Showing posts with label ৩৩তম বিসিএস লিখিত টিউটোরিয়াল. Show all posts
Showing posts with label ৩৩তম বিসিএস লিখিত টিউটোরিয়াল. Show all posts

Tuesday, June 10, 2014

বিসিএস লিখিতঃ শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি


এই


লেখাটিতে প্রধানত বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলীর বড় প্রশ্নগুলোর জন্য
অতি গুরুত্বপূর্ণ কিছু ‘বেসিক
টপিক’ শেয়ার করা হয়েছে। যারা ইতোমধ্যে নিজেকে পরীক্ষার জন্য ভালোমতোই প্রস্তুত করে
ফেলেছেন তারা নিচের টপিকগুলো পড়া হয়েছে কিনা শুধুমাত্র মিলিয়ে দেখতে পারেন, লেখাটাকে তেমন গুরুত্ব দেয়ার
দরকার নেই। আর যারা এখনো মহাসমুদ্রে হাবুডুবু খাচ্ছেন, তারা হাবুডুবু খাওয়ার ফাঁকে
ফাঁকে নিচের টপিকগুলো যত্নের সাথে পড়ে ফেলুন। কেননা এই বেসিক টপিকগুলো না পড়ে
পরীক্ষার হলে উপস্থিত হওয়া মোটেই বুদ্ধিমানের মতো কাজ হবেনা।

@বাংলাদেশ বিষয়াবলীঃ ১ম পত্র

১। বাংলাদেশের অভ্যুদয়ঃ ১৯৪৭-১৯৭১ পর্যন্ত সমস্ত
ঘটনা প্রবাহ। মুক্তিযুদ্ধের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক কারন। অর্থাৎ
মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, ভাষা আন্দলোনের ভূমিকা প্রভৃতি।


২।
বাংলাদেশের অর্থনীতিঃ তৈরী পোশাক, জনশক্তি রপ্তানি, বৈদেশিক বিনিয়োগ (FDI=
Foreign Direct Investment), কৃষি, শিল্পায়ন
প্রভৃতি সেক্টরের বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা/ গুরুত্ব, এই সেক্টরগুলোর সমস্যা, সম্ভাবনা, সমস্যার প্রতিকার।


৩।
বাংলাদেশের বিদ্যমান সমস্যা সমূহঃ জনসংখ্যা সমস্যা, জ্বালানী/ বিদ্যুৎ সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন/ বৈশ্বিক
উষ্ণায়নের প্রভাব, দুর্নীতি, সড়ক দুর্ঘটনা এরকম বর্তমানে
বাংলাদেশে বিদ্যমান সমস্যা সমূহ।


৪।
সংবিধান থেকে ১টা বড় প্রশ্ন


**বিগত বছরের প্রশ্নের আলোকে দেখা যায় উপরের ৪টা ক্যাটাগরি
থেকে সাধারনত বাংলাদেশ বিষয়াবলী ১ম পত্র পরীক্ষায় ৪টা
বড়
প্রশ্ন
করা হয়।**

এছাড়া
আরও কিছু বিষয় থেকে বিভিন্ন সময় প্রশ্ন আসতে দেখা যায়। যেমন-
§  খাদ্য নিরাপত্তা
§  মানব সম্পদ উন্নয়ন
§  পানি সম্পদ
§  জাতীয় শিক্ষানীতি
§  SAARC
§  প্রাকৃতিক দুর্যোগ/ দুর্যোগ ব্যাবস্থাপনা
§  বাংলাদেশের অবস্থান, সীমানা, ভূ-প্রকৃতি

@বাংলাদেশ বিষয়াবলীঃ ২য় পত্র
১। সংবিধানঃ

নিঃসন্দেহে
বলা যায় সংবিধান প্রথম অবস্থায় অন্য ১০টা বিষয়ের মতো ‘জলবৎ-তরলং’ কোন বিষয় নয়। আর
তা নয় বলেই, প্রস্তুতির
ক্ষেত্রে ‘সংবিধানের গুরুত্ব বিচারে’ এটা বিশেষ মনোযোগ এবং পরিশ্রমের দাবী রাখে।
অনেকেই বলেন সংবিধান পড়তে ভালো লাগেনা, কঠিন লাগে ইত্যাদি। তাদেরকে বলবো , এইসব পড়ালেখা কারোই বিশেষ
ভালো লাগেনা, কিন্তু
কিছু করারও তো নেই, না!
বিশেষ কোন লক্ষ্য অর্জন করতে হলে এই চরম প্রতিযোগিতার বাজারে চরম পরিশ্রমের কোন
বিকল্প নেই, সেখানে
নেই কোন ইচ্ছার মূল্য। এত ভণিতা করছি শুধু ১টা সহজ সত্য প্রতিষ্ঠিত/বয়ান করার
জন্য। আর তা হলো, পরীক্ষায়
সংবিধানের সকল প্রশ্নের উত্তর করা জরুরী এবং তার জন্য শর্টকাট কোন উপায়ও (অন্তত)
আমার জানা নাই।


নিচের
৩টা টপিক থেকে সাধারনত ১টা বড় প্রশ্ন বিভিন্ন সময় লিখিত পরীক্ষায় এসেছে।
§  রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি সমূহ
§  মৌলিক অধিকার
§  সংশোধনী সমূহ (১৫তম সংশোধনীসহ)


বাকী
প্রশ্নগুলোর জন্য তেমন কোন ধারাবাহিকতা অনুসৃত হয়নি। যেমন-
§  নির্বাচন কমিশন গঠন ও উহার কার্যাবলী (৩২তম)
§  জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হবার যোগ্যতা ও অযোগ্যতা এবং মন্ত্রিসভা গঠন প্রক্রিয়া (৩১তম)
§  জরুরি অবস্থা জারি সংক্রান্ত বিধান (৩০তম)
§  অর্থবিল এবং এর অনুমোদন প্রক্রিয়া (২৯তম)
§  সুপ্রিম কোর্টের প্রতিষ্ঠা, গঠন, কার্যপ্রণালী ও এখতিয়ার (২৯তম)


এরকম
আরও কিছু নতুন নতুন প্রশ্ন প্রত্যেকবারই করা হয় যেগুলো আগে কখনোই আসেনি। তাই
এক্ষেত্রে ধারনা করা সম্ভব নয় কোন কোন অনুচ্ছেদ গুরুত্বপূর্ণ বা পরীক্ষায় আসার
মতো। যেটা দরকার তা হলো সংবিধানের উপর সার্বিক প্রস্তুতি। সংবিধানের সূচীপত্র
ো সংবিধান কয়েকবার ভালমতো রিডিং দিয়ে প্রশ্নের উত্তর নিজের ভাষায় লিখুন। সূচ
প্রথমেই মুখস্থ/আত্মস্থ/নিজস্ব কোন পদ্ধতি অবলম্বন করে আয়ত্ত করে নিন এবং পু
রোপত্র আপনার
াকলে লাভ হবে ৩টা। প্রথমত, যেকোন টীকার উত্তর দেয়া সম্ভব হবে।
নিয়ন্ত্রণে
থা
্বিতীয়ত,‌ যেকোন

দ্বি
ড় প্রশ্নের উত্তর দেয়া সম্ভব হবে। তৃতীয়ত, সংবিধান ব্যতীত অন্য কোন প্রশ্নেও

ব
ংবিধানের প্রাসঙ্গিক অনুচ্ছেদ দিয়ে দেয়া সম্ভব হবে। এর চেয়ে সহজ কোন পন্থা আমার

সংজানা নাই। আমি নিজে এভাবেই সংবিধানের প্রস্তুতি নিয়েছি এবং সেই অভিজ্ঞতাই আপনাদের
, পরীক্ষায় সংবিধান থেকে যে
সাথে শেয়ার করলাম। সবার আগে নিজের মাইন্ড সেট করে নি
ন
্রশ্নই করুক না কেন আপনি তার উত্তর করবেন। নিজের উপর বিশ্বাস রাখুন, দেখবেন একসময় সংবিধান

প্র
জলবৎ-তরলং’ মনে না হলেও খুব একটা কঠিন লাগবেনা।

‘

২। বড় প্রশ্নের জন্য আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ টপিকঃ
§  বাংলাদেশের সমুদ্র বিজয়
§  স্থানীয় শাসন/ স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা
§  বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি
§  MDG’s এবং বাংলাদেশের অর্জন
§  জাতিসঙ্ঘ ও বাংলাদেশ
§  বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের সর্বশেষ অবস্থা, বাংলাদেশ-মার্কিন সম্পর্ক, বাংলাদেশ-মায়ানমার সম্পর্কের বিভিন্ন দিক (রোহিঙ্গা ইস্যু সহ)
§  বাংলাদেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা
§  বাংলাদেশে সিভিল সোসাইটির ভূমিকা
§  বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, এডিবির ভূমিকা
§  বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়ন
§  বাংলাদেশে NGO’s সমুহের ভূমিকা
§  PPP (Public Private Partnership), PRSP (Poverty Reduction Strategy Paper), পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা, বাজেট ২০১২-২০১৩, আদমশুমারী ২০১১
§  পদ্মা সেতুর ভবিষ্যৎ, শেয়ার বাজার পরিস্থিতি, পরবর্তী নির্বাচন কোন পদ্ধতিতে হওয়া উচিত?


যদিও
এখানে অনেকগুলো টপিক বাংলাদেশ বিষয়াবলী ১ম ও ২য় পত্রে আলাদা আলাদা ভাবে দেখানো
হয়েছে তথাপি এগুলো যেকোন পত্রেই আসতে পারে। আর একটা কথা, ৩১ তম’তে বাংলাদেশ বিষয়াবলী
২য় পত্রে এবং ৩২ তম’তে বাংলাদেশ বিষয়াবলী ১ম পত্রে মানবণ্টন ও প্রশ্নের সংখ্যাই
ব্যাপক পরিবর্তন পরিলক্ষিত হওয়ায় এই ধরনের প্রশ্নপত্রে উত্তর করার জন্য প্রস্তুতির
পরিধি তথা টপিকের সংখ্যা বৃদ্ধির বিকল্প নেই।

@আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী

বিগত
বছরের প্রশ্ন থেকে দেখা যায়, এই
অংশে “বাংলাদেশ সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী”র উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কিছু
প্রশ্ন করা হয়। যেমন- বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক, বাংলাদেশ-মায়ানমার সম্পর্ক, জাতিসঙ্ঘের শান্তি মিশনে
বাংলাদেশের ভূমিকা বা এরকম আরও কিছু প্রশ্ন আসতে দেখা যায়। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ
বিষয়াবলী ১ম ও ২য় পত্রের টপিক গুলো থেকেই আন্তর্জাতিক অংশে কিছু প্রশ্ন আসতে পারে।
আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ টপিকঃ
§  জাতিসঙ্ঘ
§  আরব বসন্ত ও আরব বিশ্বের বর্তমান পরিস্থিতি
§  জলবায়ু পরিবর্তন/ বিশ্ব উষ্ণায়ন/ গ্রীন হাউস এফেক্ট/ জলবায়ু সম্মেলন সমূহ
§  বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা, Euro Zone Crisis
§  Globalization
§  SAARC এর ভূমিকা
§  NAM, Commonwealth, OIC
§  MDG’s


লক্ষণীয়
যে, জাতিসঙ্ঘ,
MDG’s, SAARC এর
ভূমিকা, জলবায়ু
পরিবর্তন/ বিশ্ব উষ্ণায়ন প্রভৃতি বিষয়গুলো বাংলাদেশ বিষয়াবলী ১ম ও ২য় পত্র এবং
আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী সকল পরীক্ষাতেই সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।


উপর্যুক্ত
৩টা পত্রের টপিকগুলো পড়া থাকলে বাংলা বা ইংরেজি রচনার জন্য আলাদা প্রস্তুতির দরকার
হয়না শুধুমাত্র সাহিত্যমান বজায় রেখে লিখতে পারলেই হলো।


যেকোন
ধরনের সমালোচনা, জিজ্ঞাসা, পরামর্শ সাদরে গৃহীত হবে।
সবার জন্য শুভকামনা রইলো।

সামিউল আমিন

বিসিএস
(প্রশাসন)

মেধাস্থানঃ
৭ম

৩১ তম
বিসিএস

Monday, September 03, 2012

The Security Situation in Bangladesh


OVERVIEW
● The security situation in Bangladesh was relatively calm and stable. However, consequence of abortive coup attempt by few misled members of Army, intermittent political hostilities, frustrated investors resorting to vandalism, RMG workers locked in clash with police, sudden attack of Nipah virus, unremitting campus violence, few number of murders in the capital and elsewhere by unknown gunmen and criminals, armed mugging/robbery in several areas including the capital, abduction of people, recoveryoffewdead bodies, increased activities of militants and extremist while RAB and police hunting them all‐out, recovery of few number of weapons and ammunitions, quite a few petty crimes in the capital and decreased fatalities in RTA’s were observed.
HIGHLIGHTS
● Road Traffic Accidents (RTA): Reportedly, 62 people were killed while 354 were injured countrywide. This brings fatal RTAs to a total of 364 persons killed and 905 injured during the year 2012.
● Top Level Army Officers Reshuffled: On 26th January 12, Dhaka 9 Division GOC Major General Ashrraf Abdullah Yusuf was posted as AG to Army HQ. Bandarban Brigade Commander K.M Mominur Rahman was transferred as GOC of 9 Division with promotion as Major General. Earlier Adjutant General Abu Belal Md. Shafiul Haque has been transferred as GOC Comilla. Former GOC of Comilla Major General Mohammad Kamruz Zaman was closed at Log Area for involvement with recent foiled up in Bangladesh Army. Brig General Tariqul Alam was also closed at Log Area for same incident.
● 4 Killed As Cops Fired On And Local BNP Unit Called Half-Day Hartal(Laxmipur And Chandpur): On 29th January 12, four persons died in Laxmipur and Chandpur towns when police fired on demonstrating BNP activists and supporters. To protest the killings, local BNP units called for half-day hartal in Chandpur and Laxmipur towns on 30th January 12 which was ended peacefully.
● Khaleda Zia Led Rally In Dhaka: On 30th January 12, BNP brought out a mass procession led by its Chairperson Khaleda Zia to mount pressure on the government for a restoration of the caretaker government system. The route was confined between Nayapaltan and Moghbazar intersection.
● Dhaka City AL Kicked Off Rally & Jubo League Formed Human Chain In Mothijheel: On 30th January 12, the Dhaka metropolitan Awami League's rally demanding punishment to war criminals and those trying to foil the trials kicked off in front of the party's Bangabandhu Avenue office. Leaders and activists of Awami Jubo League, an associated body of the ruling party, formed a human chain at Mothijheel area protesting what it said was the opposition's recent plot to topple the elected government.
● Jamaat Man Killed In Clash With Cops & BNP-Led Alliance Called Half-Day Hartal In Rajshahi: On 30th January 12, a Jamaat-e-Islami activist was killed and around 80 others, including 19 cops, were injured in clashes between law enforcers and Jamaat-Shibir men in the city's Hatim Khan area of Rajshahi District. Thus BNP-led four-party alliance called a half-day hartal in Rajshahi city on 31stJanuary 12 to protest the killing.
● BNP Held Protest Rally: On 31st January 12, BNP observed Countrywide Protest Day in Dhaka, all District and Upazilla’s to protest against alleged repression and killing of opposition activists by law enforcers and ruling party alliance.
EXTREMIST/TERRORIST ACTVITIES:
● ‘Criminal' Killed By Rivals: On 26th January 12, an alleged criminal was found dead in a marshland at Narayankandi village along Chuadanga-Jhenidah border area.
● Kushtia Jubo Dal Leader Murdered: On 26th January 12, a Jubo Dal ( student wing of BNP) leader was killed by three alleged drug peddlers following a feud over illegal drug trade in Housing Estate area of Kushtia District.

Thursday, August 30, 2012

আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী সাজেশন

১।
বিশ্বায়ন বলতে কি বুঝ? বিশ্বায়নের প্রভাব আলোচনা করুন। বিশ্বায়ন প্রক্রিয়া কি সফল হয়েছ? না হলে বাধাগুলো কোথায়? দোহা রাউন্ডের ভিত্তিতে আলোচনা করুন।
২।
ফিলিস্তিনি সমস্যা সমাধানের এ পর্যন্ত যত উদ্যোগ গ্রহন হয়েছে তা আলোচনা করুন। ফিলিস্তিনি আদৌ কি স্বাধীন হবে? যদি স্বাধীন না হয় তাহলে বাধাগুলো কোঠায়?
৩।
আরব বসন্ত বলতে কি বুঝেন? এই বসন্তের মুল কারণগুলো কি কি? এই বসন্তের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হবার কথা ছিল কিন্তু তা যদি না হয় তবে বাধাগুলো কি কি?
৪।
সমুদ্র সীমানা বলতে কি বোঝেন? মায়ানমারের সাথে মামলার রায় উল্লেখ করে ভারতের সাথে সমুদ্র সীমানা আলোচনা করুন।
৫।
জাতিসংঘের সফলতা ও ব্যর্থতা আলোচনা করে সংস্কার পদ্ধতি আলোচনা করুন।
৬।
SAARC/OIC/NAM/NATO/Commonwealth/ASEAN –এর সফলতা ও ব্যর্থতা আলোচনা করুন।
৭।
WB/IMF এর গঠন ও কাজ উল্লেখ করে ঋণ দান পদ্ধতি আলোচনা করুন।
৮।
WTO কি? ইহা তৃতীয় বিশ্বের স্বার্থ রক্ষা করতে পেরেছে নাকি পুঁজিবাদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে?
৯।
পররাষ্ট্র নীতি ও কূটনীতির মধ্যে কি সম্পর্ক? কূটনীতিবিদদের সুযোগ সুবিধা এবং দায়মুক্তি Viena Convention এর আলকে আলচন করুন।
১০।
অর্থনৈতিক কূটনীতি বলতে কি বোঝেন? Look East Policy বলতে কি বোঝেন? Envoy কি? Persona Non Grata কি? বঙ্গবন্ধুর পররাষ্ট্র নীতি উল্লেখ করে সাংবিধানিক ধারায় পররাষ্ট্রনীতির আলোচনা করুন।
পররাষ্ট্রনীতির নিয়ামকগুলো কি কি?
বাংলাদেশ-ভারত, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশ-মায়ানমার (রোহিঙ্গা সমস্যা) সম্পর্কের মূল্যায়ন করুন।
১১।
বারাক হোসেন ওবামার ইরাকনীতি,আফগাননীতি, মধ্যপ্রাচ্যনীতি, দক্ষিন-এশিয়া নীতি, স্বাস্থ্যনীতি আলোচনা কর।
১২।
যৌথ নিরাপত্তা (Collective Security) বলতে কি বোঝেন? Ballance of Power কি?
জাতীয় শক্তির উপাদানগুলো আলোচনা করুণ।
১৩।
জাতীয়তাবাদ কি? নব্য উপনিবেশবাদ কি? সম্রাজ্যবাদ কি? North-South Dialouge কি? Third World কি? মার্কিন নির্বাচন পদ্ধতি আলোচনা করুন।

Wednesday, August 29, 2012

The Daily Ittefaq | মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি, আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও আশঙ্কা | News


মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি, আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও আশঙ্কা

লেখক: আ. কাইউম  |  বুধবার, ২৯ অগাষ্টu-এ ২০১২, ১৪ ভাদ্র ১৪১৯
তাহলে বোয়াজিজিই কি সেই মহানায়ক, যিনি নিজের গায়ে আগুন দিয়ে জীবন উত্সর্গ করে উত্তর আফ্রিকার দেশ তিউনিসিয়ায় বেনআলীবিরোধী আন্দোলনকে বেগবান করে তার পতনের মধ্য দিয়ে পর্যায়ক্রমে মিসরের হোসনি মোবারককে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে এবং লিবিয়ার লৌহমানব মুয়াম্মার আল গাদ্দাফির চার দশকের শাসনের অবসানের পর ভূমধ্যসাগরের তীরবর্তী দেশগুলোকে গণতন্ত্রের ঠাণ্ডা হাওয়ায় শীতল করেছেন? নাকি মহাবীর তারাও যারা তিউনিসে আন্দোলনে অংশ নিয়েছিল, যারা ত্রিপলিতে ও বেনগাজীতে যুদ্ধ করতে করতে শহীদ হয়েছিল এবং যারা মিসরের তাহরীর স্কয়ারকে রক্তে রর্িঞ্জত করেছিল? এরা সবাই মহাবীর—কারণ স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র অর্জনে এদের সবারই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ অবদান রয়েছে। তবে বোয়াজিজি একটু বেশিই। কারণ ভূমধ্যসাগর উপকূলবর্তী দেশগুলো থেকে আরব বসন্তের হাওয়া সুয়েজখাল পাড়ি দিয়ে এখন মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সিরিয়ায় এসে থমকে আছে। থমকে থাকলেও এর সূচনা কিন্তু বোয়াজিজির হাতেই। যুদ্ধরত ও সমঝোতাহীন সিরিয়ার বর্তমান বিষয়টির সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক কূটনীতি জড়িত।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব এতই বেশি যে, এই অঞ্চলকে সবাই নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। বর্তমানে এ অঞ্চলের গুরুত্ব আরো বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। কারণ এ অঞ্চল তিন মহাদেশের মিলনস্থল, নৌ যোগাযোগব্যবস্থা, ধর্মীয় স্পর্শকাতরতা (মুসলমানদের মসজিদুল আকসা, খ্রিস্টানদের বেথেলহেম, ইহুদীদের সিনামোম) এবং আরো রয়েছে তেল সম্পদ। তাই আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে মিসর, ইসরাইল, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, ইরাক, ইরান ও সৌদিআরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের সব দেশের গুরুত্ব একটু বেশিই।
এই অঞ্চলে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে যে দৌড়ঝাঁপ ও কূটনীতি বেলফোর ঘোষণার (নভেম্বর ১৯১৭) পর থেকে শুরু হয়েছে, তা আজও বিরাজমান। যুদ্ধবিরোধী যুদ্ধে জয়ী হতে এবং বিশ্বব্যাপী শান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হবার পর থেকে ১৭২টি আঞ্চলিক সমস্যা সমাধানসহ ৮০টিরও বেশি অনিবার্য যুদ্ধ নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে এ-সংস্থাটি। অছি পরিষদের (Trustship Council) অধীনে অসংখ্য দেশ তাদের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার ফিরে পেয়েছে। রাজনৈতিক সমস্যাসংকুল বিভিন্ন দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার উত্তরণ ঘটাতে জাতিসংঘের ভূমিকা প্রশংসনীয়। যেমন কম্বোডিয়া, নামিবিয়া, এলসালভাদর, মুজাম্বিক, পূর্বতিমুর ইত্যাদি দেশে গণতন্ত্রসহ তাদের আত্মঅধিকার ফিরে পাবার ক্ষেত্রে জাতিসংঘের ভূমিকাই প্রধান। তাহলে ফিলিস্তিন সমস্যা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে, যা এক দীর্ঘ সমস্যা, তা কেন শান্তি প্রতিষ্ঠার নিয়তে প্রতিষ্ঠিত জাতিসংঘ সমাধান করতে পারছে না? তাহলে জাতিসংঘ কি এক মেরুকেন্দ্রিক কোনো হুকুমের তাঁবেদারি করছে? নাকি আজ জাতিসংঘ আন্তঃরাষ্ট্রীয় সংগঠনের পরিবর্তে পুতুল সংগঠনে পরিণত হয়েছে? বিশ্বমানচিত্রে আজ ফিলিস্তিন একটি সার্বভৌমত্বহীন রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। প্রথম আরব-ইসরাইল যুদ্ধে (১৫ মে ১৯৪৮) ৭৮% এবং তৃতীয় আরব-ইসরাইল যুদ্ধে বাকি ২২% ভূমি ইসরাইল দখল করলে পুরো ফিলিস্তিন একটি উদ্বাস্তু রাষ্ট্রে পরিণত হয়। ১৯৬৪ সালে পিএলও গঠনের পর ১৯৮৮ সালে তিউনিসিয়ায় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয় এবং ঘোষণা মোতাবেক ফিলিস্তিন স্বাধীনতার প্রহরও গুনছিল। কিন্তু ১৯৯০ সালে ইরাক কুয়েত দখল করলে দৃশ্যপট আস্তে আস্তে পালটে যায়। কারণ ইরাকের সঙ্গে ফিলিস্তিনের গাঁটছড়া যুক্তরাষ্ট্রকে অসন্তুষ্ট করেছিল। উল্লেখ্য যে, যুক্তরাষ্ট্র এমন আচরণ ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশের সঙ্গেও করেছিল। ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশে বন্যা হলে যুক্তরাষ্ট্র PL-480 (Public Law-480)-এর আওতায় গম সহায়তার ঘোষণা দেয়। কিন্তু বাংলাদেশ কিউবার সঙ্গে পাটের বাণিজ্যচুক্তি করায় গম সহায়তা বন্ধ করে দেয়া হয়। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক দিক থেকে এক বৃহত্ জাতীয় শক্তির অধিকারী যুক্তরাষ্ট্রের এমন আচরণ বা বল প্রয়োগ ক্ষুদ্র রাষ্ট্রের প্রতি প্রায়ই চোখে পড়ে। যাই হোক, এতকিছুর পরও (স্বায়ত্তশাসন চুক্তি ১৩ সেপ্টেম্বর ১৯৯৩, হেবরণ চুক্তি ১৫ জুন ১৯৯৭, ভূমির বিনিময়ে শান্তি চুক্তি/ওয়াইরিভার-১  ২৩ অক্টোবর ১৯৯৮, ওয়াইরিভার-২ ৪সেপ্টেম্বর ১৯৯৯) ২০১২ সালে এসেও ফিলিস্তিনিয় স্বাধীনতা অর্জিত হচ্ছে না, যা রোডম্যাপ অনুযায়ী ২০০৫ সালে হবার কথা ছিল।
মধ্যপ্রাচ্যের ফিলিস্তিন সমস্যার সঙ্গে সিরিয়াকে কেন্দ্র করে বর্তমানে সিরিয়ার পরিস্থিতি দ্বিমেরুকেন্দ্রিক অবস্থানে দাঁড়িয়েছে। একদিকে আমেরিকা ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU),  অন্যদিকে সিরিয়ার সঙ্গে রাশিয়া, চীন ও ইরান। উল্লেখ্য, ফেব্রুয়ারি ২০০৫-এ ইরান-সিরিয়া পারস্পরিক হুমকি মোকাবেলায় আত্মরক্ষামূলক একটি প্রতিরক্ষাচুক্তি স্বাক্ষর করে, যা ১৮৭০ সালে জার্মান জাতির জনক অটোভান বিসমার্কের নেতৃত্বে গড়া শক্তিজোটের মতো এক জোট, যা আমেরিকার প্রতি সরাসরি এক চ্যালেঞ্জের শামিল। অটোভান বিসমার্কের বিরুদ্ধে রাশিয়া, ফ্রান্স ও বৃটেনের (১৮৯৩) মতো পালটা শক্তিজোট করে আমেরিকার পরবর্তী পদক্ষেপ কি সিরিয়া ও ইরান? আর এ আগমনী বার্তাই কি কিছুদিন আগে মধ্যপ্রাচ্যে সফরে এসে দিয়ে গেলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারী রডহ্যাম ক্লিনটন?
যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) ও  আরবের কয়েকটি দেশ ‘ফ্রেন্ডস অব সিরিয়া’ জোটের প্রতি সমর্থন দিলেও সিরিয়ার সহিংসতার জন্য প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা পরিষদে আনা নিন্দা প্রস্তাবে ভেটো দেয় চীন ও রাশিয়া। পঞ্চ শক্তির বৃহত্ দুই শক্তি চীন ও রাশিয়া যদি সিরিয়া ও ইরানের সঙ্গে থাকে তাহলে আমেরিকা ও ইইউ (EU) সমর্থিত কোনো সামরিক বাহিনী (NATO) পদক্ষেপ নিতে পারবে না। আর যদি নেয়ই তাহলে এই আধুনিক বিশ্ব যার মুখোমুখি হতে পারে— সে জন্য জুলাই ২০১০-এ কিউবার বিপ্লবী নেতা ফিদেল কাস্ত্রোর একটি টেলিভিশন সাক্ষাত্কারের কিছুটা উদ্ধৃত করছি। তিনি বলেন, “ইরানের সঙ্গে পশ্চিমা বিশ্বের মুখোমুখি অবস্থান বিশ্বকে পরমাণু যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে। আর এজন্য দায়ী থাকবে যুক্তরাষ্ট্র।” তাই ইরানে পারমাণবিক কর্মসূচির নাম দিয়ে হোক, অথবা সিরিয়ার সহিংসতা বন্ধের নাম দিয়ে হোক বৃহত্ কোনো শক্তির বিরুদ্ধে আমেরিকার এমন কোনো পদক্ষেপ পৃথিবীকে ভয়াবহ কোনো পরিস্থিতির সামনে ফেলতে পারে। আর এমন পরিস্থিতি যদি ঘটেই তাহলে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানী/রাষ্ট্রবিজ্ঞানী স্যামুয়েল হান্টিংটনের আলোচিত থিসিস The clash of civilization-এর মূল কথাই প্রতিফলিত হবে যে, “ভবিষ্যত্ সংঘাতের চরিত্র হবে সভ্যতাভিত্তিক, রাষ্ট্রভিত্তিক নয় এবং স্নায়ুযুদ্ধ (cold war) পরবর্তী বিশ্বব্যবস্থায় এই সভ্যতা শক্তিশালী হবে ‘সাংস্কৃতিক যোগসূত্র’-এর ভিত্তিতে, যার মূল উপাদান হবে ধর্মকেন্দ্রিক, এর একদিকে থাকবে ইসলাম ও চীন, অন্যদিকে পাশ্চাত্যের পুঁজিবাদি গণতান্ত্রিক দেশগুলো।”
ঢাকা