Showing posts with label আন্তর্জাতিক. Show all posts
Showing posts with label আন্তর্জাতিক. Show all posts

Tuesday, June 10, 2014

বিসিএস লিখিতঃ শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি


এই


লেখাটিতে প্রধানত বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলীর বড় প্রশ্নগুলোর জন্য
অতি গুরুত্বপূর্ণ কিছু ‘বেসিক
টপিক’ শেয়ার করা হয়েছে। যারা ইতোমধ্যে নিজেকে পরীক্ষার জন্য ভালোমতোই প্রস্তুত করে
ফেলেছেন তারা নিচের টপিকগুলো পড়া হয়েছে কিনা শুধুমাত্র মিলিয়ে দেখতে পারেন, লেখাটাকে তেমন গুরুত্ব দেয়ার
দরকার নেই। আর যারা এখনো মহাসমুদ্রে হাবুডুবু খাচ্ছেন, তারা হাবুডুবু খাওয়ার ফাঁকে
ফাঁকে নিচের টপিকগুলো যত্নের সাথে পড়ে ফেলুন। কেননা এই বেসিক টপিকগুলো না পড়ে
পরীক্ষার হলে উপস্থিত হওয়া মোটেই বুদ্ধিমানের মতো কাজ হবেনা।

@বাংলাদেশ বিষয়াবলীঃ ১ম পত্র

১। বাংলাদেশের অভ্যুদয়ঃ ১৯৪৭-১৯৭১ পর্যন্ত সমস্ত
ঘটনা প্রবাহ। মুক্তিযুদ্ধের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক কারন। অর্থাৎ
মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, ভাষা আন্দলোনের ভূমিকা প্রভৃতি।


২।
বাংলাদেশের অর্থনীতিঃ তৈরী পোশাক, জনশক্তি রপ্তানি, বৈদেশিক বিনিয়োগ (FDI=
Foreign Direct Investment), কৃষি, শিল্পায়ন
প্রভৃতি সেক্টরের বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা/ গুরুত্ব, এই সেক্টরগুলোর সমস্যা, সম্ভাবনা, সমস্যার প্রতিকার।


৩।
বাংলাদেশের বিদ্যমান সমস্যা সমূহঃ জনসংখ্যা সমস্যা, জ্বালানী/ বিদ্যুৎ সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন/ বৈশ্বিক
উষ্ণায়নের প্রভাব, দুর্নীতি, সড়ক দুর্ঘটনা এরকম বর্তমানে
বাংলাদেশে বিদ্যমান সমস্যা সমূহ।


৪।
সংবিধান থেকে ১টা বড় প্রশ্ন


**বিগত বছরের প্রশ্নের আলোকে দেখা যায় উপরের ৪টা ক্যাটাগরি
থেকে সাধারনত বাংলাদেশ বিষয়াবলী ১ম পত্র পরীক্ষায় ৪টা
বড়
প্রশ্ন
করা হয়।**

এছাড়া
আরও কিছু বিষয় থেকে বিভিন্ন সময় প্রশ্ন আসতে দেখা যায়। যেমন-
§  খাদ্য নিরাপত্তা
§  মানব সম্পদ উন্নয়ন
§  পানি সম্পদ
§  জাতীয় শিক্ষানীতি
§  SAARC
§  প্রাকৃতিক দুর্যোগ/ দুর্যোগ ব্যাবস্থাপনা
§  বাংলাদেশের অবস্থান, সীমানা, ভূ-প্রকৃতি

@বাংলাদেশ বিষয়াবলীঃ ২য় পত্র
১। সংবিধানঃ

নিঃসন্দেহে
বলা যায় সংবিধান প্রথম অবস্থায় অন্য ১০টা বিষয়ের মতো ‘জলবৎ-তরলং’ কোন বিষয় নয়। আর
তা নয় বলেই, প্রস্তুতির
ক্ষেত্রে ‘সংবিধানের গুরুত্ব বিচারে’ এটা বিশেষ মনোযোগ এবং পরিশ্রমের দাবী রাখে।
অনেকেই বলেন সংবিধান পড়তে ভালো লাগেনা, কঠিন লাগে ইত্যাদি। তাদেরকে বলবো , এইসব পড়ালেখা কারোই বিশেষ
ভালো লাগেনা, কিন্তু
কিছু করারও তো নেই, না!
বিশেষ কোন লক্ষ্য অর্জন করতে হলে এই চরম প্রতিযোগিতার বাজারে চরম পরিশ্রমের কোন
বিকল্প নেই, সেখানে
নেই কোন ইচ্ছার মূল্য। এত ভণিতা করছি শুধু ১টা সহজ সত্য প্রতিষ্ঠিত/বয়ান করার
জন্য। আর তা হলো, পরীক্ষায়
সংবিধানের সকল প্রশ্নের উত্তর করা জরুরী এবং তার জন্য শর্টকাট কোন উপায়ও (অন্তত)
আমার জানা নাই।


নিচের
৩টা টপিক থেকে সাধারনত ১টা বড় প্রশ্ন বিভিন্ন সময় লিখিত পরীক্ষায় এসেছে।
§  রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি সমূহ
§  মৌলিক অধিকার
§  সংশোধনী সমূহ (১৫তম সংশোধনীসহ)


বাকী
প্রশ্নগুলোর জন্য তেমন কোন ধারাবাহিকতা অনুসৃত হয়নি। যেমন-
§  নির্বাচন কমিশন গঠন ও উহার কার্যাবলী (৩২তম)
§  জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হবার যোগ্যতা ও অযোগ্যতা এবং মন্ত্রিসভা গঠন প্রক্রিয়া (৩১তম)
§  জরুরি অবস্থা জারি সংক্রান্ত বিধান (৩০তম)
§  অর্থবিল এবং এর অনুমোদন প্রক্রিয়া (২৯তম)
§  সুপ্রিম কোর্টের প্রতিষ্ঠা, গঠন, কার্যপ্রণালী ও এখতিয়ার (২৯তম)


এরকম
আরও কিছু নতুন নতুন প্রশ্ন প্রত্যেকবারই করা হয় যেগুলো আগে কখনোই আসেনি। তাই
এক্ষেত্রে ধারনা করা সম্ভব নয় কোন কোন অনুচ্ছেদ গুরুত্বপূর্ণ বা পরীক্ষায় আসার
মতো। যেটা দরকার তা হলো সংবিধানের উপর সার্বিক প্রস্তুতি। সংবিধানের সূচীপত্র
ো সংবিধান কয়েকবার ভালমতো রিডিং দিয়ে প্রশ্নের উত্তর নিজের ভাষায় লিখুন। সূচ
প্রথমেই মুখস্থ/আত্মস্থ/নিজস্ব কোন পদ্ধতি অবলম্বন করে আয়ত্ত করে নিন এবং পু
রোপত্র আপনার
াকলে লাভ হবে ৩টা। প্রথমত, যেকোন টীকার উত্তর দেয়া সম্ভব হবে।
নিয়ন্ত্রণে
থা
্বিতীয়ত,‌ যেকোন

দ্বি
ড় প্রশ্নের উত্তর দেয়া সম্ভব হবে। তৃতীয়ত, সংবিধান ব্যতীত অন্য কোন প্রশ্নেও

ংবিধানের প্রাসঙ্গিক অনুচ্ছেদ দিয়ে দেয়া সম্ভব হবে। এর চেয়ে সহজ কোন পন্থা আমার

সংজানা নাই। আমি নিজে এভাবেই সংবিধানের প্রস্তুতি নিয়েছি এবং সেই অভিজ্ঞতাই আপনাদের
, পরীক্ষায় সংবিধান থেকে যে
সাথে শেয়ার করলাম। সবার আগে নিজের মাইন্ড সেট করে নি
্রশ্নই করুক না কেন আপনি তার উত্তর করবেন। নিজের উপর বিশ্বাস রাখুন, দেখবেন একসময় সংবিধান

প্র
জলবৎ-তরলং’ মনে না হলেও খুব একটা কঠিন লাগবেনা।


২। বড় প্রশ্নের জন্য আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ টপিকঃ
§  বাংলাদেশের সমুদ্র বিজয়
§  স্থানীয় শাসন/ স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা
§  বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি
§  MDG’s এবং বাংলাদেশের অর্জন
§  জাতিসঙ্ঘ ও বাংলাদেশ
§  বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের সর্বশেষ অবস্থা, বাংলাদেশ-মার্কিন সম্পর্ক, বাংলাদেশ-মায়ানমার সম্পর্কের বিভিন্ন দিক (রোহিঙ্গা ইস্যু সহ)
§  বাংলাদেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা
§  বাংলাদেশে সিভিল সোসাইটির ভূমিকা
§  বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, এডিবির ভূমিকা
§  বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়ন
§  বাংলাদেশে NGO’s সমুহের ভূমিকা
§  PPP (Public Private Partnership), PRSP (Poverty Reduction Strategy Paper), পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা, বাজেট ২০১২-২০১৩, আদমশুমারী ২০১১
§  পদ্মা সেতুর ভবিষ্যৎ, শেয়ার বাজার পরিস্থিতি, পরবর্তী নির্বাচন কোন পদ্ধতিতে হওয়া উচিত?


যদিও
এখানে অনেকগুলো টপিক বাংলাদেশ বিষয়াবলী ১ম ও ২য় পত্রে আলাদা আলাদা ভাবে দেখানো
হয়েছে তথাপি এগুলো যেকোন পত্রেই আসতে পারে। আর একটা কথা, ৩১ তম’তে বাংলাদেশ বিষয়াবলী
২য় পত্রে এবং ৩২ তম’তে বাংলাদেশ বিষয়াবলী ১ম পত্রে মানবণ্টন ও প্রশ্নের সংখ্যাই
ব্যাপক পরিবর্তন পরিলক্ষিত হওয়ায় এই ধরনের প্রশ্নপত্রে উত্তর করার জন্য প্রস্তুতির
পরিধি তথা টপিকের সংখ্যা বৃদ্ধির বিকল্প নেই।

@আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী

বিগত
বছরের প্রশ্ন থেকে দেখা যায়, এই
অংশে “বাংলাদেশ সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী”র উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কিছু
প্রশ্ন করা হয়। যেমন- বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক, বাংলাদেশ-মায়ানমার সম্পর্ক, জাতিসঙ্ঘের শান্তি মিশনে
বাংলাদেশের ভূমিকা বা এরকম আরও কিছু প্রশ্ন আসতে দেখা যায়। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ
বিষয়াবলী ১ম ও ২য় পত্রের টপিক গুলো থেকেই আন্তর্জাতিক অংশে কিছু প্রশ্ন আসতে পারে।
আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ টপিকঃ
§  জাতিসঙ্ঘ
§  আরব বসন্ত ও আরব বিশ্বের বর্তমান পরিস্থিতি
§  জলবায়ু পরিবর্তন/ বিশ্ব উষ্ণায়ন/ গ্রীন হাউস এফেক্ট/ জলবায়ু সম্মেলন সমূহ
§  বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা, Euro Zone Crisis
§  Globalization
§  SAARC এর ভূমিকা
§  NAM, Commonwealth, OIC
§  MDG’s


লক্ষণীয়
যে, জাতিসঙ্ঘ,
MDG’s, SAARC এর
ভূমিকা, জলবায়ু
পরিবর্তন/ বিশ্ব উষ্ণায়ন প্রভৃতি বিষয়গুলো বাংলাদেশ বিষয়াবলী ১ম ও ২য় পত্র এবং
আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী সকল পরীক্ষাতেই সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।


উপর্যুক্ত
৩টা পত্রের টপিকগুলো পড়া থাকলে বাংলা বা ইংরেজি রচনার জন্য আলাদা প্রস্তুতির দরকার
হয়না শুধুমাত্র সাহিত্যমান বজায় রেখে লিখতে পারলেই হলো।


যেকোন
ধরনের সমালোচনা, জিজ্ঞাসা, পরামর্শ সাদরে গৃহীত হবে।
সবার জন্য শুভকামনা রইলো।

সামিউল আমিন

বিসিএস
(প্রশাসন)

মেধাস্থানঃ
৭ম

৩১ তম
বিসিএস

Monday, October 15, 2012

‘আরব বসন্ত’ কি ‘আরব শৈত্যে’ মোড় নিচ্ছে?


‘আরব বসন্ত’ কি ‘আরব শৈত্যে’ মোড় নিচ্ছে?

লেখক: রায়হান মাহতাব  |  সোমবার, ১৫ অক্টোবর ২০১২, ৩০ আশ্বিন ১৪১৯
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে এক ভাষণে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন বলেন, ‘আরব বসন্ত আরব শৈত্যে বদলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।’ আরব বসন্তের পরিণতি ভুল পথে যাওয়ারও আশঙ্কা করছেন তিনি। সিরিয়ায় চলমান সহিংসতা, যুক্তরাষ্ট্রে নির্মিত ইসলাম-বিরোধী চলচ্চিত্র ‘ইনোসেন্স অব মুসলিমস’ নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে সহিংস বিক্ষোভ, ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর উত্থান, বাক-স্বাধীনতা ও গণদাবি দমনের প্রবণতা দেখে তিনি এই মূল্যায়ন করেছেন। গত এক-দেড় বছরে গণ-আন্দোলনের কারণে যেসব আরব দেশের সরকার পতন হয়েছে, সাম্প্রতিক কয়েকটি সমীক্ষা ও গবেষণাতে সেগুলোর গণতন্ত্রে উত্তরণের সম্ভাবনা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে। কিন্তু আরব বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ মনে করছেন—আরব বসন্তের হাওয়া এখনো বইছে।
তিউনিসিয়ার প্রেসিডেন্ট মোনসেফ মারজৌকি আরব বসন্তের ব্যাপারে এখনো আশাবাদী। নিউ ইয়র্ক টাইমস পত্রিকায় সম্প্রতি তিনি এ ব্যাপারে এক উপসম্পাদকীয় লিখেছেন। আরব বসন্তের মাধ্যমেই তিউনিসিয়ার শাসনক্ষমতায় আসতে পেরেছেন তিনি। মারজৌকি আরব বসন্তের ব্যাপারে পশ্চিমা দেশগুলোর বর্তমান অনুভূতি সম্পর্কেও ধারণা দেয়ার চেষ্টা করেছেন। তার লেখার সারসংক্ষেপ এখানে তুলে ধরা হলো—
যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোর ধারণা—২০১০ সালের শেষ দিকে আরব দেশগুলোতে যে গণজাগরণ তৈরি হয়েছিল, ‘ইনোসেন্স অব মুসলিম’ কেন্দ্র করে সহিংস বিক্ষোভ তার সফলতাকে ম্লান করে দিয়েছে। গণজাগরণের জোয়ারে এবার ভাটা পড়েছে এবং গণতন্ত্রে উত্তরণের প্রক্রিয়া ব্যর্থ হয়েছে। তিউনিসিয়া ও মিসরে স্বৈরশাসকদের পতনের পরও জনগণের অসন্তোষ ও বিক্ষোভ আরব বসন্তের ব্যর্থতাকে তাদের চোখে স্পষ্ট করে তুলেছে। লিবিয়ার বেনগাজিতে যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেট ভবনে হামলা এবং বিক্ষোভকারীদের মুখে পশ্চিমা-বিরোধী স্লোগান দেখে সন্দেহবাদীরা ধারণা করছেন—ইসলাম ও পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যে এক ধরনের ‘সভ্যতার দ্বন্দ্ব’ কাজ করছে।
মারজৌকি বলেন, ‘পশ্চিমা-বিরোধী বা পশ্চিমপন্থী—আরব বসন্ত এর কোনটিই নয়। পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে এর কোনো সংযোগ নেই। ধর্মীয় বিশ্বাস বা শরিয়া আইনের সঙ্গেও এর যোগসূত্র নেই। আরব বসন্তের পুরোটাই সৃষ্টি হয়েছে সামাজিক ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্রের দাবিকে কেন্দ্র করে। তিউনিসিয়া ও মিসরসহ বেশ কয়েকটি দেশে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা চালু হওয়ার ফাঁকে কিছু চরমপন্থী গোষ্ঠী রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েছে। কিন্তু ইসলাম বা গণতন্ত্রের সঙ্গে এদের কোনো সম্পর্ক নেই। ইসলামপন্থী রাজনীতিবিদরাও অন্যদের মতোই। তারা ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের অনুসারীদের চেয়ে বেশি বিশুদ্ধ, বেশি সংগঠিত বা বেশি উদার মানসিকতার নয়। আবার রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় সক্রিয় হতে গিয়ে ইসলামপন্থীদের মধ্যেও বিভেদ তৈরি হয়েছে। সহিংসতা ও শরিয়া আইনের সমর্থক কট্টরপন্থীদের প্রতি জনসমর্থন নেই। তারা আরব বা মুসলিমদেরও প্রতিনিধিত্ব করে না। তাদের তত্পরতাও রাজনীতিতে অংশ গ্রহণের উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয় না, শুধুই সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করে।
বাস্তবে এখনো বড় ধরনের হুমকি তৈরি না করার পরও সংবাদ মাধ্যমগুলো চরমপন্থীদের গুরুত্ব ও শক্তিকে অতিমূল্যায়িত করেছে। ইসলাম ও মহানবী মুহাম্মদ (সা.)-কে ব্যঙ্গ করে নির্মিত ইনোসেন্স অব মুসলিম-কে ঘিরে সাম্প্রতিক বিক্ষোভে এমন উদাহরণ দেখা গেছে। নিউজউইক সাময়িকীর প্রচ্ছদ-পৃষ্ঠা এর একটি নমুনা। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সহিংসতা-বিরোধী বিক্ষোভও হয়েছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলো সে দিকে খুব একটা নজর দেয়নি। শ্বেতাঙ্গবাদী বা নরওয়ের গণহত্যাকারীকে যেমন যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপের জনগণের প্রতীক গণ্য করা যায় না, তেমনি কনস্যুলেট ভবন বা মার্কিন দূতাবাসে হামলাকারীদেরও আরব জনগণের প্রতিচ্ছবি হিসেবে ধরে নেয়া যায় না। বরং মুসলিমদের ক্ষোভকে উসকে দেওয়ার দৃষ্টান্ত রয়েছে। ইনোসেন্স অব মুসলিম নিয়ে বিক্ষোভ চলাকালেই ফ্রান্সের একটি পত্রিকায় মুহাম্মদ (সা.)-এর ব্যঙ্গ-চিত্র ছাপানো হয়েছে।
দীর্ঘ দিনের একনায়কতন্ত্রের পতনের পর আরব দেশগুলোতে নতুন গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, নতুন কাজের সুযোগ সৃষ্টি, সামাজিক উন্নয়নই মূল চিন্তার বিষয়। বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে এই কাজগুলো আরব বিশ্বের জন্য আরো কঠিন হয়ে উঠেছে। এমন সময়ে পশ্চিমা বিশ্বের কাছে অবহেলা বা অবজ্ঞার পাত্র হতে চাচ্ছে না আরব দেশগুলো। বরং গণতান্ত্রিক শাসন শক্তিশালি করতে, চরমপন্থীদের কাছে অবৈধ অস্ত্রের জোগান ঠেকাতে এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে তাদের সহযোগিতা চাচ্ছে।

Thursday, September 27, 2012

The Daily Ittefaq | রোহিঙ্গা নিয়ে যত মত | News


রোহিঙ্গা নিয়ে যত মত

বৃহস্পতিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১২, ১২ আশ্বিন ১৪১৯
রোহিঙ্গাএমন একটি ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী, যারা নিজদেশেও পরবাসী! পরবাসেও আশ্রয়দাতার গলার কাঁটাশরণার্থী হয়ে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন অংশে তারা আশ্রয় খুঁজছে বেশ কয়েক দশক ধরে। সাম্প্রতিক সহিংসতায় রোহিঙ্গারা দিশেহারা হয়ে জন্মভূমি মিয়ানমার ছেড়ে আশ্রয় খুঁজতে জড়ো হচ্ছে প্রতিবেশী দেশগুলোর সীমান্তে
মায়ানমারের আরাকান রাজ্যের মুসলিম সংস্কৃতি ইতিহাস ঐতিহ্যের ধারক-বাহক হিসেবে রোহিঙ্গাদের ভূমিকা ছিল প্রধান। রোহিঙ্গাদের উদ্ভব বিকাশ আলোচনায় বহুমুখী বিতর্ক মতামত রয়েছে। অনেকে মনে করেন—‘রহম শব্দ থেকেই রোহিঙ্গা নামের উত্পত্তি। অর্থাত্ অষ্টম শতাব্দীতে আরাকানে চন্দ্রবংশীয় রাজাদের শাসনামলে বৈশালী ছিল তাদের রাজধানী। সে সময় চন্দ্রবংশীয় রাজা মহত্-ইঙ্গ-চন্দ্রের রাজত্বকালে (৭৮৮৮১০ খ্রি.) কয়েকটি আরব মুসলিম বাণিজ্য তরী রামব্রী দ্বীপের পাশে বিধ্বস্ত হলে জাহাজের আরোহীরা রহম, রহম’  (দয়া করো, দয়া করো) বলে চিত্কার করেন। সময় স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে আরাকানের রাজার কাছে নিয়ে যান। আরাকানরাজ তাদের বুদ্ধিমত্তা উন্নত আচরণে মুগ্ধ হয়ে আরাকানে স্থায়ীভাবে বসতি স্থাপনের অনুমতি দেন। আরবি ভাষায় অনভিজ্ঞ স্থানীয় লোকজন তাদের রহম গোত্রের লোক মনে করে রহম বলেই ডাকত। ক্রমশ শব্দটি বিকৃত হয়ে রহম>রোঁয়াই>রোয়াই>রোয়াইঙ্গা বা রোহিঙ্গা হয়ে যায়। কোনো কোনো ঐতিহাসিকের মতেরোহিঙ্গারা আফগানিস্তানের অন্তর্গত ঘোর প্রদেশের রোহা জেলার অধিবাসীদের বংশধর। মূলত তারা তুির্ক কিংবা আফগানি। কারণ, ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বখতিয়ার খিলজিসহ বাংলার মুসলমান বিজেতা শাসকরা ইসলাম প্রচার প্রসারে আফগানিস্তানের রোহার অঞ্চলের কিছু ব্যক্তিকে আরাকানে পাঠিয়েছিলেন। রোহার অঞ্চলের ওই মুসলমানরা আরাকানের নামকরণ করেছিলেন রোহাং। এই রোহা রোহাং শব্দ থেকেই রোহিঙ্গা নামকরণ হয়েছে
অন্য মতে—‘রাখাইং শব্দ থেকে রোহিঙ্গা উত্পত্তি হয়েছে। এই মতে রাখাইং শব্দ থেকে রোয়াং হয়েছে এবং রোয়াং শব্দটি বিকৃত হয়ে রোয়াইঙ্গা হয়েছে
কেউ কেউ মনে করেন—‘রোয়াং তিব্বতি বর্মি শব্দ। অর্থ আরাকান। এই মতে রোয়াং শব্দের অপভ্রংশ রোহিঙ্গা কেউ আবার মনে করেন—‘রোহিঙ্গা হলো রেঙ্গুন শব্দের অপভ্রংশ। সেই মতে রেঙ্গুনে বসবাসকারী অবার্মিজ সম্প্র্রদায় রোহিঙ্গা নামে পরিচিতি পায়
মিয়ানমার অবশ্য রোহিঙ্গা নামে কোনো জনগোষ্ঠীকে স্বীকার করে না। এর কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয় ১৯৮২ সালের একটি আইনের সীমাবদ্ধতা। আইনটিতে বলা হয়েছেপ্রথম ব্রিটিশ-বার্মিজ যুদ্ধের আগে যেসব গোষ্ঠী মিয়ানমারে বসবাস করেছে, তারাই শুধু নাগরিকত্বের উপযুক্ত হিসেবে বিবেচিত হবে। ১৮২৪ থেকে ১৮২৬ সাল পর্যন্ত এই যুদ্ধ হয়। সে কারণে মিয়ানমারের কাছে রোহিঙ্গা নামে কোনো জাতি নেই। তাদের মতেরোহিঙ্গারা মুসলিম সম্প্রদায়ের বহিরাগত অংশ। এরা বাংলাদেশের মানুষবিভিন্ন সময় কাজের সন্ধানে মিয়ানমারে প্রবেশ করে বসতি স্থাপন করেছিল মাত্র
রোহিঙ্গা শরণার্থী নাসিরুদ্দিন বলেন, আমরা মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী আরাকানের বাসিন্দা? কিন্তু মিয়ানমার সরকার আমাদের নাগরিকত্ব দেয়নি? Avgiv ভারতীয় বংশোদ্ভূত?উনবিংশ শতাব্দীতে ইংরেজরা বেগার শ্রমিক হিসেবে আমাদের পূর্বপুরুষদের আরাকানে পাঠায়? নানাভাবে নির্যাতিত হয়ে আমরা দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হচ্ছি|