আনন্দ খুঁজে পাওয়াই হোক চয়েসের ভিত্তি। এবার দুটা প্রশ্ন, যেগুলো মেসেজে অনেকবার এসেছে –
সার্কুলারে কোন একটা ক্যাডারে অল্প ক’টা পোস্ট আছে। তো সেটা কি চয়েসে দিব?
আমার ২৮-তম বিসিএস-এর চয়েস নির্ধারণ করতে গিয়ে দেখি অডিটে মাত্র ২/৩ পোস্ট। তো বন্ধু বলল, এটা চয়েসেই দিবে না। কোটা বাদ দিলে ১/২ পোস্ট – সেটা চয়েসে দিয়ে কী হবে? এটা একেবারেই ভুল কথা। পোস্ট বেশি থাক আর কম থাক নিজে যেই চাকরিটা আগে করতে চান সেভাবেই চয়েস দিন। আর পোস্ট পরবর্তীতে বাড়াতে বা কমাতে পারে। সাধারণত কমায় না। কখনও কখনও বাড়ায়। তাই যেসব ক্যাডারের সার্কুলার হয়েছে, সেগুলোতে আপনার পছন্দমত সিরিয়ালে চয়েস দিয়ে দিন।
মোট কয়টা চয়েস দিব? 
আমার অভিমত হল – যেই চাকরিগুলো হলে আপনি অবশ্যই করবেন, শুধু সেগুলোই চয়েস দিন। এক্ষেত্রে ২টা ইস্যু। (১) যারা বিসিএসে যে কোন ক্যাডার হলেই চাকরি করবেন, তাঁরা সার্কুলার দেখে যেগুলোতে এপ্লাই করতে পারবেন, সবগুলো চয়েস দিয়ে দিন। (২) আর যারা মনে করেন – কয়েকটা ক্যাডার না হলে আসলেই চাকরি করবেন না, তাঁরা প্লিস অন্য ক্যাডার চয়েস দিয়েন না। চাকরি হল আর আপনি জয়েন করলেন না বা কিছুদিন পরে ছেড়ে দিলেন, সেটা সবার জন্য খারাপ। দেশের জন্যও খারাপ।
তখন আমার ২৮-তম এর ফাইনাল রেজাল্ট ও মেডিকেল হয়ে গেছে। কিন্তু গেজেট তখনও হয়নি। সেই সময় ২৯-তম বিসিএসের ভাইভা শুরু হয়ে গেল। এখন ২৮ আর ২৯ দুটোতেই আমার ফার্স্ট চয়েস ফরেন। আমি ২৯-তমের ভাইভা দিতেই গেলাম না। ভাবলাম – একটা পোস্ট নষ্ট করব কেন। আমার পরিচিত বেশ কয়েকজনকে দেখলাম – ২৮তমে ফার্স্ট চয়েস পেয়েও আবার ২৯-এ ভাইভা দিলেন। বললেন, তখনও গেজেট হয়নি। কী হয় কিছু বলা যায় না। রিস্ক তো আছেই। যাই হোক, তাঁরা বেশি সতর্কতামূলকভাবে এটা করেছেন। ব্যক্তিগতভাবে এটা দোষের নয়। আইনসিদ্ধও বটে। কিন্তু যেটা হয়েছে, অনেকেই ২বার চাকরি পেয়েছে। আর দ্বিতীয়বার জয়েন করেনি। সে পোস্টগুলো ফাঁকা গেছে। কিছু নাকি কোটা থেকে পুরণ করেছে। এতে সরকারের প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও অনেক পোস্ট খালিই থেকেছে। আর কিছু যোগ্য লোক চাকরি পায়নি। হয়তো তাঁদের বয়স চলে গেছে। তাই আপনি যে চাকরিটা পেলে আসলেই করবেন, শুধু সেটাই চয়েস দিন। তবে যারা ক্যাডার চেঞ্জ করতে আবার পরীক্ষা দিচ্ছেন, তাঁদের জন্য ঠিকই আছে।
সবার জন্য অব্যয় অনিন্দ্য’র শুভকামনা।

Thursday, February 14, 2013

Cadre Choice (ক্যাডার চয়েস)

এমন একটা সময় ছিল যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা ছেড়েও এদেশের তরুণরা সিএসপি (বিসিএস এর পূর্ব নাম) অফিসার হতে চাইত । গত ৪০-৫০ বছরে সময় অনেক বদলেছে, দেশে এখন স্মার্ট কর্পোরেট কালচারও শুরু হয়েছে, ঔপেনিবেশিক ধ্যান ধারণা, বিদেশি সংস্কৃতির আগ্রাসন, পর্যাপ্ত গবেষণার সুযোগের অভাব ইত্যাদি নানা কারণ (কিংবা অজুহাতে) এখন এদেশের সর্বাধিক মেধাবীরা বৈদেশ গমনকেই সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়ে থাকে। আর যারা দেশের মায়া ত্যাগ করতে পারে না, তাদের অনেকেই আবার থিতু না হবার আশঙ্কা থেকে নব্য কর্পোরেট কালচারে নিজেদের সংমিশ্রন ঘটাতে পারে না, কিংবা আরও নানা জানা-অজানা কারণে দু পয়সার সরকারি চাকুরি করার বাসনা লালন করে , তারা অতি স্বাভাবিকভাবেই বিসিএস এর প্রতি আকৃষ্ট হয়। কাজেই যারা সব বিচার বিবেচনা করে বিসিএস এর প্রতি আকৃষ্ট হয়েছেন,বিদেশে নাগরিকত্ব নেয়ার বাসনা বাদ দিয়েছেন,গেটস/জবস/জুকারবারগ সাহেবদের মত হওয়ার কিংবা রাতারাতি কোটিপতি হওয়ার স্বপ্ন বাদ দিয়েছেন শুধুমাত্র তারাই নিচের লেখা গুলো পড়বেন , বাকিরা না পড়লেই আন্তরিকভাবে খুশি হব ।
বিসিএস দিতে এসে প্রথমেই অধিকাংশ লোক যে ভুলটা করে তা হচ্ছে ক্যাডারগুলো সম্বন্ধে একটি নূন্যতম ধারণা না নেয়া। ব্যক্তিগতভাবে আমি একটা জিনিস বিশ্বাস করি তা হচ্ছে, " একজন লোক যদি তার কাজকে ভালবাসে আর শ্রদ্ধা করে এবং সে অনুযায়ী সৎভাবে কাজ সম্পাদন করে তবে তার সাফল্য নিশ্চিত, তার কাজ যাই হোক না কেন ।" সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা দিয়ে কেউ চাকুরি পেলে তিনি হবেন সিভিল সারভেন্ট, আভিধানিক অর্থ "চাকর" হলেও একজন স্মার্ট বিবেকবান লোক জনগনের চাকর হতে পেরে নিজেকে সর্বদা গর্বিতই মনে করবেন। সিভিল সারভেন্টগণের কাজ হচ্ছে রাজনীতিবিদদের দ্বারা নির্ধারণকৃত নীতিকে জনগনের কল্যাণে প্রয়োগ ও তার সুষ্ঠু বাস্তবায়ন। উন্নত রাজনৈতিক সংস্কৃতির অভাবের কারণে বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল দেশে তাই সিভিল সারভেন্টগণ রাজনৈতিক ব্যক্তিদের দ্বারা অধিক প্রভাবিত। বিগত একবছর যাবত আমি অনেক ক্যাডারে চাকুরীরত কর্মকর্তাগণের সাথে যোগাযোগ করেছি , তাদের অনেকের মাঝে যেমন হতাশা দেখেছি আবার অনেকের মাঝে আত্মতৃপ্তির পরম সুখের বাতাস বইতেও দেখেছি, এগুলো থেকে প্রতীয়মান হয় যে, সুবিধা/অসুবিধা প্রত্যেকটি ক্যাডারেই আছে। বিসিএস পরীক্ষা বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা এবং কোটা ও রাজনৈতিক প্রভাবের দূষণ এই প্রতিযোগিতাকে আরও কঠিন করে তুলেছে আর তাই এই পরীক্ষায় নিজের মন মত ক্যাডার(প্রথম পছন্দ) খুব কম লোকই পেয়ে থাকেন । এজন্য সবারই উচিত একটি যুতসই পছন্দক্রম তৈরি করা ও নিজের মনকে এমনভাবে প্রস্তুত করা যে, ঐ ক্রমের যেকোন একটি পেলেই চাকুরি করবেন এটা নিশ্চিত করা, তাহলে নিজের কাজকে ভালোবাসা যাবে এবং এতে চাকুরীজীবী নিজে ও দেশ উভয়ই উপকৃত হবে । যাই হোক, কাজের কথায় আসি, ক্যাডার চয়েছ এর শুরুতে প্রত্যেকের উচিত সবগুলো ক্যাডার সম্বন্ধে নূন্যতম ধারণা নেয়া ও নিজের সঙ্গে যায় সে অনুযায়ী একটি পছন্দক্রম তৈরি করা , আসলে চাকুরীতে ঢোকার আগে একটা ক্যাডার সম্বন্ধে সবকিছু (১০০%) জানা সম্ভব নয়, গত এক বছরে আমি বিভিন্ন ক্যাডারের কম করে হলেও ২৫-৩০ জন (নয়া চাকুরীতে ঢোকা/চাকুরীর মাঝামাঝি অথবা শেষ দিকে আছে/অবসরপ্রাপ্ত ) এর সাথে কথা বলেছি, তাদেরকে নানান ধরনের বাস্তবমুখি কিংবা অদ্ভুত প্রশ্নও করেছি ওসব প্রশ্নের আলোকেই সংক্ষিপ্ত আকারে লেখার চেস্টা করেছি ।
  • ১. পররাষ্ট্রঃ
যেদিন থেকে পৃথিবীতে শাসনতন্ত্র শুরু হয়েছে তার পরপরই শুরু হয়েছে কূটনীতি, আর সবসময়ই কূটনীতিক প্রতিনিধিরা সর্বাধিক শিক্ষিত,মেধাবী ও প্রজ্ঞা সম্পন্ন ব্যাক্তিরাই হয়ে থাকেন ।
সুবিধা-অসুবিধা সমূহঃ
এই ক্যাডারে সাধারণত খুব কম খালি পোস্ট থাকে তাই প্রতিযোগিতা সবচেয়ে বেশি;
জয়েন করার পর থেকে ঢাকায় পররাস্ট্র মন্ত্রণালয়ে পোস্টিং , বিদেশে পোস্টিং হতে অন্তত ৬-৭ বছর বা কাছাকাছি লাগে , বিদেশে পোস্টিং হলে কূটনৈতিক সুবিধাসমূহ পাওয়া যায়;
উচ্চ পদে গেলে এলিট জীবন যাপন করা যায় ,বিদেশে পরিবার এমনকি চাকর পর্যন্ত নেয়া যায় এবং পরিবার সদস্যরা কূটনীতিক না হয়েও কূটনীতিকের মত মর্যাদা সুবিধা ভোগ করেন (এমনকি ভৃত্য পর্যন্ত) ;
এই ক্যাডারে প্রমোশন গ্রোথ অনেক ভাল কারণ কম লোক নেয়া হয় আর বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের মিশন সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে;
উচ্চ শিক্ষার সুযোগ অনেক ভাল, বর্তমান পররাস্ট্র সচিব একজন হার্ভার্ড গ্র্যাজুয়েট। উচ্চ শিক্ষা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে জাতিসংঘে প্রেষণে (ডেপুটেশনে) যাওয়ার সুযোগ থাকে; বিদেশে ট্যুর আছে প্রচুর ;
কাজের চাপ তুলনামুলক বেশি; সৎভাবে উন্নত জীবনযাপন সম্ভব;
রাস্ট্রদূত হয়ে কোন দেশে জয়েন করলে এরা "গার্ড অব অনার" পান যা সাধারণত প্রেসিডেন্ট/ সরকার প্রধানরা পেয়ে থাকেন । এক ফরেন ক্যাডার (বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশে কর্মরত), স্কাইপিতে আলাপকালে হাস্যচ্ছলে আমাকে বলেছিল, ফরেন ক্যাডার এমন এক ক্যাডার যাদের ওয়ালেট ফাঁকা কিন্তু ঐ ফাঁকাওয়ালেট নিয়েই তারা সারাবিশ্ব ঘুরে বেরাতে পারে । তবে দেশের মাটিতে এদের ক্ষমতার ব্যবহার সীমিত, প্রাক্তন রাস্ট্রদূত হারুন-অর-রশিদের মতে, " Foreign Cadres contribution to the country may not always be fully appreciated by the public in Bangladesh " ( কারণ তাদের কাজের খুব কম অংশই জনসাধারণের কাছে প্রকাশ করা হয়ে থাকে )
২.প্রশাসনঃ
নাম থেকেই বোঝা যায় এর কাম (কাজ), ক্যাডার সার্ভিস শুরুই হয়েছে বলতে গেলে এই
ক্যাডার দিয়ে , এরাই মূলত দেশ চালনার মূল হাতিয়ার বলে থাকেন কেউ কেউ । একটা সময় প্রায় ৯০ ভাগ প্রার্থীই নাকি এই ক্যাডার প্রথম পছন্দে দিত(সূত্রঃ একজন অবসর প্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব), এমনকি এখনো প্রায় ৫০-৬০ ভাগ লোক তাই দেয় ।
সুবিধা-আসুবিধা সমূহঃ
মফস্বলে পোস্টিং এর সম্ভাবনা সচেয়ে বেশি তাই জনগনের সাথে কাজ করার সুযোগও বেশি;
চাকুরিতে ঢুকে ডিসি অফিসে কাজ করা লাগে , ( স্বল্প সংখ্যক অ্যাডমিন ক্যাডার অবশ্য মন্ত্রনালয়ে সহকারি সচিব হিসেবেও কাজ করে থাকেন);
মোটামুটি ৭-৮ বছর পর UNO হওয়া যায়, আর একজন UNO কে উপজেলা পর্যায়ের সরকার নিয়োজিত 'রাজা' বললে মনে হয় কেউ কস্ট পাবে না , কারণ UNO হলে বাংলো ও গাড়ি সুবিধা পাওয়া যায়,উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন অনুষ্ঠান/সেমিনার/কর্মশালা ইত্যাদিতে গেস্ট/চীফ গেস্ট হিসেবে যাওয়া লাগে, উপজেলা পর্যায়ে ক্ষমতার ব্যবহার ব্যাপক; ডিসি'রা জেলা লেভেলের প্রশাসক , ডিসি'র কাজ ও সুবিধা সমূহ আশা করি সবাই জানেন;
অ্যাডমিন ক্যাডারের সবচেয়ে ভাল দিক হচ্ছে ভ্যারিয়েশন , এই ক্যাডারের লোকজন বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ও বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে কাজ করার সুযোগ পান , এমনকি চাকুরি শেষ হলে যোগ্যতা ও দক্ষতার (ও রাজনৈতিক) ভিত্তিতে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ক্ষেত্রেও এরা এগিয়ে (যেমন পিএসসি'র মেম্বার/চেয়ারম্যান ) ;
প্রচুর স্কলারশিপ থাকায় এদের বিদেশে উচ্চ শিক্ষার সুযোগ অনেক বেশি, উচ্চ শিক্ষা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সংস্থাতে প্রেষণে (ডেপুটেশনে বিশ্ব ব্যাঙ্ক, জাতিসঙ্ঘ, ইউনেস্কো,এডিবি ইত্যাদিতে) যাওয়ার সুযোগ অন্য সব ক্যাডারের চাইতে অনেক অনেক বেশি, উল্লেখ্য ডেপুটেশনে অনেক উচ্চ বেতন দেয়া হয় (যেমন জাতিসংঘে প্রারম্ভিক P-5 গ্রেড ইকুইভ্যালেন্ট প্রায় ১ লাখ ডলার);
এমনকি, পররাস্ট্র ক্যাডার না হয়েও অনেকে বিদেশে কূটনৈতিক মিশনে কাজ করার সুযোগ পান, এছাড়াও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেস্টা হওয়ার রেকর্ড ও এই ক্যাডারের লোকের আছে;
এই ক্যাডারে অনেক লোক (যেমন এবার ৩০০, ৩০০/৫৮২ = ৫২% ) নেয়ার কারণে প্রমোশন জটিলতা বেশি, তবে মূলত আশির দশকের ব্যাচ গুলো বেরিয়ে গেলে এই ক্যাডারে প্রমোশন অনেক তরান্বিত হবে বলে সবাই আশা করছেন , তখন আর এই জটিলতা থাকবে না ;
একটা ব্যাপার সবাই খেয়াল করবেন, এখন এই ক্যাডারে প্রমোশন জটিলতা আছে বলে আজ থেকে ২০ বছর পরেও থাকবেই থাকবে এমনটা ধারণা করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে না ;
এই ক্যাডারে প্রমোশনের ক্ষেত্রে দক্ষতা (উচ্চ শিক্ষা , বৈচিত্র্যময় কাজের অভিজ্ঞতা) সবচেয়ে বড় যোগ্যতা হিসেবে দেখা হয়, আর এই যোগ্যতা না থাকলে রাজনৈতিক প্রভাবে প্রমোশন হয় ,রাজনৈতিক প্রভাব অনেক বেশি ঠিক আছে কিন্তু দক্ষ লোককে প্রায়রিটি দেয়ার উদাহরন ও অনেক আছে (উদাহরনঃ আকবর আলি খান, সাদাত হুসেন ইত্যাদি আরও অনেক);
এই ক্যাডারে যারা সাধারণত বেশি দিন চাকুরি করতে পারে(যেমন প্রথম দিকে যারা বিসিএস দিচ্ছেন) তারাই বেশি লাভবান হয় কারণ তাদের উচ্চ পদে (সচিব বা তদূর্ধ্ব ) যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে ,( যদিও প্রমোশন আরও অনেকগুলো প্যারামিটারের উপর নিরভর করে );
এই ক্যাডারে একি ব্যাচের লোকের যেমন উপসচিব হয়ে অবসরে যাওয়ার রেকর্ড আছে তেমনি ঐ ব্যাচেরই একজনের কেবিনেট সচিব হওয়ারও রেকর্ড আছে ,সরকারের সচিব বা সচিব পদমর্যাদার পোস্ট গুলোতে অ্যাডমিন ক্যাডাররাই অধিস্টিত হন (কিছু সেক্টর বাদে);
এই ক্যাডারে কাজের চাপ ভালই তবে দায়িত্ব অনুসারে কাজের চাপ নির্ভর করে;
চাকুরির প্রথম জীবনে (৩-৪ বছর) বৈধ/ অবৈধ বাড়তি আয়ের সুযোগ কম;
রাজনৈতিক চাপ অনেক বেশি, তাই ইচ্ছার বিরুদ্ধেও অনেক সময় অনেক কাজ করা লাগতে পারে (উদাহরন হরতালে মোবাইল কোর্ট );
প্রমোশন পাওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক লবিং অনেক (রাজনৈতিক সরকারের) সময় অনেক বেশি;
আবার রাজনৈতিকভাবে মোহরকৃত (সীল মারা) ব্যাক্তিগণের বিরোধী দল ক্ষমতায় এলে OSD হওয়ার রেকর্ড ও প্রচুর ।
৩.পুলিশঃ
বাংলাদেশের মানুষ সারাদিন পুলিশকে ঠোলা ঠোলা বলে গালি দেয়, অনেকে ঘুষখোর বলে ঘৃণাও করে, কিন্তু দিন শেষে কিংবা রাত পোহালে কোন বিপদে পড়লে এই পুলিশকেই যখন তখন ফোন দিতে বাধ্য হয়, এথেকেই বোঝা যায় পুলিশ আমাদের সমাজে কতটা প্রয়োজন , তারা কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে ।
সুবিধা-আসুবিধা সমূহঃ
লজিস্টিক সাপোর্ট বেশ ভাল (যেমন রেশন সুবিধা, গাড়ি সুবিধা , কোয়ার্টার সুবিধা); এই ক্যাডাররা একবারে র (Raw) পাওয়ার প্র্যাক্টিস করতে পারে ; কাজের চাপ সবচাইতে বেশি ( ঈদের দিন ও ডিউটি থাকে ); তবে এই ক্যাডারকে রাজনৈতিক সরকার একবারে কনডম হিসেবে ইউজ করার চেস্টা করে ,আর উপরের দিকে (Ad. DIG থেকে IGP পর্যন্ত) পোস্ট কম হওয়ায় প্রমোশন গ্রোথ একটা লেভেলে গিয়ে আটকে যায়, দুর্বল চিত্তের লোকজনের এই ক্যাডারে না আসাটাই বেটার (According to an SP); যাই হোক এই ক্যাডার সম্বন্ধে ইতোমধ্যে একজন মেধাবী ও স্মার্ট পুলিশ ক্যাডার (২৮ তম বিসিএস এ ৪র্থ) মাশরুফ (মাশফি) ভাই (যিনি এই গ্রুপে আগে অনেক বেশি সক্রিয় ছিলেন ) চমৎকার একটি লেখা লিখে ফেলেছেন তাই আমি আর লিখলাম না, আপনারা তার লেখাটা পড়লেই সর্বাধিক তথ্য পাবেন বলে আশা করি লিঙ্কঃ http://www.facebook.com/groups/73275624124/doc/10150285988039125/
৪.কাস্টমসঃ
* কাস্টমস ক্যাডাররা অর্থ মন্ত্রণালয়ের IRD এর একটি ডিভিশনের একটি উইং (কাস্টমস উইং) এর হয়ে কাজ করেন;
* এই ক্যাডারদের অ্যাডমিন/পুলিশ দের মত পাওয়ার প্র্যাকটিসের সুযোগও একেবারে কম ;
* পোর্টে কাজের চাপ অনেক বেশি এমনকি অনেক সময় নিশ্বাস ফেলার জো থাকে না, তবে VAT এ তুলনামূলক(পোর্টের চেয়ে ) কাজের চাপ কম;
* মানসিক চাপও অনেক বেশি থাকে;
* ঢাকার বাইরে পোস্টিং বেশি ;
* বৈধ উপায়ে প্রচুর টাকা কামানোর সুযোগ রয়েছে, যেমন, চোরাচালান ও ফাঁকি ধরতে পারলে সরকারিভাবে মূল্যভেদে ১০- ৪০ % পর্যন্ত পুরস্কার বা Grant of Rewards দেয়া হয় , বিশ্বাস না হলে click this link http://www.nbr-bd.org/nbrweb/SRO/SROPdfs/O086.doc
* লজিস্টিক সাপোর্ট বেশ ভাল , যেমন গাড়ি ও বাসস্থান সুবিধা ;
* প্রমোশন গ্রোথ অতিরিক্ত কমিশনার হওয়া পর্যন্ত অনেক ভাল , কিন্তু কমিশনার যুগ্ম-সচিব পদমর্যাদার হওয়ায় অনেকেই ডিএস লেভেলে গিয়ে স্থায়ীভাবে মন্ত্রনালয়ে (পুল সিস্টেমের মাধ্যমে) যাওয়ার চেস্টা করে,
* আর মজার ব্যাপার হচ্ছে এই ক্যাডারের বস (NBR এর চেয়ারম্যান) আসে সাধারণত অ্যাডমিন ক্যাডার থেকে;
* দেশের বাইরে কিছু নিয়োগ সম্ভব ;
* পুলিশের পর এই ক্যাডারের পাবলিক ইমেজ খারাপ (অনেকর কাছে পুলিশের চেয়েও খারাপ ) , কারণ অতিমাত্রায় দুর্নীতি , অনেক কাস্টমস ইন্সপেক্টরদেরই (২য় শ্রেনীর কর্মকর্তা) অবৈধ আয় দৈনিক গড়ে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্তও নাকি হয়ে থাকে , এ থেকে বুঝে নেয়া যায় এখানে সহকারি কমিশনারদের অবস্থা;
* তবে এই ডিপার্টমেন্টে ইন্টারনাল পলিটিক্সের কথাও শোনা যায়, তাই সততার বিকল্প নাই :D
* যাদের শুধু টাকায় মন ভরে না , পাওয়ার প্র্যাকটিসেরও প্রবল ইচ্ছা আছে, তাদের এই ক্যাডারে না আসাই ভাল;
* যারা চাকুরির বয়স বেশিদিন পাবেন না (যাদের সর্বশেষ বা শেষের আগের বিসিএস) তারা এ ক্যাডার প্রথমেও দিতে পারেন;
ট্যাক্সঃ
* এরাও অর্থ মন্ত্রণালয়ের IRD এর একটি ডিভিশনের একটি উইং এর হয়ে কাজ করেন;
* লজিস্টিক সুবিধা কাস্টমসের মতই প্রায় পাওয়া যায়;
* প্রমোশন গ্রোথ ভাল তবে কাস্টমসের মত দ্রুত নয়;
* তবে আবার মজার ব্যাপার হচ্ছে NBR এর মেম্বার হওয়ার ক্ষেত্রে আবার কাস্টমস ক্যাডারদের তুলনায় ট্যাক্স ক্যাডাররা এগিয়ে থাকে ;
* চাকুরির প্রথম দিকে ঢাকার বাইরে পোস্টিং বেশি;
* কাজের চাপ সিজনালি কম বা বেশি , (সিজন বলতে আয়কর রিটার্ন এর সময়);
* প্রশাসনিক ক্ষমতা (সাধারণ) অনেক কম, তবে উচ্চ পদে গেলে কর্পোরেট/ ব্যবসায়ী লেভেলে অনেক ক্ষমতা আছে;
* বৈধ উপায়ে বেশ টাকা কামানো সম্ভব, আয়কর ফাঁকি ধরতে পারলে সরকারিভাবে নির্দিষ্ট শতাংশের Grant of Rewards দেয়া হয়;
* অবৈধ উপায়েও আরও অনেক বেশি আয় সম্ভব :D
ইকনমিকঃ
* ইকনমিক ক্যাডারে ফরেন ক্যাডারের পর সবচেয়ে বেশী বাইরে যাওয়ার সুযোগ ;
* পুরো চাকুরি জীবন বিভিন্ন মন্ত্রনালয়ে (মেইনলি অর্থ/পরিকল্পনা মন্ত্রনালয়ে ) অর্থাৎ ঢাকায় থাকার সুবিধা;
* বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও ট্রেনিং এর অধিকতর সুযোগ;
* প্রোমোশনের গ্রোথ মাঝামাঝি (দ্রুত ও না / ধীর ও না)
* ডেপুটেশনে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায়(UN,WB,UNESCO,ADB etc.) যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ পাওয়া যায়, (এসব সংস্থা'র বেতন অনেক উচ্চ হয় );
* এই ক্যাডারে বস আসে অ্যাডমিন ক্যাডার থেকে কারণ সর্বোচ্চ পদ ডিভিশনাল চীফ হচ্ছেন অতিঃ সচিব;
(অডিট) নিরীক্ষা ও হিসাবঃ
* সরকারি যত হিসাব-নিকাশ ও তদারকির কাজ আছে তা পালন করে থাকেন এই ক্যাডাররা;
* Tax Payers Money ব্যায়ের ক্ষেত্রে সরকারের Accountibility এবং Transparency নিশ্চিত করেন এই ক্যাডাররা;
* কাজের চাপ মোটামুটি ;
* প্রমোশন গ্রোথ ভাল;
* ট্রেনিং ও ট্যুর আছে (অভ্যন্তরীণ ও বহিঃ);
* এই ক্যাডারের সর্বোচ্চ পদ CAG একটি সাংবিধানিক পদ ;
* অন্য সব ক্যাডাররাই এই কাডারকে সমীহ করে থাকে কারণ অডিট/হিসাব সব প্রতিষ্ঠানেই হয়ে থাকে , অন্য প্রতিষ্ঠানের ভুল-ত্রুটি ধরাই এদের কাজ, এছারাও অন্য ক্যাডারদের বেতন/পেনশনের জন্যও তারা অডিট ক্যাডারদের সমীহ করে থাকে ;
* সাধারণত ডিভিশনাল শহর গুলোতে পোস্টিং , তবে ঢাকায় পোস্টিং বেশি ;
* কোয়ার্টার ও পরিবহন সুবিধা ভাল; উচ্চ পদে গেলে এ সুবিধা অনেক বেশি ভাল ;
* রাজনৈতিক প্রভাব তুলনামূলক কম ;
আনসারঃ
* কাজের চাপ তুলনামূলক কম;
* লজিস্টিক সুবিধা বেশ ভাল, চাকুরির প্রথম থেকেই গাড়ি সুবিধা পাওয়া যায়, এছাড়া বাসস্থান সুবিধাতো আছেই ;
* নিরিবিলি, তুলনামূলক কম ঝামেলাসম্পন্ন দায়িত্ব ;
* সর্বোচ্চ DG পর্যন্ত হওয়া যায়, উপরের দিকে সব প্রতিরক্ষা বাহিনীর(আর্মি) কর্মকর্তারা দায়িত্বে(বস) থাকেন;
* প্রমোশন গ্রোথ মাঝামাঝি ভাল ;
******* খাদ্য , রেলওয়ে , সমবায় , পরিবার পরিকল্পনা ইত্যাদি আরও ক্যাডারসমূহ নিয়ে আরও লেখা হবে :

বিঃদ্রঃ এই লেখাটি এখনো শেষ করা হয়নি, আরও অনেক তথ্য সংযোজন করা হবে, তাই এটাকে সম্পূর্ণ বলে ধরার কোন কারণ নেই; বিভিন্ন ক্যাডার সার্ভিসে চাকুরীরত,সিনিয়র কর্মকর্তা (উপসচিব,যুগ্মসচিব পদের বা তার সমমানের অন্য ক্যাডারের, কাস্টমস/ট্যাক্স জয়েন্ট কমিশনার,কমিশনার) ও অবসরপ্রাপ্ত প্রায় ২৫-৩০ জনের সাক্ষাৎকার থেকে এই লেখাটি লেখা, তাই এখানে ভুল ত্রুটি থাকতেই পারে সেগুলি সবাই দয়া করে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন । আর পছন্দ না হলে অনর্থক যুক্তিহীন তর্ক করতে আসবেন না,যার যার দৃষ্টিকোণ থেকে সব ক্যাডারই ভাল;উল্লেখ্য আমি এখনো কোন ক্যাডার সার্ভিসে চ্যান্স পাই নি ,তাই যারা একথা বলে অনর্থক তর্ক করতে চাইবেন যে, ক্যাডার না হওয়া ছেলের কাছ থেকে কোন ক্যাডার কেমন তা জানা বোকামি,আমি আপনাদেরকে সালামের সহিত "গুরু ও বিশেষজ্ঞ" মেনে এই লেখাটি না পড়ার জন্য বিশেষ বিশেষ অনুরোধ করব;
*যুক্তির সহিত যেকোন যুক্তিসঙ্গত প্রশ্ন ক্ষুদ্র জ্ঞান দিয়ে উত্তর দেয়ার চেস্টা করব ;
*নতুন তথ্য দিয়ে এই লেখাটিকে সুন্দর করে সাজানোর অনুরোধ রইল প্রত্যেক ভাই ও বোনের প্রতি